ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১১:২২ ঢাকা, বুধবার  ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

পেট্রলবোমায় দগ্ধ ইডেন কলেজছাত্রী জ্যোতি ও সাথী

বাসে পেট্রলবোমায় যে ভাবে দগ্ধ হলেন ইডেন কলেজের দুই ছাত্রী

অবরোধের ১৩তম দিনে গতকাল রাজধানীতে সংসদ ভবন এলাকায় পেট্রলবোমায় দগ্ধ হয়েছেন ইডেন মহিলা কলেজের দুই ছাত্রী। এ সময় আরও দুই ছাত্রী গুরুতর আহত হন। ক্লাস শেষে কলেজ থেকে বাসযোগে বাসায় ফিরছিলেন চার বান্ধবী। পাশাপাশি বসে কথা বলছিলেন তারা। এমন মুহূর্তে হঠাৎ দুর্বৃত্তরা পেট্রলবোমা ছুড়ে দেয় বাসের ভেতর। কোনভাবে প্রাণ রক্ষা করে বাস থেকে নামতে পারলেও তাদের দুইজন দগ্ধ হয়েছেন। আহত হয়েছেন বাকি দুইজন। তাদের সামনেই দাউ দাউ করে জ্বলেছে বাসটি। রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে সংসদ ভবনের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে খেজুর বাগান সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় ওই এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ উপস্থিত ছিল। সংসদ অধিবেশন ঘিরে ওই এলাকায় নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন ইডেন মহিলা কলেজের ইসলামিক শিক্ষা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী শারমিন আক্তার জ্যোতি ও জয়নব আক্তার সাথী। বাস থেকে দ্রুত নামতে গিয়ে আহত হয়েছেন একই বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী হেলেন আফরিন মুক্তি ও মাইমুনা আক্তার। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শঙ্কর পাল বলেন, সাথীর শরীরের আট শতাংশ এবং জ্যোতির সাত শতাংশ পুড়ে গেছে। তারা দুজনেই দুই পায়ে দগ্ধ হয়েছেন। তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। শারমিন আক্তার জ্যোতি জানান, আজিমপুর থেকে বিকল্প পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো- ঘ-১১-২৬৬৬) বাসযোগে তারা বাসায় যাচ্ছিলেন। সংসদ ভবন এলাকায় মোটরসাইকেল থেকে জানালা দিয়ে এক ব্যক্তি কিছু একটা ছুড়ে মারেন বাসে। এটা দেখে তিনি এবং পাশে বসে থাকা জয়নব আক্তার সাথী লাফ দিয়ে উঠেন। এসময় পেট্রলবোমাটি তাদের পায়ের কাছে পড়লে তারা দগ্ধ হন। পাশের সিটে থাকা মুক্তি ও মাইমুনা বাস থেকে নামতে গিয়ে আহত হন। মুক্তি জানান, একজনকে বাসের জানালা দিয়ে কিছু ছুড়ে দিতে দেখে তিনি লাফিয়ে পড়েন। এতে তার বাম পা মচকে যায়। আশেপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। মুহূর্তেই খবরটি ছড়িয়ে পড়লে ইডেন কলেজের শিক্ষক ও সহপাঠীরা ঢামেকে ছুটে যান তাদের দেখতে। বিকালে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান। আহত হেলেন আফরিন মুক্তির পিতা হারুন অর রশীদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার মেয়েটা কি অপরাধ করছে। পুলিশের সামনে কারা এ ঘটনা ঘটালো। আমরাতো রাজনীতি করি না। তাহলে আমাদের ওপর হামলা হচ্ছে কেন? শিক্ষার্থীদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইডেনের ইসলামী শিক্ষা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জিয়াউল হক বলেন, দেশের এই অবস্থার অবসান জরুরি। আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। এই অবস্থা চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আহত শারমিন আক্তার জ্যোতির বাড়ি বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের হাসানপুরে। তিনি ঢাকার মিরপুরের দারুসসালাম এলাকার হরিরামপুরে পরিবারের সঙ্গে থাকেন। জয়নব আক্তার সাথীর বাড়ি কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার দিঘদাইর গ্রামে। তার পিতার নাম খোকন মিয়া। তিনি পরিবারের সঙ্গে মিরপুরের দারুসসালাম থানার বর্ধনবাড়ি এলাকায় থাকেন। আহত মাইমুনা আক্তারের বাড়ি ঢাকা জেলার সাভারের কুমারবাড়ী। আহত হেলেন আফরিন মুক্তির বাড়ি ঢাকা জেলার ধামরাইয়ের গোরাকান্দা গ্রামে। তার পিতার নাম হারুন-অর রশীদ।
চার শিক্ষার্থীর আহত হওয়ার খবর পেয়ে ঢাকা মেডিক্যালে ছুটে যান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করার নাম আন্দোলন না। আন্দোলন হলে রাজপথে মানুষ নামতো। তারা নতুন বছরের বই বিতরণ, লেখাপড়া সব তছনছ করে দিয়েছে। এগুলো কোন মানবিক কাজ না। এগুলো পশুর কাজ। এই নাশকতা বন্ধের দাবি জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তারা গত বছরও আন্দোলন করেছে, কিন্তু কিছুই করতে পারেনি। এবারও পারবে না। তারা মানুষের জীবনকে বিপন্ন করছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সর্বনাশ হচ্ছে। তাদের এগুলো বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান শিক্ষামন্ত্রী।