Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ৪:২২ ঢাকা, বুধবার  ২১শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

বিরোধী দলীয় আন্দোলনের সময় অগ্নিদগ্ধ হয় শিশুটি । বার্ন ইউনিটে দুই বছরের শিশু অগ্নিদগ্ধ জুই আক্তারের পাশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

অগ্নিদগ্ধ শিশুটিকে দেখে কাঁদলেন প্রধানমন্ত্রী

Like & Share করে অন্যকে জানার সুযোগ দিতে পারেন। দ্রুত সংবাদ পেতে sheershamedia.com এর Page এ  Like দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকতে পারেন।

হরতাল-অবরোধে অগ্নিদগ্ধদের দেখতে এবং সাহায্য দিতে আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী  ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখানে বার্ন ইউনিটে দুই বছরের শিশু অগ্নিদগ্ধ জুই আক্তারের পাশে দাড়িয়ে কাঁদলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  শিশুটির অগ্নিদগ্ধতার ভয়াবহতা দেখে কোন মতেই কান্না চাপিয়ে রাখতে পারলেন না প্রধানমন্ত্রী।  এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৬৩ জন অগ্নিদগ্ধের হাতে পরিবার সঞ্চয়পত্র তুলে দেন।তিনি প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে মোট ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র প্রদান করেন। তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলেন ও চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন। তিনি পেট্রোল বোমা হামলায় আহতদের সব ধরনের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, সরকার তাদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছু করবে। বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের ডা. সামন্তা লাল সেন ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন। নৈরাজ্য সৃষ্টি ও পেট্রোল বোমা হামলার প্ররোচণাকারীদের সঙ্গে কোন ধরনের সংলাপের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইনে এই সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদের হোতাদের বিচার হবে।

নৈরাজ্য সৃষ্টি ও পেট্রোল বোমা হামলার প্ররোচণাকারীদের সঙ্গে কোন ধরনের সংলাপের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইনে এই সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদের হোতাদের বিচার হবে।এই নির্মম সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত বোমাবাজ এবং এর নির্দেশদাতা, অর্থের যোগানদার ও পরিকল্পনাকারী কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা যেকোন মূল্যে সন্ত্রাসবাদ দমন করবো। এ জন্য যতদূর যেতে হয় আমরা যাব।

তিনি আজ বার্ন ইউনিটে বিএনপি-জামায়াত চক্রের চলমান সন্ত্রাসে পেট্রোলবোমা হামলায় আক্রান্তদের দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এ বর্বর হত্যাকান্ড ও জ্বালাও-পোড়াওকে রাজনীতি হিসেবে অভিহিতকারীদের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, এটা রাজনীতি নয়। যারা এটাকে রাজনীতি বলছেন তারা ভুল কথা বলছেন। এ হচ্ছে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদ। এই নির্মম অপরাধীদের নির্মূল করতে যা প্রয়োজন আমরা তা করবো।

সুশীল সমাজের একাংশের বিবাদমান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসার দাবি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংলাপ কার সঙ্গে? খুনীদের সঙ্গে ? সরকার কেন খুনীদের সঙ্গে বসবে?’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেত্রীকে তাঁর খুনের মিশন বন্ধ করতে হবে। তাকে কেউ মানুষ মারার লাইসেন্স দেয়নি। যদি তাদের সংলাপে বসার সে ধরনের কোন আগ্রহ থাকে, তবে আগে হত্যা ও জ্বালাও-পোড়াও বন্ধ করতে হবে। কারণ বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের কোন স্থান নেই।’
শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের প্রতি খালেদা জিয়ার কোন দয়া-মায়া নেই। তা না হলে তিনি এভাবে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে মানুষ মারতে পারতেন না। এ হচ্ছে বিকৃত মানসিকতা।
শুক্রবার সকাল পর্যন্ত হরতাল বাড়ানোর তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই হরতাল শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ও এসএসসি পরীক্ষায় মারাত্মক বিঘেœর সৃষ্টি করছে।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া তার গুলশান কার্যালয় থেকে এসব নৈরাজ্যের প্ররোচনা দিচ্ছেন। ওই কার্যালয়ে তিনি বিলাসী জীবন-যাপন করছেন।
শেখ হাসিনা বিএনপি-জামায়াত জোটের অপশক্তির বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডের সংবাদ পরিবেশন না করতে সংবাদ মাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ ধরনের প্রচার পরিবেশনা তাদের আরো ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড চালাতে প্ররোচিত করছে।