Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ২:১৬ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২২শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

তোফায়েল আহমেদ
যৌথ প্রেস ব্রিফিং

বাংলাদেশের বাণিজ্য পরিবেশ উন্নয়নে ইইউ’র সন্তোষ প্রকাশ

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশের বাণিজ্য পরিবেশ উন্নয়নে সন্তোষ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইইউ’র সাথে বাণিজ্য ক্ষেত্রে চলমান সমস্যা চিহ্নিত করে তা যুক্তিসংগত সমাধানের জন্য সঠিত ৫টি ওয়ার্কিং গ্রুপ সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘দ্বিতীয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন- বাংলাদেশ বিজনেস ক্লাইমেট ডায়ালগ’- শেষে যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।

তোফায়েল আহমেদ ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সাথে চলমান বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরো বৃদ্ধি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জানিয়ে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইউরোপীয় ইউনিয়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ফার্মাসিটিক্যাল সেক্টর, ফাইনান্সিয়াল ফ্লো, ইমপোর্ট ডিউটি কাস্টমস ট্রেড ফেসিলিটেশন, লাইসেন্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন দি সার্ভিস সেক্টর এবং ট্যাক্স রিজিম বিষয়ে ৫টি ওয়াকিং গ্রুপ কাজ করে যাচ্ছে। আলাপ আলোচনার মাধ্যমে চলমান সমস্যাগুলো সমাধান করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, একক দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশের সাথে চলমান বাণিজ্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু। ইইউ বাংলাদেশকে ইবিএ অর্থাৎ এভরিথিং বাট আর্মস-এর আওতায় বাংলাদেশকে সকল পণ্য রপ্তানিতে ডিউটি ও কোটা ফ্রি সুবিধা দিচ্ছে। বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে কৃতজ্ঞ। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা একজন ভিশনারি লিডার। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পুর্তিতে ২০২১ সালে দেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ পরিণত এবং ডিজিটার বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন।

তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব। দেশ ইতোমধ্যে একটি নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে পরিনত হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নের পর সপ্তম পঞ্চ-বার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন চলছে। ২০২১ সালে দেশের রপ্তানি ৬০ বিমিলয় মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ৫০ বিলিযন মার্কিন ডলার আসবে তৈরী পোশাক থেকে।

প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১০০টি স্পেশাল ইকনমিক জোন ঘোষণা করেছেন। এগুলোর উন্নয়ন কাজ চলছে। একটি ইকোনোমিক জোনে ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন বিনিয়োগ করলে সরকার চাহিদা মোতাবেক সবধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।
ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের হেড অফ ডেলিগেশন পিয়েরে মায়াদুন বলেন, বাংলাদেশের সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্য বিষয়ে সন্তোষজনক আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্য ক্ষেত্রে বিভিন্ন জটিলতা দূর ও সহজ করতে দ্বিপাক্ষিক সন্তোষ জনক আলোচনা হয়েছে। ওয়াকিং গ্রুপগুলো আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে। এ আলোচনা অব্যাহত থাকবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে আগ্রহী। বাংলাদেশেল উন্নয়নে ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন খুশি।

সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়ন সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুনসহ বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদুন-এর নেতৃত্বে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত সোপিয় প্রিনজি, জার্মানির রাষ্ট্রদূত থমাস হেইনরিচ প্রিনজ, স্পেনের রাষ্ট্রদূত এডুয়ার্ডো ডেল রোয়াসাল ডি লেইগেলসিয়া, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত জন ফেরিসিল মিকাইল, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত হেমনিটি উইনঠার, নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত লিওনি কিউলেনাএরা এবং যুক্তরাজ্যের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত মার্ক ক্লেইটনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।