ব্রেকিং নিউজ

রাত ৩:৪৯ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

বাংলাদেশের সকল অর্থনৈতিক সূচক উন্নতির দিকে: ডিজি বিজিবি

বাংলাদেশের সকল অর্থনৈতিক সূচক উন্নতির দিকে, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে চলেছে। তাই বাংলাদেশ থেকে ভারতে অবৈধ মাইগ্রেশনের কোন কারণ নেই।
বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) এবং ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) চার দিনব্যাপী মহাপরিচালক পর্যায়ের সমন্বয় সম্মেলনের শেষ দিনে বৃহস্পতিবার বিএসএফ-এর হেড কোয়ার্টারে আয়োজিত সংবাদ সংম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে বিজিবি’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজীজ এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, উন্নত চিকিৎসা বা আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করার জন্যে কিছুদিনের জন্যে কেউ কেউ আসতে পারে, স্থায়ীভাবে বসবাস করার জন্যে অবশ্যই নয়। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, টুরিস্ট ভিসা পাওয়ার থেকে মেডিক্যাল ভিসা পাওয়া অনেক কঠিন। এনিয়ে আমারা হাই কমিশনের সাথে কথা বলেছি।
তিনি বলেন, ভিসা পাওয়া সহজ হয়ে গেলে সীমান্তে অবৈধ যাতায়াত আরো কমে যাবে। বাংলাদেশ থেকে ভারতে অবৈধ মাইগ্রেশন সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে বিএসএফ ডিজি বলেন, প্রতিবছর কতলোক আসে আমাদের কাছে কোন পরিসংখ্যান নেই। তবে ধরা পড়লে আমরা তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে থাকি।
চার দিনব্যাপী বিজিডি ও বিএসএফ-এর মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদশের ২২ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনালেন আজীজ এবং ভারতের ২৪ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিএসএফ-এর মহাপরিচালক ডি কে পাঠক।
সম্মেলনে সম্পতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদশ সফরের মধ্যদিয়ে উভয় দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার যে বাতাবরণ তৈরি হয়েছে তা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
চোরাচালান, মানব পাচার, সীমান্তে অবৈধ যাতাযাত, ফেক নোট, ফেন্সিডিল পাচারসহ সীমান্ত অপরাধ বন্ধ করার জন্যে সীমান্ত ব্যবস্থাকে আরো উন্নত ও কার্যকর করার জন্যে সীমান্তে পেট্রোল বাড়ানো, ঘটনা ঘটার সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়া, সীমান্তবাসীকে সচেতন করে তোলা এবং উভয় দেশের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের ব্যাপারে সম্মেলনে ঐক্যমত প্রকাশ করা হয়। সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার ব্যাপার উভয়ই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিজিবি প্রধান আজীজ সীমান্ত হত্যা হ্রাস পাওয়ায় বিএসএফ’কে ধন্যবাদ জানান এবং তা শূন্য পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্যে কতিপয় ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন।
বিএসএফ প্রধান ভারতে সন্ত্রাসী অনুপ্রবেশ বন্ধ করার জন্যে সহযোগিতার জন্যে বিজিবি ভূমিকার প্রশংসা করে আরো সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। এ প্রসঙ্গে বিজিপি প্রধান বলেন, আমাাদের বর্তমান সরকারের নীতিই হচ্ছে প্রতিবেশী দেশে সন্ত্রান্ত্রী কার্যকলাপ চালানোর জন্যে বাংলাদেশের ভূমি কাউকে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। আমরা যে কোন মূল্যে এই নীতি কার্যকর করতে বন্ধপরিকর ।
ফেলানী হত্যাকান্ড প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে বিএসএফ ডিজি ডি কে পাঠক বলেন, আমরা ফেলানীর বিষয়ে ফাইনাল রিপোর্ট পাই নাই, তাই এই বিষয়টি নিয়ে সেভাবে আলোচনা হয়নি। তবে বিজিবি প্রধান বলেন, বিএসএফ’র ফাইনাল রিপোর্ট পাইনি। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছি, আমরা ফেলানীর পরিবারবারে সাথে মিডিয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে কথা বলবো। তারা যদি অসন্তোষ প্রকাশ করে তাহলে বিএসএফ’কে জানাব। বিএসএস ডিজি সেই রকম পরিস্থিতি হলে নতুনভাবে বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন।
গরু চোরাচালান প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে বিএসএফ ডিজি বলেন, গরু চোরাচালান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। গত বছর যেখানে ছিলো প্রায় ২০ লাখ, এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪ লাখে ।
এ ব্যাপারে ডিজি বিজিবি বলেন, এটা বাংলাদেশেরর জন্যে সুযোগ এনে দেবে। আমরা একসময় খাদ্য আমদানী করতাম এখন রফতানী করি। ভারত থেকে চোরাপথে গরু আসা বন্ধ হলে আমদের দেশের কৃষকরা গো-সম্পদ উৎপাদনে উৎসাহিত হবেÑ ফলে দেশ লাভবান হবে।
সীমাস্ত চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে সীমান্তে অপরাধ কমে যাবে বলে বিজিবি এবং বিএসএফ প্রধান আশা করেন।
সম্মেলনে বিএসএফ এবং বিএসএফের মধ্যে ফোর্স সুটিং কম্পিটিশন খেলাধূলা বৃদ্ধি এবং সফর বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।