Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ৪:২৪ ঢাকা, মঙ্গলবার  ১৩ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

‘বাংলাদেশের যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় সক্ষমতা আছে’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভকারী বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও বিজয়ী দেশ হিসেবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের মাঝে বেঁচে থাকবে।

তিনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে আমরা বিজয়ী জাতি। বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের জায়গা নয়। বাংলাদেশের মাটিতে সন্ত্রাসবাদের কোন স্থান হবে না।’

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ঘটে যাওয়া কিছু সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ভাগ্য আমাদের এসব ঘটনায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি কিছুটা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। কিন্তু এ ধরনের যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশের সক্ষমতা রয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও বিষয়টি বুঝতে পেরেছে যে, বাংলাদেশ যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারবে। শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে এবং বর্তমান সরকার স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে জনগণের মাঝে স্বাধীনতার সুফল পৌঁছে দেয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

pm433

প্রধানমন্ত্রী আজ প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর)-এর ৪১তম প্রতিষ্ঠবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত পিজিআরের সদর দফতরে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী পিজিআর সদর দফতরে পৌঁছুলে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মুহাম্মদ শফিউল হক এবং পিজিআর কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর হারুন তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর প্রধানগণ, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার ও উর্ধ্বতন সামরিক এবং বেসামরিক কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

পিজিআর কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর হারুনও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী পিজিআর কর্মকর্তা ও জুনিয়ার কমিশন্ড অফিসারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় পিজিআর কন্টিনজেন্টের একটি চৌকস দল প্রধানমন্ত্রীকে সালাম জানান।

শেখ হাসিনা শহীদ পিজিআর সদস্যদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের মাঝে কিছু উপহার সামগ্রী প্রদান করেন। তিনি এ উপলক্ষে আয়োজিত মধ্যাহ্ন ভোজসভায় যোগ দেন।

নিরাপত্তা বাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কোন ধরনের নিরাপত্তা হুমকি ও সন্ত্রাসী হামলা মোকাবেলায় তাদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও কৌশল সম্পর্কে জানতে হবে।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসীরা অপরাধের ধরন পাল্টাচ্ছে এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অত্যধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। কাজেই প্রত্যেককে বিশেষ করে নিরাপত্তায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে আধুনিক প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘সময়ের ব্যবধানে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পিজিআর সদস্যদের দক্ষতা, কর্মকৌশল বিবেচনায় সময় উপযোগী হয়ে উঠতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি সবসময় পিজিআর সদস্যদের পাশে আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, পিজিআর সদস্যরা দেশের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বদা আন্তরিক ও নিবেদিতপ্রাণ।

৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পিজিআর সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীার তত্ত্বাবধানে ঐতিহ্যবাহী ও মর্যাদাশীল এই বাহিনীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে তিনি খুব আনন্দিত।

তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে এ বাহিনী প্রতিষ্ঠা করেন।

pm434

পিজিআর বাহিনীকে মেধাবী বাহিনী হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সময়ের বিবেচনায় এ বাহিনী নিজেদের কর্মদক্ষতা ও যোগ্যতায় সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের মধ্য থেকে বিশেষ নির্বাচনী পদ্ধতিতে নির্বাচিত পিজিআর সদস্যরা ভালোভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রত্যেককেই স্বীকার করবেন যে, বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি পালনে পিজিআর সদস্যরা নিরাপত্তায় রক্ষাকবচ হিসেবে ভূমিকা পালন করেন। ‘সরকার প্রধান হিসেবে আমি খুব কাছ থেকে আপনাদের দায়িত্ব, কঠোর পরিশ্রম এবং আন্তরিকতা দেখেছি। এ জন্য আমি খুবই সন্তুষ্ট।’

প্রধানমন্ত্রী আস্থা প্রকাশ করে বলেন, পিজিআর সদস্যরা সব সময় পেশাগত সমন্বয়, অনুগত, নিয়মানুবর্তিতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের কষ্টার্জিত ভাবমূর্তি বজায় রাখবেন।

পিজিআর সদস্যদের কল্যাণে তাঁর সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে তাঁর সরকার এ বাহিনীর জন্য ঝুঁকি ভাতা চালু করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে গণভবনে আমরা একটি আধুনিক সৈনিক ব্যারাক তৈরি করেছি এবং তা উদ্বোধনও করা হয়েছে। এতে গণভবনে গার্ড সদস্যদের দীর্ঘদিনের বাসস্থান সমস্যা দূর হয়েছে। সেনানিবাসে গার্ড পরিবারের জন্য আলাদা পারিবারিক বাসস্থান নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। আমি সবসময় চাই আপনারা আধুনিক পরিবেশে ভাল থাকুন।

দেশের জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার দেশের উন্নয়নের স্বার্থে দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য সবকিছু করবে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উন্নয়নে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণে কাজ করে যাবে।

FOLLOW US: