Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১০:১২ ঢাকা, রবিবার  ১৮ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

‘বাংলাদেশ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী’- STRATFOR

একদল একনায়কতন্ত্রের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ। আর এ পথ ধরেই দেশে চরমপন্থীদের উৎপাত দিন দিন বাড়ছে। ভবিষ্যতে এ হার আরও বাড়বে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে এমন ভবিতব্য দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসভিত্তিক প্রকাশক ও বৈশ্বিক গোয়েন্দা কোম্পানি স্ট্রার্টফর। মঙ্গলবার সংস্থাটির ওয়েবসাইটে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য স্ট্রার্টফর বিশ্ব বাণিজ্য-অর্থনীতি ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক বিষয়ে বিশেষ বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রাইভেট কোম্পানিটির প্রধান জর্জ ফ্রাইডম্যান। আন্তর্জাতিকভাবে তিনি বিশ্ব ভূ-রাজনীতির শীর্ষস্থানীয় ‘ভবিষ্যৎ প্রবক্তা’ হিসেবে পরিচিত। সংস্থাটির সদর দফতর টেক্সাসের অস্টিনে।

স্ট্রার্টফর বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেছে-

১. দেশের বিরোধী দল বিএনপির ওপর প্রতিনিয়ত মামলা চাপিয়ে একনায়কের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ।
২. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সমর্থন বাড়াতে ধর্মকে ব্যবহার করবেন।
৩. রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে চরমপন্থী হত্যা বাড়বে, যার দোষারোপ বিরোধীদের ওপর চাপাবেন শেখ হাসিনা।
৪. সরকারের অর্থ ঘাটতি, ঋণ হ্রাস ও চরমপন্থীদের হামলায় দেশে বিনিয়োগ কমে যাবে। ফলে জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছাতে ব্যর্থ হবে।সংস্থাটি আরও বলছে, দুটি প্রধান কাঠামোগত পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। একটি একনায়কতন্ত্র আর অন্যটি চরমপন্থী আক্রমণে দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত।বাংলাদেশের রাজনীতিকে একনায়কতন্ত্রের দিকে গড়ানোর জন্য চারটি কৌশলকে কাজে লাগাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নীতিগুলো বিরোধীদলীয় নেত্রী ও শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা জিয়াকেও দমনের কৌশল হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রথমত. বিএনপির রাজনৈতিক বন্ধু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার স্লোগান তুলে রাজনৈতিক দল হিসেবে দলটিকে কোণঠাসা করা হয়েছে। জামায়াতের সংবিধান গণতন্ত্রের আদলে তৈরি নয় বলে তা পরিবর্তনের জন্য বলা হয়। ইসলামী এ দলের সংবিধান পরিবর্তনের জেরে উত্তাল হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। ফলে বিক্ষোভের জেরে ১৫০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারান। জামায়াত বাংলাদেশের অন্যতম সাংবিধানিক দল নয়, বরং বিএনপির সহায়তায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে দলটি।

দ্বিতীয়ত. বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের ওপর মামলা চাপিয়ে নেতাদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখছে। এ ছাড়া দেশের সর্বোচ্চমানের সাংবাদিকদের ওপরও মামলার খড়গ নেমে এসেছে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে মৃতের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ মন্তব্য করার জেরে জানুয়ারি মাসে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দেয়া হয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। (শেখ হাসিনার ভাষায় ৩০ লাখ শহীদ, এটাই আসল সংখ্যা। তবে খালেদা জিয়ার মতে, এ সংখ্যার হেরফের হতে পারে)। ২০১৫ সালে ঢাকায় বাস ভাংচুরের মামলায় ১১ মে খালেদা জিয়াসহ ২৭ শীর্ষস্থানীয় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনার অপরাধে ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে ৭৯টি মামলা (১৭টি রাষ্ট্রদ্রোহ ও ৬৯টি মানহানি) দায়ের করা হয়। এ ছাড়া ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অপরাধে ফেব্রুয়ারিতে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধেও রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দেয়া হয়।

তৃতীয়ত. যুদ্ধাপরাধীদের সাজা দেয়ার মাধ্যমে স্বাধীনতার ইমেজকে কাজে লাগাচ্ছে সরকার। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে (বর্তমান বাংলাদেশ) আলাদা করা হবে- এর বিরোধী ছিল জামায়াত। দলটির নেতা মতিউর রহমান নিজামীকে আলবদর গঠনের জন্য অভিযুক্ত করা হয়। ফলে তাদের সাজা দেয়ার জন্য গঠিত হয় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত চারজন শীর্ষ নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। চতুর্থত. ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে বিএনপির নির্বাচন বয়কটের সুবিধা নিয়েছেন শেখ হাসিনা। ফলে বাংলাদেশের ইতিহাসে কমসংখ্যক ভোটারের উপস্থিতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার রেকর্ড সৃষ্টি হয়। এ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ৩০০ আসনের বিপরীতে ২৮০টিতে জয়লাভ করে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের পর থেকে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে ঢাকাকে সরকারের শক্তিশালী দুর্গ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার।