ব্রেকিং নিউজ

রাত ১০:১৬ ঢাকা, বুধবার  ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

আমির হোসেন আমু
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। ফাইল ফটো

‘বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত’- শিল্পমন্ত্রী

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে বিদেশি বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, পাশাপাশি অর্জিত মুনাফা নিজ দেশে স্থানান্তরের সুযোগ রয়েছে।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সবসময় বহিঃবাণিজ্য ও বিদেশী বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে। তিনি বলেন, জাতীয় অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার দেশীয় উদ্যোক্তাদের মতো বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও সমান ইনসেনটিভ দিচ্ছে।

শিল্পমন্ত্রী সোমবার ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম বা বিশ্ব বিনিয়োগ সম্মেলন-২০১৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে এ কথা বলেন।
নাইরোবীর কেনিয়া ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনিয়াত্তা, জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুন, জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা আঙ্কাড-এর মহাসচিব ড. মুখিসা কিটুইসহ বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, বিনিয়োগকারী, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। সমুদ্র ও আকাশ পথে সহজে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিশ্রমী জনবল, প্রাকৃতিক গ্যাস, মিঠা পানি, উর্বর জমি, অনুকূল আবহাওয়া ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বাংলাদেশকে বিনিয়োগের উৎকৃষ্ট স্থানে পরিণত করেছে।

তিনি বলেন, দেশের প্রায় ১৬ কোটি ভোক্তা এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশে বিনিয়োগের ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও ৬ শতাংশের বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রেখে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে উন্নয়নের মিরাকল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আমির হোসেন আমু বলেন, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রচুর অর্থনৈতিক সহায়তা দরকার। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বর্তমানে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ হলেও এসডিজি লক্ষ্য অর্জনে বছরে ৩ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোর সহায়তার পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যেও আন্তঃবিনিয়োগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক প্রযুক্তি এবং কারিগরি সহায়তা জোরদার করতে হবে। এ লক্ষ্যে তিনি জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থার কার্যকর ভূমিকা কামনা করেন।

পরে মন্ত্রী ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট আয়োজিত ‘ডেভলপমেন্ট অব সাউথ-সাউথ প্রিন্সিপালস্ অন ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট ফর সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেবেন।

মন্ত্রী নাইরোবীর স্টেনলে হোটেলে অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এ লক্ষ্যে তিনি আঙ্কাড ইনভেস্টমেন্ট পলিসি ফ্রেম ওয়ার্কের আওতায় সাউথ-সাউথ কো-অপারেশন জোরদার এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে বিনিয়োগ সম্পর্কিত আইন ও নীতিমালা সংস্কারের তাগিদ দেন।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ কথা বলা হয়।