Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ২:৫০ ঢাকা, সোমবার  ১৯শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

বাংলাদেশে ২০৬ কোটি মার্কিন ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ এসেছে

২০১৪ সালে বাংলাদেশে ২০৬ কোটি মার্কিন ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে।
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা আংটাডের ‘বিশ্ব বিনিয়োগ’ শীর্ষক প্রতিবেদনের তথ্যের সাথে দ্বিমত প্রকাশ করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ড (বিওআই) এই তথ্য জানিয়েছে।
বুধবার বিওআই সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আংটাড আনুষ্ঠানিকভাবে বিনিয়োগ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্ণর বলেন, সার্বিক এফডিআই গণনা হিসেবে ২০১৪ সালে বাংলাদেশের এফডিআইয়ের পরিমাণ ছিলো ২০৬ কোটি ডলার।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানী বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী। এতে সরকারী হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, বিওআই নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. এস এ সামাদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নাজনীন সুলতানা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে আংটাডের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম ইসমাইল হোসেন। এতে বলা হয়, ২০১৪ সালে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে এফডিআই বাড়লেও বাংলাদেশে কিছুটা কমেছে। প্রতিবেদেনের তথ্যমতে এ সময় বাংলাদেশে ১৫২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের এফডিআই এসেছে,অথচ ২০১৩ সালে এর পরিমাণ ছিলো ১৫৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী আংটাডের প্রতিবেদনের সাথে দ্বিমত প্রকাশ করে বলেন, এই প্রতিবেদন অসংগতিপূর্ণ। বাংলাদেশের এফডিআই গননায় সব তথ্য এখানে সন্নিবেশিত হয়নি। এখানে কেবলমাত্র নীট বিনিয়োগের হিসাব এসেছে।
তিনি বলেন, শেভরণ ২০১৪ সালে বাংলাদেশে ৫০ কোটি ডলারের যেসব যন্ত্রপাতি আমদানি করেছে, তার হিসাব এখানে নেই। সার্বিক বৈদেশিক বিনিয়োগের হিসাব করতে হলে জ্বালানী খাতের বিদেশী কোম্পানীসমূহ তাদের যন্ত্রপাতির পেছনে যে খরচ করছে, তা অব্যশই গননায় আনতে হবে।
আংটাডের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের হিসাবয়নের ক্ষেত্রে এফডিআইয়ের পরিমাণ সবসময় কম করে দেখানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, সার্বিক এফডিআই হিসাবয়ন কেবলমাত্র প্রকৃত এফডিআইয়ের চিত্র উঠে আসে।
এ সময় তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত কেন্দ্রিয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ও বিওআইয়ের বৈদেশিক বিনিয়োগ সংক্রান্ত হিসাব কমিটির চেয়ারম্যান নাজনীন সুলতানের কাছে বাংলাদেশের এফডিআইয়ের হিসাবের মেথোডলজি সম্পর্কে জানতে চান।
এর জবাবে নাজনীন সুলতানা বলেন, জ্বালানী খাতের বিদেশী কোম্পানীসমূহ যেসব যন্ত্রপাতি আমদানি করে, তার হিসাব এতদিন এফডিআইতে যোগ করা হতো না। এসব আমদানি করা যন্ত্রপাতি ব্যবহার শেষে আবার ফেরত নিয়ে যাওয়ার কারনে এফডিআই গননার ক্ষেত্রে একে বাদ রাখা হতো। তবে গতবছর থেকে আমরা সার্বিক (গ্রস) এফডিআই গননায় একে যুক্ত করছি। আর এটাই ঠিক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি জানান, সেই হিসেবে ২০১৪ সালে বাংলাদেশের এফডিআইয়ের পরিমাণ ছিলো ২০৬ কোটি ডলার।
তৌফিক-ই-এলাহী বলেন, বাংলাদেশে এখন চমৎকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বিরাজ করছে। এ কারণে যেসব বিদেশী কোম্পানীর এখানে আছে, তারা তাদের বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। তবে এ বছর বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০দলীয় জোটের ধ্বংসাত্বক কর্মসূচি বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে,আংটাডের প্রতিবেদনের তথ্যাদি উল্লেখ করে বিনিয়োগ বোর্ড পরে গনমাধ্যমে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠায়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ২০১৪ সালে বাংলাদেশে আসা সার্বিক এফডিআইয়ের পরিমাণ ছিলো প্রায় ২০৬ কোটি ডলার, নীট এফডিআই ১৫২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। নীট বিনিয়োগ হিসাবে ইক্যুইটি এসেছে ২৮ কোটি ৩ লাখ ডলার, বিদ্যমান বিদেশী কোম্পানীর পুন:বিনিয়োগ ৯৮ কোটি ৮৭ লাখ এবং ঋণ হিসেবে আসা এফডিআই ২৫ কোটি ৭৬ লাখ ডলার।
এফডিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে নীট বিনিয়োগ ম্যানুফেকচারিং খাতে ৭২ কোটি ২৮ লাখ, যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে ২৩ কোটি ৫০ লাখ, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পেট্রোলিয়াম খাতে ৪ কোটি ৯৮ লাখ, বাণিজ্য ৩৬ কোটি ৬৭ লাখ, কৃষিতে ৩ কোটি ১৫ লাখ ডলারের বিনিয়োগ এসেছে।