ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৪:২৮ ঢাকা, রবিবার  ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

‘বাংলাদেশের আইসিটি খাতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের প্রস্তাব দঃ কোরিয়ার’

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশে আইসিটি খাতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের বন্ধুরাষ্ট্র- একথা উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দু’দেশের বাণিজ্য ব্যবধান কমাতে দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশকে ৪ হাজার ৮০০টি পণ্য রফতনিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান করেছে। বাংলাদেশের মোট রফতানির ৯০ ভাগ এখন শুল্কমুক্ত রফতানি সুবিধা পাচ্ছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত আহন সিঅং-দু’র সঙ্গে মতবিনিময় করে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ঢাকা ইডিপজেডে দক্ষিণ কোরিয়ার অনেক বিনিয়োগ রয়েছে। চট্রগ্রাম কোরিয়ান ইপিজেডে (কেইপিজেড) কোরিয়ার ২২টি কারখানায় প্রায় ৫৫ হাজার কর্মী কাজ করছে এবং প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ইউএস ডলার রফতানি হচ্ছে। বাংলাদেশে এখন বিনিয়োগের জন্য খুবই উপযোগী। বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণীয় সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ বাড়লে উভয়দেশ উপকৃত হবে এবং বাণিজ্য ব্যবধান কমবে।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধি করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কেইপিজেড-এর জটিলতা দূর হলে বাংলাদেশই বেশি লাভবান হবে। বিভিন্ন লেদার ফ্যাক্টরি এবং স্যামস্যাংসহ দক্ষিণ কোরিয়ার বড় বড় কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক অংশিদার। দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছে এবং আগামীতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করবে। বিশেষ করে আইসিটি খাতে। এ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের আইসিটি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিনিয়োগ বিষয়ে সম্ভাবনা ও বিভিন্ন বিষয়ে সেমিনারে আলোচনা হয়েছে। এতে বাংলাদেশের ৮০টি প্রতিষ্ঠান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ৩০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। আগামী অল্প দিনের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় এ ধরনের আরো একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো অংশ নিবে। দক্ষিণ কোরিয়া যৌথভাবে আইসিটি খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশ সরকারের ভিশন ২০২১ এবং ২০৪১ সফল করতে সহযোগিতা দিয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, গত অর্থ বছরে বাংলাদেশ দক্ষিণ কোরিয়ায় রফতানি করেছে ১৭৪.৩৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার মূল্যের পণ্য, একই সময়ে বাংলাদেশ আমদানি করেছে ১২১৪.৯০ মিলিয়ন ইউএস ডলার মূল্যের পণ্য। বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৯৪৫.৮৭ মিলিয়ন ইউএস ডলার। দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্য, তৈরী পোশাক, পাটজাত পণ্য, তৈরী পোশাক এবং হিমায়িত মাছসহ বিভিন্ন পণ্য রফতানি হচ্ছে।
এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ কথা বলা হয়।