Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৩:৩০ ঢাকা, সোমবার  ১৯শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

‘বাংলাদেশে গৃহযুদ্ধ ও চরমপন্থীদের উত্থানের আশঙ্কা’

Like & Share করে অন্যকে জানার সুযোগ দিতে পারেন। দ্রুত সংবাদ পেতে sheershamedia.com এর Page এ Like দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকতে পারেন।

 

সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে যাওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সংসদ সদস্য ইওসেফ ভাইডেনহলৎসার বলেছেন, “বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খুবই উত্তেজনাপূর্ণ। দুর্ভাগ্যবশত, পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে তা নেতিবাচক। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সন্তোষজনক নয়। উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমনকি তা গৃহযুদ্ধে গড়াতে পারে। আর এর সুযোগ নিতে পারে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো”
বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মানবাধিকার সাব-কমিটির শুনানিতে বাংলাদেশ সফরে ইইউ প্রতিনিধি দলের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মানবাধিকার সাব কমিটির চেয়ার এলেনা ভ্যালেন্সিয়ানোর সভাপতিত্বে শুনানি অনুষ্ঠিত হয় বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে। মূলত বাংলাদেশ বিষয়ে এ বৈঠকে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আরও বক্তব্য রেখেছেন, বাংলাদেশে আসা ইইউ প্রতিনিধি দলের আরেক সদস্য ক্যারোল কারস্কি ও ইউরোপিয়ান এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস (ইইএএস)-এর পক্ষ থেকে টমাস নিকলসন।
শুনানিতে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীর বিচার, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার, এনজিওগুলোর জন্য বিদেশি অনুদান আইনের বিষয় ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ বেশ কিছু বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
ইওসেফ ভাইডেনহলৎসার তার বক্তব্যে বলেন, “৫ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ জুড়ে সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৬০ জনের বেশি মারা গেছে। বিরোধী দলের ৭-১০ হাজার কর্মী গ্রেফতার ও কারারুদ্ধ। তারা নতুন নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু সরকারের দাবি তারা বৈধভাবে নির্বাচিত। কাজেই এ সংঘাত, এ দ্বন্দ্ব সমাধান করাটা কঠিন। উভয় পক্ষ তাদের অবস্থানে অনড়। যেসব যুক্তিতর্ক তাদের পক্ষ থেকে প্রদর্শন করা হয়েছে তা হলো- বর্তমান পরিস্থিতির ব্যাখ্যা হিসেবে অতীত ঘটনাপ্রবাহ উপস্থাপন করা। সত্যি কথা বলতে আমরা সমঝোতার কোনো সুযোগ দেখিনি। প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থানে অটল।”
তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো ছাড়াও আমরা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেছি। স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেছি। ড. ইউনূসের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছে। সাংবাদিক, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়সহ অন্যদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। সাধারণভাবে বলতে গেলে সবার বক্তব্য হলো- সামনের সপ্তাহগুলোতে তেমন কিছু পরিবর্তন হবে না। আর সেকারণে উত্তেজনা বাড়তে পারে। এমনকি তা গৃহযুদ্ধে গড়াতে পারে।”
ইওসেফ বলেন, “আমার ব্যক্তিগত অভিমত হলো- যেটাই হোক না কেন, যে দিকেই যাক না কেন- পরিস্থিতি যদি এমন হয়ে যায় যেখানে বিরোধী দলকে স্রেফ কোণঠাসা করে দেয়া হয়েছে, তাদের আর কোন সম্পৃক্ততা নেই- যদি এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তাহলে আমি মনে করি যেটা হবে তা হলো- অন্য শক্তিগুলো সেই শূন্যতা পূরণ করতে পারে। এক্ষেত্রে সন্ত্রাসীদের প্রসঙ্গ আসতে পারে। সেটা একটা বড় ধরনের ঝুঁকি। সামনের মাসগুলোতে বড় শঙ্কা রয়েছে। চরমপন্থি দলগুলোর উত্থান হতে পারে। আর এ ধরনের দলগুলো কারও সঙ্গে সহযোগিতা চায় না। এটা সত্যিই উদ্বেগের একটি বিষয়। আর এ কারণে দেশটির সঙ্গে আরও বেশি কাজ করা প্রয়োজন।”
ইওসেফ আরও বলেন, “গতকাল আমরা জেনেছি যে, বিরোধী দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তবে তা এখনও বাস্তবায়ন হয় নি। তবে এটা পরিস্থিতি উসকে দেবে। বিরোধী দলের নেতাকে গ্রেফতার করা হলে তা পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে উসকে দেবে বলে আমার আশঙ্কা। দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। তবে আমি মনে করি তাকে গ্রেফতার করা হলে, তা খুবই সমস্যা সৃষ্টি করবে।”
শুনানিতে ইউরোপিয়ান এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস (ইইএএস) এর টমাস নিকলসন বলেন, “বাংলাদেশে সফরকারী প্রতিনিধি দলের মতো আমরাও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন। নির্বিচার সহিংসতা, রাজনৈতিক নেতাদের গণগ্রেফতার আর সংলাপের দিকে যেতে প্রধান দুই দলের মধ্যে আপাত অনাগ্রহ ও জটিলতার বিষয়গুলো নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। এগুলো সত্যিই উদ্বেগের বিষয়।”
শুনানিতে পূর্বনির্ধারিত অপর প্রসঙ্গগুলোতে যাওয়ার আগে কমিটির চেয়ার এলেনা ভ্যালেন্সিয়ানো বাংলাদেশে সফরকারী  ইইউ প্রতিনিধি দলের প্রত্যেক সদস্যকে ধন্যবাদ জানান এবং আগামী মাসগুলোতে বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।