ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:০২ ঢাকা, রবিবার  ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

বাংলাদেশে শিক্ষা জাতীয় উন্নয়ন এজেন্ডার মূলভিত্তি

শিক্ষামন্ত্রী ও ইউনেস্কো’র ভাইস প্রেসিডেন্ট নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, বাংলাদেশে শিক্ষাকে জাতীয় উন্নয়ন এজেন্ডার মূলভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা বাস্তবায়নে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাকে মূলভিত্তি বিবেচনা করা হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার প্যারিসে ইউনেস্কো সদর দপ্তরে আয়োজিত ইউনেস্কো লিডার্স ফোরামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিনিধি হিসেবে বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষায় টেকসই বিনিয়োগের মাধ্যমে ইতোমধ্যে বাংলাদেশে প্রাথমিক স্তরে প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থী ভর্তি এবং মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ছাত্রছাত্রী সংখ্যা সমতা অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সমর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০১০ সাল থেকে বছরের প্রথম দিনে শেখ হাসিনার সরকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সকল ছাত্রছাত্রীকে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করে আসছে।
এ ধরণের কার্যক্রমকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, এ বছর তারা প্রায় ৩৩ কোটি পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করেছে। ২০১৬ সালে ৩৫ কোটি পাঠ্যবই বিতরণ করবে।
তিনি বলেন, দেশে ১ কোটি ৩৪ লাখ দরিদ্র শিক্ষার্থী সরকারের উপবৃত্তি সুবিধা পাচ্ছে, যার মধ্যে ৭৫ ভাগই ছাত্রী।
বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার নতুন প্রজন্মকে দক্ষ ও যোগ্য বিশ্বনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে মানসম্মত শিক্ষার প্রসারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিক্ষকের প্রশিক্ষণ, কারিগরি-বৃত্তিমূলক ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার প্রসার এবং মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নের বিষয়সমূহ তুলে ধরেন।
নারী শিক্ষার মাধ্যমেই বাল্যবিবাহ ও নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা রোধ এবং সমাজ উন্নয়নে নারীর ভূমিকা বিষয়ে গণমানুষের মনোভাব পরিবর্তন সম্ভব বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণে সরকার নারী শিক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে চলেছে।
ইউনেস্কোর স্থায়ী মূল্যবোধ এবং নব্য মানবতাবাদের আহবান উল্লেখ করে ইউনেস্কো’র এ ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, টেকসই উন্নয়ন এবং মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সকল দেশে মানসম্পন্ন একীভূত শিক্ষা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং একটি যুক্তিবাদী- বিশ্লেষণী দক্ষতা ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন মানবসম্পদ গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব প্রদান করা দরকার।
শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ মোকাবেলায় ইউনেস্কোর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখ করে বলেন, উগ্রজঙ্গীদের সঙ্গ থেকে দূরে রাখতে যুবসমাজকে মূলধারার সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে।
সন্ত্রাসী ও জঙ্গীরা কোনো দেশের সীমারেখায় সীমাবদ্ধ থাকে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সব ধরণের সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। দেশের ভেতরে সন্ত্রাসী চক্রসমূহকে কোনো ধরণের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।
নাহিদ তাঁর বক্তৃতায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবেলায় ইউনেস্কোর গৃহীত কর্মসূচি বিশেষ গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন।
প্যারিসে ইউনেস্কো লিডারস ফোরামে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সিস ওঁলাদ, মাল্টার প্রেসিডেন্ট মেরি লুইজ সোলিরো ফিকাসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দও বক্তব্য রাখেন।
গত ৪ নভেম্বর ইউনেস্কোর সাধারণ সম্মেলনে ৩৮তম অধিবেশনে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ২০১৫-২০১৭ মেয়াদে ইউনেস্কোর ভাইস-প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।