Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ২:২৭ ঢাকা, বুধবার  ১৪ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের চতুর্থ পর্বের চুক্তি স্বাক্ষর

বাংলাদেশ ব্যাংক উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ৩০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা দেবে। বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় এই ঋণ সহায়তা দেয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়ন তহবিল ব্যবহারের জন্য ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরীর সভাপতিত্বে তিনটি ব্যাংকের সাথে আজ চতুর্থ পর্বের চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী পরিচালক, উন্নয়ন সহযোগী বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তাগণ, বাংলাদেশ ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১৯ নভেম্বর প্রথম পর্বে ৪টি ব্যাংক যথাক্রমে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড, প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের সাথে, ১ ডিসেম্বর দ্বিতীয় পর্বে আরো ৬টি ব্যাংক যথাক্রমে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড ও এক্সিম ব্যাংক লিমিটেডের সাথে এবং ২৩ ডিসেম্বর তৃতীয় পর্বে আরো ৬টি ব্যাংক যথাক্রমে ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড, আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেড, সাউথ ইস্ট ব্যাংক লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড, ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের সাথে এই চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়।
বৈদেশিক মুদ্রায় দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়ন তহবিল পরিচালনার জন্য যোগ্যতাসম্পন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে চতুর্থ দফায় আজ যমুনা ব্যাংক লিমিটেড, পূবালী ব্যাংক লিমিটেড ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের সাথে অংশগ্রহণমূলক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। অচিরেই যোগ্যতাসম্পন্ন অন্যান্য ব্যাংকসমূহের সাথেও অংশগ্রহণমূলক-চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ কথা বলা হয়।
সরকার আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাভিত্তিক বিশদ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে আর্থ-সামাজিক বিভিন্ন খাতে অগ্রগতির সময়ভিত্তিক প্রক্ষেপণ বা রূপরেখা উল্লেখপূর্বক সরকার ‘প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০১০-২১’ প্রণয়ন করেছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয়খাতে বছর-ওয়ারী বিনিয়োগের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ২০২১ সালে ৩৮ শতাংশ হবে বলে প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। বেসরকারী খাতই দেশে বিনিয়োগের প্রধান চালিকাশক্তি বিবেচনায় এই খাতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গতিশীলকরণের পূর্বশর্ত হিসেবে বেসরকারি খাতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই খাতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ানো আবশ্যক।
¬উৎপাদনশীল খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যবসা সম্প্রসারণ, আধুনিকায়ন কিংবা নতুন কারখানা স্থাপন ইত্যাদি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে নতুন ও উন্নত কারিগরি মানসম্পন্ন মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানী করার প্রয়োজন। আর এতে দরকার দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ। উচ্চ সুদে দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের বিনিয়োগের আর্থিক উপযোগিতা না থাকায় বাংলাদেশের উৎপাদনশীল খাতের সক্ষমতা আশানুরূপভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে না এবং স্বাভাবিকভাবেই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব বাণিজ্যে বাংলাদেশ কাক্সিক্ষত মাত্রায় সফলতা অর্জন করতে পারছে না। এই প্রতিকূলতা দূর করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় প্রায় ৩০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি তহবিল গঠন গ্রহণ করেছে। এই তহবিল থেকে অংশগ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের মাধ্যমে উৎপাদনশীল শিল্পখাতে ৫ থেকে ১০ বছর মেয়াদী বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থায়ন সুবিধা প্রদান করা হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো দীর্ঘমেয়াদী এই তহবিল যথাযথভাবে ব্যবহার করে শিল্পখাতের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি রপ্তানিখাতের পূর্ণমাত্রার সম্প্রসারণ ঘটাতে সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। তবে এই উন্নয়ন প্রচেষ্টায় পরিবেশগত কোনো ঝুঁকির সৃষ্টি যেন না হয় সে দিকে কঠোর নজর রাখার ব্যাপারেও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন ডেপুটি গভর্নর। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের এই প্রচেষ্টায় দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।
এই তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর সুশাসনের দিকেও লক্ষ্য রাখা হয়েছে। কেবলমাত্র একটি নির্দিষ্ট মান অর্জনের পরই ব্যাংকগুলো এই তহবিলে অংশগ্রহণ করতে পারবে এবং অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর ‘ক্যামেলস’ সূচক অনুযায়ী তাদের প্রযোজ্য সুদের হার নির্ধারিত হবে। এতে করে সুশাসনের মানোন্নয়নের সাথে সাথে ব্যাংকগুলোর আর্থিক প্রণোদনাও থাকছে।
অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো এই তহবিল ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের গ্রাহকদের দীর্ঘমেয়াদী বৈদেশিক মূদ্রায় ঋণচাহিদা পূরণের ফলে বাণিজ্যিকভিত্তিতে দেশের বাইরে থেকে বৈদেশিক ঋণগ্রহণের পরিমাণও হ্রাস পাবে। এসব বাণিজ্যিক ঋণের স্বল্প মেয়াদের পরিশোধসূচির পরিবর্তে এই তহবিল ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদী ঋণ পরিশোধসূচির সুবিধা গৃহীত হলে দেশের লেনদেন ভারসাম্যেও তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করা হয়।
ডেপুটি গভর্নর অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে তাদের সর্বাত্বক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সঠিক বিনিয়োগকারী চিহ্নিত ও এই তহবিল সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে দেশজ উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহবান জানান।