ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৬:০০ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

বাংলাদেশ-ভারত বহিঃসমর্পণ চুক্তির সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদিত

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বহিঃসমর্পণ সম্পর্কিত চুক্তি সহজ করার এক সংশোধনী প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

সচিব বলেন, ভারত সরকার বিদ্যমান চুক্তিটি সহজ করতে এর ১০/৩ ধারা সংশোধনের প্রস্তাব করে। এই সংশোধনীর ফলে এখন বাংলাদেশ ও ভারত যেকোন অপরাধীর বিরুদ্ধে নিজ দেশে গ্রেফতার পরোয়ানা জারি হলে তাকে তার দেশে বহিঃসমর্পণ করতে পারবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বর্তমান আইনে একটু জটিলতা রয়েছে। এতে বহিঃসমর্পণের জন্য কোন অপরাধীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির পরও প্রমাণ উপস্থাপনের প্রয়োজন ছিল। আজ অনুমোদিত এই সংশোধনীর ফলে অভিযুক্তকে প্রত্যার্পণে আর কোন প্রমাণের প্রয়োজন হবে না। বর্তমান বহিঃসমর্পণ চুক্তিটি ২০১৩ সালের ২৩ অক্টোবর কার্যকর হয়।

শফিউল আলম বলেন, বৈঠকে দেশে পাট গবেষণা ও উৎপাদন আরো জোরদার করতে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইন্সটিটিউট আইন-২০১৬’র খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়।

তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালের এই আইনটি পরবর্তীতে সামরিক শাসনামলসহ কয়েকবার সংশোধিত হয়। সুপ্রিম কোর্ট সামরিক শাসনকালে জারীকৃত সব অধ্যাদেশ ও সংশোধনী বাতিল ঘোষণার প্রেক্ষাপটে কয়েকটি নতুন ধারা সংযোজন করে বাংলা ভাষায় এই আইনটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়।

সচিব বলেন, খসড়ায় সরকারের পূর্বানুমতি সাপেক্ষ এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় অন্য কোথাও স্থানান্তর এবং প্রয়োজনীয় ও যথাযথ স্থানে এর শাখা কার্যালয়ও স্থাপন করা যাবে। প্রতিষ্ঠানটি একটি বোর্ড থাকবে। এর একজন মহাপরিচালক থাকবেন।

প্রতিষ্ঠানটি দেশে পাট ও পাটের আঁশ সম্পর্কিত সবধরনের কারিগরি ও অর্থনৈতিক গবেষণা এবং পাট ও এ সংশ্লিষ্ট ফসলের উৎপাদন, সম্প্রসারণ, নিয়ন্ত্রণ, উন্নয়ন ও পরিচালনা করবে। এটি সীমিত আকারে উন্নত মানের পাটবীজ উৎপাদন, পরীবিক্ষণ ও সংগ্রহ করে নির্ধারিত কৃষক, স্বীকৃত সংস্থা ও অন্যান্য এজেন্সির কাছে সরবরাহ করবে।

প্রতিষ্ঠানটি পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি ও এর বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে গবেষণা ও পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশের বিভিন্ন স্থানে আরো সাব-সেন্টার স্থাপন এবং পাট পণ্যের প্রদর্শনী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সুবিধাভোগীদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার মধ্যে বিনিয়োগের পারস্পরিক সুরক্ষা চুক্তিতে অনুসমর্থন দেয়া হয়।

এছাড়া মন্ত্রিসভা যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে জাতীয় মেধা তালিকা থেকে সিনিয়র স্টাফ নার্সের শূন্য পদ পূরণ সম্পর্কিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১০ সালের ৫৯ নম্বর সার্কুলারের প্রবিধান শিথিল করার এক প্রস্তাবেও অনুমোদন দিয়েছে। বিশেষ ও অগ্রাধিকার কোটায় সিনিয়র নার্সের শূন্য পদ পূরণের লক্ষ্যে এ সার্কুলার জারী করা হয়েছিল।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১৫ ও ১৬ জুলাই মঙ্গোলিয়ার উলানবাটোরে ১১তম এশিয়া-ইউরোপ (আসেম) সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ সম্পর্কে অবহিত করা হয়।

মন্ত্রীবর্গ, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট সচিবগণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।