ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৯:৪২ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

বাংলাদেশ একটি বিজয়ী জাতি হিসেবে টিকে থাকবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে দেশের জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের মাধ্যমে উন্নত হবে এবং অন্য কারো কাছ থেকে দয়া না চেয়ে বিজয়ী হিসেবে বিশ্বের জাতিগুলোর মধ্যে টিকে থাকবে।
তিনি বলেন, এই দেশ আমাদের, মাটি আমাদের এবং জনগণ আমাদের। তাই, সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের মাধ্যমে, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় একটি সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে গড়ে ওঠবে এবং বাংলাদেশের জনগণ তাদের মাথা উঁচু করে বিশ্বের বুকে টিকে থাকবে।
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০১৫ উপলক্ষে আজ বিকেলে এখানে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতা করছিলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তি যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করেছে। তাই, আমরা একটি বিজয়ী জাতি হিসেবে বসবাস করবো এবং আমরা এ ভাবেই আমাদের দেশকে গড়ে তুলবো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইনশাল্লাহ বাংলাদেশ ২০২১ সালের আগেই মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত হবে।
স্বাধীনতার জন্য শহীদ এবং যারা বিরাট আত্মত্যাগ করেছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশবাসী সবসময় মুক্তিযুদ্ধে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর অবদান স্মরণ করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, বঙ্গবন্ধু জাতীয় অর্থনীতি পুনর্গঠনের পাশাপাশি চৌকস সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু একটি স্বাধীন দেশের সশস্ত্র বাহিনীর ভিত্তি গঠন এবং সশস্ত্র বাহিনীর জন্য মিলিটারী একাডেমী, সম্মিলিত স্কুল, ট্রেনিং স্কুল, প্রশিক্ষণ ও সাংগঠনিক কাঠামোর উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছিলেন। বাংলাদেশের বর্তমান সশস্ত্র বাহিনীর অস্তিত্ব এই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি এস কে সিন্হা, সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ, মন্ত্রিসভার সদস্যবর্গ, বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম রওশন এরশাদ, জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, সংসদ সদস্যবর্গ, তিন বাহিনী প্রধানগণ, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যবর্গ এবং তাদের স্ত্রীগণ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী এবং কূটনীতিকবৃন্দ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য শেষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ঘুরে ঘুরে সেনা কর্মকর্তাদের এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের, কূটনীতিক ও অন্যান্য অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
প্রধানমন্ত্রী দেশ গঠনমূলক কর্মকান্ডে এবং শান্তি রক্ষা মিশনে দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, তাদের পেশাদারিত্বের মনোভাব সারাবিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। তাঁরা তাদের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা জনগণের আস্থা অর্জন করেছে এবং দেশের অবকাঠামো ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে খুবই উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সশস্ত্র বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন করেছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার এই নীতির আলোকে সশস্ত্র বাহিনীকে একটি আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়ন এবং পর্যায়ক্রমে এটি বাস্তবায়ন করছে।
শেখ হাসিনা বলেন, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীকে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র-শস্ত্র দিয়ে সুসজ্জিত করার প্রচেষ্টা চলছে। এ লক্ষ্যে সিলেটে এবং কক্সবাজারের রামুতে পদাতিক ডিভিশন গঠন করা হয়েছে। সরকার দেশের দক্ষিণাঞ্চলে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিভিশন গঠনে পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি আরো বলেন, বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সহায়তায় যুদ্ধ ক্ষমতা শক্তিশালী করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমুদ্র জলসীমা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ অবসানের উল্লেখ করে বলেন, সরকার নৌবাহিনীকে একটি থ্রি ডাইমেনশনাল ফোর্স হিসেবে গড়ে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে নৌবাহিনীতে দু’টি সাবমেরিন অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার একটি আধুনিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের পদক্ষেপ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে চারটি এ্যাডভান্স লাইফ সাপোর্ট এ্যাম্বুলেন্স কেনা হয়েছে। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে টেলিমেডিসিন সিস্টেম চালু হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের গৃহায়ন সমস্যা সমাধানেরও পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার একটি আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে অব্যাহত প্রচেষ্টা চালাচ্ছে এবং এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। বর্তমান সরকারের মেয়াদেই এটি করা হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যখনি ক্ষমতায় আসে তখনি জনগণ কিছু না কিছু পায়।
প্রধানমন্ত্রী দেশের বর্তমান আর্থ-সামাজিক অবস্থা তুলে ধরে বলেন, দারিদ্রের হার হ্রাস পেয়ে ২২.৪২ শতাংশ হয়েছে। মাথা পিছু আয় বেড়ে ১,৩১৪ মার্কিন ডলার হয়েছে। বাংলাদেশ এখন খাদ্য রফতানি করছে। দেশের গড় প্রবৃদ্ধি হার ৬.৫ শতাংশ। রফতানি প্রবৃদ্ধি তিন দফা বেড়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী দেশের চলমান উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নিতে দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন।