Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৭:৫২ ঢাকা, বুধবার  ২১শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

তোফায়েল আহমেদ
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, ফাইল ফটো

‘বাংলাদেশ ২১ সালের আগেই মধ্যম আয়ের দেশ’

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বাংলাদেশ। এজন্য বাংলাদেশ সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে সফল ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ১৩ কোটি ৩২ লাখ মোবাইল ফোন, প্রায় ৭ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে প্রায় ৮০ ভাগ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ক্ষেত্রে ২০ ভাগ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে’।

বাণিজ্যমন্ত্রী শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে অনুষ্ঠিত এশিয়া ইউরোপ মিটিং (আসেম)-এর সপ্তম ইকোনমিক মিনিস্টার্স মিটিং (ইএমএম)-এর দ্বিতীয় প্লেনারি সেশনে স্ট্র্যাংদেনিং ইকোনমিক কানেকটিভিটি বিষয়ে বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। কোরিয়ার ট্রেড, ইন্ডাস্ট্রি এন্ড এনারর্জি বিষয়কমন্ত্রী উংউ পেইক-এর সভাপতিত্বে ‘প্লেনারি সেশন-২’ এ চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড এন্ড ইন্ডাস্ট্রি মিনিস্টার কা চুয়ান অং। তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এসময় দেশের রপ্তানি হবে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমানে দেশের রপ্তানি প্রায় ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার’।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন দক্ষতার সাথে বিশ্ববাণিজ্যে অবদান রাখা জন্য প্রস্তুত। বাংলাদেশ প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে ‘ইউএনএ্যাস্কাপের’ অধীন ফ্রেম ওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট অন ফেসিলিটেশন অফ ক্রস বর্ডার পেপারলেস ট্রেড ইন এশিয়া এন্ড দি প্যাসিফিক’-এ গত ২৯ আগষ্ট স্বাক্ষর করেছে।
বানিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় তথ্য প্রযুক্তিসহ বেশকিছু খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে রপ্তানিপণ্য বৃদ্ধি এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আধুনিক ডিজিটাল টেকনোলজি ব্যবহার করে ই-কানেকটিভিটি স্থাপনে বাংলাদেশ সক্ষম’।

তিনি বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ দ্বিতীয় সাইবার ক্যাবলে যুক্ত হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে দেশে ফোর-জি চালু হবে। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সুবিধা দেওয়ার জন্য দেশব্যাপী পাঁচ হাজারেরও বেশি ডিজিটাল সেন্টার চালু করা হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে হলে সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে। বাণিজ্য জটিলতা হ্রাস, জ্বালানীর সহজ প্রাপ্তি, তথ্য প্রযুক্তির জ্ঞান অর্জন এবং মানুষে মানুষে যোগাযোগ সহজ করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ অন-লাইনে বেশিরভাগ সেবা গ্রহণ করছেন। বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সেবা প্রদানকারী অফিসগুলোকে অটোমেশনের আওতায় আনা হয়েছে’।
তিনি বলেন, ‘সরকারি দপ্তর গুলোকে ই-গভর্নেন্সের আওতায় এনে পেপারলেস করা হচ্ছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের সকল ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে’।

আরও বক্তব্য রাখেন- সুইডেনের মিনিস্টার অফ ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন এফেয়ার্স এন্ড ট্রেড এ্যাট দি মিনিস্ট্রি ফর ফরেন এফেয়ার্স এ্যান লিনডি, বেলজিয়ামের ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার এবং ইমপ্লইমেন্ট, ইকোনমি, কনজিউমার রাইটস, ফরেন ট্রেড বিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস পিটার্স, স্পেনের ইকোনমি মিনিস্ট্রির মহাপরিচালক জোসে লুইস কাইসার মোরেইরাস, সুইজারল্যান্ডের ইকোনমিক এফেয়ার্সের স্টেট সেক্রেটারি মারকুইস শিলাজেনহোফ এবং সিঙ্গাপুরের ট্রেড এন্ড ইন্ডাস্ট্রি বিষয়ক সিনিয়র স্টেট মিনিস্টার ফোহ কন কো।

উল্লেখ্য, এশিয়া এবং ইউরোপের দেশ সমুহের মধ্যে সেতু বন্ধন স্থাপনের লক্ষ্যে এ দু‘অঞ্চলের ২৬টি দেশের সমন্বয়ে ১৯৯৬ সালে এশিয়া ইউরোপ মিটিং(আসেম) জোট গঠিত হয়। বর্তমানে এ জোটের সদস্য সংখ্যা ৫৩। বাংলাদেশ ২০১২ সালে আসেম-এ যোগদান করে।