ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৬:৩৯ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলা ও শেখ হাসিনাকে উৎখাতের জন্য বর্ধমানে বিস্ফোরক তৈরি করা হচ্ছিল

শীর্ষ মিডিয়া ২২ অক্টোবর ঃ  পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আর এ ঘটনার তদন্ত করছে ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। অর্থাৎ দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।

বিস্ফোরণের ঘটনার পর তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দারা এখনো যতদূর এগিয়েছে তাতে তারা অন্তত এ বিষয়টিতে নিশ্চিত হয়েছে যে, ওইসব বিস্ফোরক বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর জন্যই তৈরি করা হচ্ছিল। তার মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনা সরকারকে বিপদে ফেলা। সম্প্রতি এই সংস্থাটির বরাত দিয়ে ভারতীয় একটি পত্রিকা এমনটাই দাবি করেছে।

ভারতের গোয়েন্দারা বলছে, বর্ধমানের ওই বাসাটি থেকে শেখ হাসিনাকে উৎখাত করার পরিকল্পনা হচ্ছিল। যেখানে গত ২ অক্টোবর বিস্ফোরণে নিহত হন দু’জন। আর এসব পরিকল্পনা করছিল জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)।

ওই ঘটনার পর ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন দেয় এনআইএ। ওই প্রতিবেদনে গোয়েন্দা সংস্থাটি বলেছে, জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদার শাখা আল জিহাদের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা জেএমবি সদস্যরাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। পশ্চিমবঙ্গের শাসক দলের এক স্থানীয় নেতা এ জঙ্গিদের থাকার জন্য বাড়িভাড়ার ব্যবস্থা করেছিলেন বলেও ওই গোয়েন্দা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে গোয়েন্দাদের দাবি, জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ ভারতের বিভিন্ন স্থানে ৫৮টি বোমা কারখানা চালু করেছে সম্প্রতি। তার মধ্যে ৪৩টি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলাতেই অবস্থিত। তৈরি হওয়ার পর এই বিস্ফোরক সম্ভবত আসামের ধুবড়ি হয়ে সীমান্তপারে পৌঁছাতো। সেগুলো দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাতের জন্য সময়মতো কাজে লাগানোর ছকও কষা হয়।

অপর একটি সূত্র জানায়, জেএমবির সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরও। কারণ ভারতে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশের পেছনে এ সংগঠনের ব্যাপক অনুদান রয়েছে। নারী জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য ভারতে বেআইনিভাবে প্রবেশের পেছনেও ছাত্র শিবিরের বড় ভূমিকা রয়েছে।

ওই সূত্র আরো দাবি করে, ১৯৯৮ সালে তামিলনাড়ুর কয়েম্বত্তুরে জঙ্গি হামলার পেছনে আল-উম্মাহ নামে যে জঙ্গি সংগঠন ছিল, তার সঙ্গেও ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্রত্যক্ষ যোগাযোগের কথা জানা গেছে। আল-উম্মাহ তামিলনাডুতে সেই জঙ্গি হামলার পর থেকেই নিষিদ্ধ।

এনআইএ জানিয়েছে, বাংলাদেশি এই উগ্রপন্থিরা পশ্চিমবঙ্গের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলকে তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য বেছে নিলেও তাদের কেন্দ্রস্থল ছিল মুর্শিদাবাদ। এই অঞ্চলে উগ্রপন্থিদের আনাগোনা শুরু হয় ২০১০ সাল থেকে। ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৮০ জন জঙ্গি বাংলাদেশ থেকে পরিকল্পনা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান নেয়। আর তাদের সহযোগিতা করতো স্থানীয়রাই।

জেএমবি সদস্যরা নিজেদের বেআইনি কার্যকলাপ গোপন রাখার জন্য ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করতো, যাতে কেউ তাদের সন্দেহ না করে। খাগড়াগড়ের বিস্ফোরণকাণ্ডে নিহত শাকিল আহমেদেরও সেরকম একটি জামাকাপড়ের দোকান ছিল। আর এই ব্যবসার আড়ালে চলতো বোমা তৈরির কাজ।  এঃসঃ ২১/১০