Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ৯:৩২ ঢাকা, শুক্রবার  ১৬ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

‘বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরির তদন্তে ফিলিপাইনে এফবিআই’

নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরির ঘটনায় কীভাবে তা উদ্ধার করা যায়। এজন্য ফিলিপাইনে জাল পেতেছে বিখ্যাত মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। সিনেট কমিটিতে এরই মধ্যে গতকাল শুনানি হয়েছে, আজ আবার সিনেট কমিটির শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের আট শ কোটি টাকার বেশী চুরির ঘটনায় তোলপাড় চলছে সারা দুনিয়ায়। ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক হ্যাকিং কেলেঙ্কারি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে একে। এ ঘটনার তদন্ত পর্যবেক্ষণের কথা এরই মধ্যে বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। একযোগে তদন্ত চলছে বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনে। সতর্ক বিভিন্ন দেশ এবং সংস্থা। বাংলাদেশের অর্থ চুরির ঘটনার প্রেক্ষাপটে ১৪টি দেশ ফিলিপাইনের ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। দেশটি তাদের ব্যাংকিং খাত নিয়ে ভাব মূর্তির সংকটে পড়েছে।

আসল তথ্য বের করে আনতে কাজ করছেন অনেকে। ফিলিপাইনের সিনেট কমিটিতে এরই মধ্যে শুনানি হয়েছে এই অর্থ কেলেঙ্কারি নিয়ে। কাজ করছে একাধিক সংস্থা। এ কেলেঙ্কারির তদন্তে ফিলিপাইনে এফবিআইয়ের কাজ শুরু করার কথা জানা গেছে গতকাল। সংস্থাটির সদস্যরা এরই মধ্যে কথা বলেছেন, তদন্ত সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে। ওদিকে, ফিলিপাইনের তদন্ত কার্যক্রমের দিকে নজর রাখছেন সেখানে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা। সিনেট কমিটির শুনানিতে পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত থাকছেন তারা। চুরির টাকা ফিলিপাইনে কিছু অ্যাকাউন্টে যে জমা হয়েছিল, সেটা তাদের সিনেটের শুনানিতে প্রমাণিত হয়েছে। খোয়া যাওয়া অর্থের একটি বড় অংশ জুয়ার বাজারে চলে যাওয়ায় তা উদ্ধারে আইন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফিলিপাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব.) জন গোমেজ একটি বিদেশী গণমাধ্যমের কাছে সাক্ষাতকারে বলেছেন, প্রমাণিত হয়েছে যে, এখানে টাকাটা এসেছে এবং এখানে কিছু কিছু একাউন্টে টাকাটা জমা হয়েছিল। তারপর এদের ম্যানেজমেন্ট তারাও একটা নিজস্ব তদন্ত করছে। এখানকার সেন্ট্রাল ব্যাংক তদন্ত করছে। এখানে যেটা বোঝা যাচ্ছে যে, বেশিরভাগ টাকাই ক্যাসিনোতে পৌঁছে গেছে। তাদের আইন কী বলে এ ব্যাপারে সেটা তারা আমাদেরকে জানাবে পরে। এফবিআই থেকেও লোক এখানে চলে এসেছে। তারাও তাদের তদন্ত করছে এখানে। আজ  সিনেট কমিটির গুরুত্বপূর্ণ শুনানি রয়েছে।

যদিও চুরির অর্থ উদ্ধারের ব্যাপারে এখনও নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে না

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক থেকে রিজার্ভ চুরির ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। তবে সেটা অবশ্য আশির দশকে। সেসময় উগান্ডার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ চুরি হয়। ওই ঘটনায় উগান্ডার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তার জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে। ওই কর্মকর্তারা ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগব্যবস্থা ‘টেলিপ্রিন্টার’ ব্যবহার করেছিলেন। বুধবার ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল এ খবর জানিয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘটনার পূর্বসূরি হচ্ছে উগান্ডার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ চুরির ঘটনা। ফেডারেল রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরি হয়ে শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপাইনে ব্যাংকিং খাতে প্রবেশ করেছে। অতীত থেকে শিক্ষা  নিয়েই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আশির দশকে ব্যাংক অব উগান্ডার দুষ্কৃতকারী কর্মীরা ব্যাংকটির প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগব্যবস্থা টেলিপ্রিন্টার ব্যবহার করে অল্প পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছিল। তখন টেলেক্স বার্তায় ফেডারেল রিজার্ভ থেকে অর্থ ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যাংকের হিসাবে হস্তান্তর করা হতো। উগান্ডার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ সুইজারল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশে ব্যাংকে চলে যায়। এর মধ্যে সুইস ব্যাংকের কয়েকটি হিসাবেও এ অর্থ জমা হয়। পরে ওই হিসাবধারী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু অপরাধের সঠিক প্রমাণ মেলেনি।  
 
ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে ফেডারেল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ফেডারেল রিজার্ভ থেকে বলা হয়, যারাই কাজটি করেছে তারা ব্যাংকের সুইফট কোড ব্যবহার করেই অর্থ ছাড়ের আদেশ দিয়েছে।