ব্রেকিং নিউজ

রাত ৮:১৬ ঢাকা, রবিবার  ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

বাংলাদেশে বিয়ের বয়স ১৮-১৬ করা নিয়ে সমালোচনায় ইইউ পার্লামেন্টের ওমেনস রাইটস

সম্প্রতি মন্ত্রী পরিষদে ছেলে ও মেয়ের বিয়ের বয়স পূণঃনির্ধারনের ব্যাপারে যে প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে এবং আলোচিতও হয়েছে, তা নিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ওমেন রাইটসের ভাইস চেয়ার বারবারা মাটিরা তীব্র সমালোচনা করেছেন। এ নিয়ে তিনি ১৮ নভেম্বর ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ম্যাগাজিন দ্য পার্লামেন্টে এক আর্টিক্যাল লিখেছেন যার শিরোনাম হলো-নিউ বাংলাদেশ ম্যারিজ ল ইজ এ ব্লাউ টু চিলড্রেন্স এন্ড ওমেন্স রাইটস।
 বারবারা দ্য পার্লামেন্টে লিখেছেন, বাংলাদেশ ছেলে মেয়ের বিয়ের বয়স সংশোধন করে নতুন আইন পাশ করতে যাচ্ছে যাতে নতুন করে নিয়ম করতে যাচ্ছে ১৮-১৬ বছর বয়সে যথাক্রমে বিয়ে করার আইনি অনুমতি।
বারবারা তার আর্টিক্যলে পরিষ্কারভাবে লিখেছেন এর ফলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ছেলে মেয়ের বিয়ের বয়স নির্ধারনে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে যে কমিটম্যান্ট করেছে, তা থেকে সরে আসছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
 বারবারা তার নিবন্ধে পরিসংখ্যান দিয়ে লিখেছেন বাংলাদেশে যেখানে ৬৬% মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায় ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই, তিনভাগের একভাগ মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায় ১৫ হওয়ার আগে, ২০ বছঢ় বয়স হওয়ার আগে ৭৪%, আর ১৮ হওয়ার আগে ৪৯% মেয়েদের বিয়ে হওয়ার রেওয়াজ চালু রয়েছে বলে তিনি তার নিবন্ধের পরিসংখ্যানে উল্লেখ করেছেন।
 বারবারা বলছেন এর ফলে নারীদের শিক্ষা সহ মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুকির মূল কারণ এখানেই নিহিত। তিনি ইউনিসিফের রিপোর্ট উল্লেখ করে দ্য পার্লামেন্ট ম্যাগাজিনে লিখেছেন ইউনিসেফ বলছে ৪৫% নারীদের ক্ষেত্রে সেকেন্ডারি স্কুলে এনরোল করা হয় অথচ তাদের খুব কম সংখ্যক উপস্থিতি থাকে সেকেন্ডারী স্কুলে। তারমতে বাংলাদেশের ১৫-১৯ বছর বয়সী নারীরা মাতৃঝুকির মধ্যে থাকে, কম বয়সে প্রেগন্যান্ট হওয়ার কারণে।
 বারবারা দ্য পার্লামেন্ট ম্যাগাজিনে এই পর্যায়ে এসে লিখেছেন, গত জুলাই মাসে গার্ল সামিটে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে বাল্য বিবাহ কমিয়ে আনার অঙ্গীকারাবদ্ধ বা ঘোষণা শুনিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক কমিউনিটিকে।
 বারবারা শেখ হাসিনাকে কোট করে লিখেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের ছেলে মেয়ের বিয়ের আইনি বয়স সীমা কমিয়ে আনার পদক্ষেপ এটাই প্রমাণ করে বাংলাদেশ বর্তমানে তার ইতোপূর্বে করা কমিটম্যান্টের বিপরীতে কাজ শুরু করেছে।
 বারবারা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মুখপাত্রের এনালাইসিসের সূত্রে এই পদক্ষেপকে ভালনারেবল হিসেবে উল্লেখ করে লিখেছেন, বাংলাদেশের এহেন পদক্ষেপ লাখো লাখো ছেলে মেয়েদের সুস্থ্য ও স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনে আরো ঝুকির মধ্যে ফেলে দিবে, যে সামান্য উন্নতি পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা থেকে পেছনে নিয়ে যাবে।
 সব শেষে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে এ বিষয়ে ক্লোজলি মনিটরিং করার পরামর্শ দিয়ে লিখেছেন, এশিয়ার এই দেশ বাংলাদেশ যাতে  তরুণ তরুণীদের জীবন মান উন্নয়নে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে কমিটম্যান্ট করেছে তা রক্ষা করে বা মেনে চলে কিনা খতিয়ে দেখা একই সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ ব্যাপারে বাংলাদেশকে যে ফান্ড দিয়েছে তার যথাযথ ব্যবহারের ব্যাপারে পূর্ণ সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
 উল্লেখ্য বারবারা মাটেরা ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ওমেনস রাইটস এবং জেন্ডার ইকুয়ালিটি কমিটির ভাইস চেয়ারের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি গ্রুপ অব দ্য ইউরোপীয়ান পিপলস পার্টি থেকে আগত। একজন ক্রিস্টিয়ান ডেমোক্রেটস। এই কমিটির চেয়ার হচ্ছেন স্পেনের ইরাক্সি গার্সিয়া পেরেজ- তিনি গ্রুপ অব দ্য প্রোগ্রেসিভ এলায়েন্স অব সোশ্যালিস্ট এন্ড ডেমোক্রেটস এন দ্য ইউরোপীয়ান পার্লামেন্ট এর সদস্য।

এই প্রতিবেদন Like & Share করুন।