ব্রেকিং নিউজ

রাত ৪:৫১ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

বাংলাদেশের সকল সাফল্যের মূল নায়ক আওয়ামী লীগ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের মাটি ও মানুষ থেকে জন্ম নেয়া দল। বঙ্গবন্ধু তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা ও সীমাহীন আত্মত্যাগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের মতো একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন বলেই বাংলাদেশকে স্বাধীন করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশকে স্বাধীন করার লড়াইয়ে আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশের জনগণই ছিলো তাঁর মূল শক্তি। আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিপুল সমর্থনের কারণেই স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করতে পেরেছিলেন।
দেশের সবচেয়ে পুরনো রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের সকল অর্জন ও সাফল্যের মূল নায়ক হচ্ছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল বিশ্বের একটি মডেলে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২১ সালে বাংলাদেশকে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আগামি তিন বছরে দারিদ্র্যের হার ১৪ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যেও সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন।
অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, বিশিষ্ট সাংবাদিক আবেদ খান ও দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক।
অনুষ্ঠানে দলের আইসিটি বিষয়ক সম্পাদক ইয়াফেস ওসমান স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন।
বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দলের ভূমিকার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯০ সালে এরশাদের স্বৈরশাসনকে উৎখাত করে জনগণের ভোট ও রুটি রুজির অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়ার সরকারকে পরাজিত করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণ করে।
দলের প্রতিষ্ঠাতা এবং দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ দিনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ উপমহাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল।
তিনি বলেন, পাকিস্তানি শাসকরা যখন বাঙালি জাতির অস্তিত্ব ধ্বংস করে দেয়ার চক্রান্তে লিপ্ত তখন বঙ্গবন্ধু এ দল গঠন করেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নির্দেশে আওয়ামী লীগ গঠন করা হয়।
তিনি বলেন, শুরু থেকে আওয়ামী লীগ গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় লড়াই চালিয়ে আসছে। ১৯৫৪ সালে যুক্ত ফ্রন্ট নির্বাচনে এ দল মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৫০ সালে এ দেশের জনগণের আশা-আকাংখার প্রতিফলন ঘটিয়ে আওয়ামী লীগ একটি ধর্মনিরপেক্ষ দল হিসেবে আভির্ভূত হয়। ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং ভাষা শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় শহীদ মিনার নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ করে।
শেখ হাসিনা ১৯৫৭ সালে আওয়ামী লীগ থেকে মাওলানা ভাসানীর চলে যাওয়ার কথা স্মরণ করে বলেন, সে সময় দলকে তৃণমূল পর্যায়ে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে সার্বক্ষণিক সময় দেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর কাছে মন্ত্রিসভার সদস্য থাকার চেয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করা ছিলো গুরুত্বপূর্ণ।
শেখ হাসিনা বলেন, বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামকে পেছনে ফেলে রেখে বঙ্গবন্ধু আইন বিষয় নিয়ে পড়তে ইংল্যান্ড যেতে অস্বীকৃতি জানান।
বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল বানচাল করে দেয়ার পাকিস্তানি শাসকদের চক্রান্ত সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু পুরোপুরি সচেতন ছিলেন। তাই তিনি দেশে-বিদেশে পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের উপযুক্ত করে আওয়ামী লীগকে প্রস্তুত করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে পরিচালিত অসহযোগ আন্দোলন ছিলো বিশ্বের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সে সময় পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি নির্দেশ পালন করে।
শেখ হাসিনা আরো বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কাল্্রাতে বঙ্গবন্ধু যখন গ্রেফতার হন, তখন তিনি দেশের স্বাধীনতার ব্যাপারে দৃঢ় আস্থাশীল ছিলেন। পাকিস্তানের কারাগারে তিনি যখন বিচারের সম্মুখীন তখনও ভেঙ্গে পড়েননি। বঙ্গবন্ধু তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের ত্যাগ ও নিষ্ঠার ব্যাপারে আস্থাশীল ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ জাতির জন্য শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতা আনেনি, জাতির অর্থনৈতিক মুক্তিও এনেছে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত করার লড়াইও সফল হবে।