Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৬:৪৭ ঢাকা, বুধবার  ২১শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

ডিএসই
মূল্যসূচকসমূহ বেড়েছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে বসতে চায় ডিএসই

পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে বসতে চায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ট্রেকহোল্ডারেরা। বাজার পরিস্থিতি উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তারা। কারণ বছরের শেষ দিকে এসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজগুলোকে বিনিয়োগ সমন্বয়ে বড় ধরনের চাপ প্রয়োগ করছে, যা বাজারের স্বাভাবিক গতিকে ব্যাহত করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ নজরদারির কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো পুঁজিবাজারে নতুন বিনিয়োগ তো করছেই না বরং বিনিয়োগ সমন্বয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
রোববার বিকেলে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপরে সাথে অনুষ্ঠিত শীর্ষ ৩০ ট্রেকহোল্ডারের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুসারে শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে  বৈঠকের বিষয়ে যোগাযোগ করবে ডিএসই। বাংলাদেশ ব্যাংক এ ব্যাপারে সাড়া দিলে তাদের দেয়া সময়সূচি অনুসারে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্বপন কুমার বালা, শেয়ারহোল্ডার পরিচালক শাকিল রিজভী, শরীফ আনোয়ার হোসাইন ও ট্রেকহোল্ডার প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা। বৈঠকে স্টেকহোল্ডারদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি-দাওয়াও উত্থাপন করা হয়। ট্রেকহোল্ডারদের দাবিগুলোর মধ্যে ছিল খুব তাড়াতাড়ি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে বৈঠক করা, নেটিং বা আর্থিক সমন্বয় সুবিধা দেয়া, শাখা খোলার বিষয়ে বিএসইসির অনুমোদন ও লাগা চার্জ কমানো।
বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে একটি ব্যাংকের সিকিউরিটিজ হাউজের প্রধান নির্বাহী বলেন, বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ডিএসইর সাথে আমাদের আলোচনা হয়েছে। কিভাবে বজারের লেনদেন বাড়ানো যায় সেটি আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে। তিনি বলেন, আমরা বলেছি বাজারের এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে আলোচনা জরুরি। এ ছাড়াও নেটিং সুবিধা দিলে বাজারে লেনদেন আরো বাড়বে।
অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বছরের শেষ দিকে এসে বাংলাদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজারের সাথে সম্পৃক্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হাউজগুলোকে অনেক বেশি চাপে রেখেছে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে বিনিয়োগ বাদ দিয়ে সমন্বয় করার চিন্তা করছে। এর ফলে এক দিকে বাজারে নেতিবাচক প্রবণতা বিরাজ করছে অন্য দিকে কমছে লেনদেনও। কারণ টানা মন্দায় ুদ্র বিনিয়োগকারীদের বেশির ভাগেরই সক্ষমতা নেই। এ সময় প্রতিষ্ঠানগুলোই ছিল বাজারের প্রধান শক্তি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে বৈঠক করতে পারলে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাবে বলে মনে করেন তিনি।
এ দিকে তিন দিন পর গতকাল সূচকের পতন থামলেও দুই পুঁজিবাজার লেনদেন শেষ করে মিশ্র প্রবণতায়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে প্রধান সূচকটি ১২ দশমিক ৮১ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। ডিএসই-৩০ সূচক ১ দশমিক ১২ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে পারলেও ১ দশমিক ০৭ পয়েন্ট অবনতি ঘটে ডিএসই শরিয়া সূচকের। তবে চট্টগ্রামে তিনটি সূচকই কম বেশি উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। এখানে সার্বিক মূল্যসূচক ৫২ দশমিক ২১, সিএসসিএক্স সূচক ৩৬ দশমিক ৩৯ ও সিএসই ৫০ সূচক ৩ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়।  তবে মিশ্র প্রবণতার মধ্যে বাজারগুলোতে লেনদেনের কিছুটা উন্নতি ঘটে। ঢাকায় লেনদেন হয় ১৮৯ কোটি টাকা, যা আগের দিন অপেক্ষা ২১ শতাংশ বেশি। রোববার বাজারটির লেনদেন ছিল ১৫৬ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে ১২ কোটি টাকা থেকে ১৫ কোটিতে পৌঁছে লেনদেন।  লেনদেনের শুরুতেই বিক্রয়চাপের শিকার হলেও দ্রুতই তা কাটিয়ে ওঠে বাজারগুলো।