ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৬:২৬ ঢাকা, বুধবার  ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

বাজেট বাস্তবায়নে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আরো সামনের দিকে এগিয়ে যাবে

প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদে সরকারি দলের সদস্যরা বলেছেন, সকল বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরো সামনের দিকে এগিয়ে যাবার পথ রচনা করবে।
তারা বলেন, বিএনপি-জামায়াত নজিরবিহীন জঙ্গী তৎপরতা চালিয়েও বর্তমান সরকার সূচিত উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।
আজ সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনের শুরুতে প্রশ্ন-জিজ্ঞাসা-উত্তর টেবিলে উপস্থান, দু’জন মন্ত্রীর ৩০০ বিধিতে বিবৃতি ও ৩ জন সদস্যের পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্যের পর ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়।
গত ৪ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৯৫ হাজার ১শ’ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন।
২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট আলোচনার নবম দিনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, সরকারি দলের সদস্য আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, আবুল কালাম আজাদ, ডা. দীপু মনি, কামাল আহমেদ মজুমদার, বেগম সানজিদা খানম, তানভীর ইমাম, আবুল কালাম মোঃ আহস্ানুল হক চৌধুরী, জাতীয় পার্টির মো. শওকত চৌধুরী ও বেগম মাহজাবিন মোর্শেদ অংশ নেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সম্মানী ভাতা প্রদানে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বয়সের বিভাজন সৃষ্টি না করে সকল মুক্তিযোদ্ধাকে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা প্রদানের আহবান জানান।
তিনি বলেন, সকল মুক্তিযোদ্ধাকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা চূড়ান্ত করে ৮ ধরনের বারকোড দিয়ে পরিচয়পত্র ও সার্টিফিকেট প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই সার্টিফিকেট নকল করা সম্ভব হবে না।
তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রস্তুতের পাশাপাশি রাজাকার, আল-বদর, আল-শামসদের তালিকা তৈরী করা হবে।
মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ১০ হাজার বাসস্থান নির্মাণের জন্য বাজেটে বরাদ্দ দেয়ায় অর্থমন্ত্রীকে তিনি ধন্যবাদ জানান।
মন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান হানাদার বাহিনী যে স্থানে আত্মসমর্পণ করেছিলেন সেই স্থানটিকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি রোধে শিশু-কিশোর যুবকদের সমন্বয়ে অসাম্প্রদায়িক সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাঠ্যসূচিতে মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলী সন্নিবেশ করা হয়েছে। এটাই যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের ভূমিকা তুলে ধরে পরবর্তী প্রজন্মকে জানাতে হবে।
মোজাম্মেল হক বলেন, মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখ সমরের স্থান, বদ্ধভূমি এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কবর সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব কাজ সম্পন্ন করতে তিনি বাজেটে আরো ১৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি জানান।
মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী যে জঘন্যতম গণহত্যা চালিয়েছে তা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। বিশ্বের ইতিহাসে একদিনে এতো লোককে হত্যা করা হয়নি। তাই এই দিবসটিকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক প্রস্তাবিত বাজেটের প্রশংসা করে বলেন, এ বাজেট বাস্তবায়ন হলে দেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, বিএনপি জামায়াতের পেট্রোল বোমা হামলাসহ জঙ্গীবাদী রাজনীতির মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্র নস্যাৎ করতে চেয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার দৃঢ় পদক্ষেপের ফলে তা ব্যর্থ হয়েছে। দেশ গত ৭ বছরের অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক বেশী এগিয়ে গেছে। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণসহ সব ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
জাহিদ মালেক প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেন।
তিনি বলেন, সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময়ে ভারতের সাথে বিভিন্ন চুক্তি করে দেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করা হয়েছে। এসব চুক্তির মাধ্যমে প্রতিবেশী দু’দেশের পাশাপাশি পুরো দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশ লাভবান হবে।
সরকারি দলের অন্য সদস্যরা বলেন, শত প্রতিকূলতার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে ভোট ও ভাতের অধিকার নিশ্চিত হয়েছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর এ দেশের জনগণ ভোট-ভাতের অধিকার হারিয়েছিল। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সে ভোট-ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু ২০০১ সালের নির্বাচনে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আওয়ামী লীগকে পরাজিত করে সে অর্জন আবার জাতি হারিয়ে ফেলে। অনেক সংগ্রাম-রক্ত দিয়ে ২০০৯ সালে আবার ক্ষমতায় এসে বর্তমান সরকার জনগণের সে হারানো অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে।
তারা ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র রক্ষা হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, দেশের সংবিধান, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দেশের সব সংসদের মধ্যে দশম জাতীয় সংসদের অবদান সবচেয়ে বেশী।
তারা বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট যখন উপস্থাপিত হয়েছে তখন সরকারের সাফল্য সর্বক্ষেত্রে প্রশংসিত হয়েছে। দেশের বিনিয়োগ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, মাথাপিছু আয়, প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, খাদ্য-শস্য উৎপাদন, মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি, দারিদ্র্যের হার অর্ধেকে নেমে আসা, অতি দারিদ্র্য ৩ ভাগের ২-এ নেমে আসাসহ অর্থনীতির এমন কোন বিষয় নেই, যেখানে উন্নয়ন হয়নি। অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকার ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে।
সরকারি দলের সদস্যরা বলেন, বর্তমান সরকার দেশে আবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠিত করেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে গত ৭ বছরে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে অসহায় গরীব মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা বজেটে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বৃদ্ধির জন্য অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তবে তারা সকল মুক্তিযোদ্ধার ভাতা ১০ হাজার টাকা নির্ধারণের আহবান জানান।