ব্রেকিং নিউজ

রাত ১০:৫৩ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

এ্যামনেস্টি
এ্যামনেস্টি

বাংলাদেশে গুম ৪০, মিডিয়া চাপে, বিরোধীদলের শত শত সমর্থক গ্রেফতার : অ্যামনেস্টি

সরকারবিরোধী প্রচারণার প্রেক্ষাপটে যাত্রীবাহী বাস ও অন্যান্য যানবাহনে পেট্রোল বোমা দিয়ে হামলায় কয়েক ডজন লোক নিহতের ঘটনা উল্লেখ করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে বাংলাদেশে নিরপেক্ষ মিডিয়া প্রচণ্ড চাপে রয়েছে। মুক্ত মত প্রকাশের ক্ষেত্রকে করা হয়েছে সীমাবদ্ধ। বিরোধীদলের শত শত সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৪০ জনেরও বেশি মানুষ গুম হয়েছে।

বিদেশী নাগরিকদের ওপর হামলা হয়েছে। হত্যা করা হয়েছে ইতালির একজন এনজিওকর্মী ও এক জাপানিকে। হামলা হয়েছে ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগার ও প্রকাশকদের ওপর। এতে কমপক্ষে ৫ জন নিহত হয়েছেন।

বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব কথা বলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিষ্ঠান অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

২০১৫ সালে ঘটে যাওয়া ঘটনার ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা অংশে বলা হয়েছে, সরকারের সমালোচনা করে এমন নিরপেক্ষ মিডিয়া রয়েছে প্রচণ্ড চাপের মুখে।

নভেম্বরে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সুপারিশ করে জাতীয় সংসদের সমালোচনা করার জন্য, দুর্নীতি বিরোধী এনজিও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের নিবন্ধন বাতিল করা উচিত। বিচার সুষ্ঠু হয়নি বলে সমালোচনা করেছিলেন সুশীল সমাজের এমন ৪৯ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঢাকার একটি আদালত আদালত অবমাননার অভিযোগ এনেছেন। নভেম্বরে সরকার সামাজিক যোগাযোগ মিডিয়া ও অন্যান্য যোগাযোগ মিডিয়া বন্ধ করে দেয়। এটা মত প্রকাশের স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ করে দেয়া বলে মন্তব্য করেছে অ্যামনেস্টি।

এতে আরও বলা হয়, গত বছর নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ মত প্রকাশের কারণে ব্লগারদের ওপর হামলা চালায় কট্টরপন্থি গ্রুপগুলো।

ফেব্রুয়ারিতে অভিজিত রায়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা রক্ষা পান। আগস্টে তিন ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান, নিলয় নীল ও অনন্ত বিজয় দাসকে হত্যা করা হয়। অক্টোবরে ধর্মনিরপেক্ষ সাহিত্যের এক প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দিপনকে হত্যা করা হয়। এ হামলায় রক্ষা পান দু’ ধর্মনিরপেক্ষ লেখক।

অ্যামনেস্টি বলছে, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে লেখা প্রকাশের মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকার ব্লগার ও প্রকাশকদের অভিযুক্ত করেছেন।

গুম প্রসঙ্গে অ্যামনেস্টি তার রিপোর্টে বলেছে, সাদা পোশাকে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কয়েক ডজন মানুষকে গ্রেফতার করেছে। পরে তারা কোথায় সে বিষয়ে তারা কিছু জানে না বলে দাবি করেছে

জাতীয় পত্রিকাগুলোর ওপর এক জরিপ চালিয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্র ইঙ্গিত দিয়েছে, কমপক্ষে ৪৩ জনকে গুম করা হয়েছে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে। এর মধ্যে রয়েছেন দু’জন নারী। গুম হওয়া ৪৩ জনের মধ্যে পরে ৬ জনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তুলে নেয়ার পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে ৪ জনকে। ৫ জনকে পাওয়া গেছে পুলিশি নিরাপত্তায়। বাকি ২৮ জন কোথায় বা তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা জানা যায়নি।  

 

https://www.amnesty.org/en/countries/asia-and-the-pacific/bangladesh/report-bangladesh/