ব্রেকিং নিউজ

ভোর ৫:২৬ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

বানারিপাড়ায় লঞ্চডুবি: এ পর্যন্ত ১৪ লাশ উদ্ধার

barisal3

বরিশালের বানারিপাড়ায় সন্ধ্যা নদীতে ডুবে যাওয়া লঞ্চ থেকে এ পর্যন্ত ১৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী। তবে বানারীপাড়ার ইউএনও এখন পর্যন্ত নিমজ্জিত নৌযান থেকে ১০ যাত্রীর লাশ উদ্ধারের কথা জানিয়েছেন।

জানা গেছে, এমএল ঐশী নামের লঞ্চটি ৫০ জন যাত্রী নিয়ে বানারিপাড়া থেকে উজিরপুরে যাচ্ছিল। বুধবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলার দাসের হাট এলাকা ঘেঁষা ওই নদীতে লঞ্চটি ডুবে যায়। এ সময় কয়েকজন সাতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও বেশিরভাগ যাত্রী ডুবে যান। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন ২০-২৫ যাত্রী।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তারা ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় উদ্ধার অভিযানে নামেন। পুলিশ সুপার এসএম আকতারুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, বানারীপাড়া লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চটি উপজেলার হাবিবপুর যাচ্ছিল। পথিমধ্যে দাসের হাট মসজিদবাড়ি এলাকায় যাত্রী উঠানোর জন্য নোঙ্গর করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

barisal6

লঞ্চের উদ্ধার পাওয়া যাত্রী রোকসানা জানান, দুর্ঘটনা কবলিত নৌযানটিতে অর্ধশতাধিক যাত্রী ছিলো। দাশের হাটে যাত্রী ওঠানোর সময় নদীর পাড়ের বিশাল অংশ ভেঙে যাওয়ায় তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়। এ সময় লঞ্চটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। আতঙ্কিত যাত্রীরা তাড়াহুড়ো করে লঞ্চের এক পাশে এলে লঞ্চটি কাত হয়ে নিমজ্জিত হয়। মসজিদবাড়ি ঘাটে কোনো পন্টুন না থাকায় কাঁচা মাটির উপর লঞ্চটি ভেড়ানো হয়েছিলো। ঐ স্থানটি ভাঙন কবলিত হওয়ায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এমএল ঐশী।

নদীর একেবারে তীরবর্তী এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটলেও মাত্র ৫ জন যাত্রী সাতরিয়ে তীরে উঠতে সক্ষম হয়। পানির তীব্র স্রোতের কারণে বাকি যাত্রীরা কেউ তীরে উঠতে পারেনি।

বরিশাল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন সিকদার গণমাধ্যমকে জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়েই তারা তাত্ক্ষণিক বানারীপাড়া গিয়ে সন্ধ্যা নদীতে উদ্ধার অভিযানে নামেন। নদীতে তীব্র পানির স্রোত থাকায় উদ্ধার অভিযান বার বার ব্যাহত হয়। নানান প্রতিকূলতার মাঝেই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরীরা বেলা তিনটার দিকে নিমজ্জিত নৌযানটি পানির তলদেশে শনাক্ত করতে সক্ষম হন।

বানারীপাড়ার ইউএনও শহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, এখন পর্যন্ত নিমজ্জিত নৌযান থেকে ১০ যাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৫ জন নারী।

barisal4

ঘটনাস্থল থেকে বরিশাল নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জ সফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, ডুবুরীরা নৌযানটি সেখান থেকে অন্যত্র যাতে ভেসে যেতে না পারে সেজন্য রশি দিয়ে বেঁধে রেখেছেন। নৌযানটি রশি দিয়ে বাঁধার সময় লাশগুলো তারা উদ্ধার করেন। ইঞ্জিন চালিত ট্রলারকে বর্ধিত করা লঞ্চটি খুবই ছোট। তাই উদ্ধারকারী জলযান না নিয়ে স্থানীয় ভাবে অন্য কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করে উদ্ধার করা যায় কিনা তা নিয়ে চিন্তা – ভাবনা চলছে।