ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৪:২৩ ঢাকা, বুধবার  ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

বাংলাদেশের অর্থনীতির গল্প পৃথিবীর কাছে এক কৌতুহলের বিষয় : গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির গল্প এখন শুধু বাঙ্গালীর কাছেই নয়, সারা পৃথিবীর কাছে এক কৌতুহলের বিষয়। আর্থিক খাতে আমাদের অর্জিত স্থিতিশীলতা এখন অনেক উন্নায়নশীল দেশের কাছে মডেল। আজ সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সংবাদপত্র পাঠক ফোরাম’ আয়োজিত ‘জীবনের কথা, অর্থনীতির কথা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি নাসির উদ্দিন শুভ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন, উপ-উপাচার্য চৌধুরী সারওয়ার জাহান ও কথা সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক। গভর্নর বলেন, বিশ্ব আজ জানতে চায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কি এমন ঘটেছে যে বিশ্ব মন্দার পরেও দেশটির প্রবৃদ্ধি ছয় শতাংশের বেশি। সামাজিক উন্নয়নের কী এমন ঘটেছে এখানে -যার ফলে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭১, ক্রয় ক্ষমতার দিক থেকে বিশ্বে ৩৩তম এবং জিডিপির ভিত্তিতে দেশটির স্থান বিশ্বের মধ্যে ৪৫ তম। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ‘গ্যলপ’ এর মতে ‘পৃথিবীতে এখন সবচেয়ে আশাবাদি মানুষের দেশ বাংলাদেশ এবং অর্থনৈতিক সম্ভবনার বিচারে আমাদের অবস্থান এখন দ্বিতীয়।’ ড.আতিউর রহমান অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই সময়ে আমদানি, রপ্তানি, রেমিট্যান্স, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও মাথাপিছু আয় বাড়ছে। সামাজিক উন্নায়ন, কর্মসংস্থান, দারিদ্রের হার, গড় আয়ুসহ অনেক সূচকেই ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্যণীয়। মূল্যস্ফতির হার ধারাবাহিকভাবে কমেছে। দারিদ্র প্রায় ষাট ভাগ থেকে বাইশ ভাগে নেমে এসেছে। টাকার মূল্যমান স্থিতিশীল ও জোরালো অবস্থায় রয়েছে। গভর্নর বলেন, গতবছর বাংলাদেশ ‘নিম্ন আয়ের দেশের’ গ্লানি ঘুচে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। এখন এগিয়ে চলেছে পুরোপুরি মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার প্রত্যয়ে। তিনি বলেন,যুদ্ধবিদ্ধস্ত একটি বাংলাদেশ ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন সাবলীলতার আঙ্গিনায় উঠে এসেছে। এটাই আমাদের অর্থনীতির বড় গল্প। গভর্নর বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “কেউ আমাদের দাবায় রাখতে পারবে না।” বঙ্গবন্ধুর সেই কথা আজ আমাদের অর্থনীতির সত্যে পরিণত হয়েছে। আমাদের প্রবৃদ্ধিকে, আমাদের উন্নয়নকে আজ কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না। বাংলাদেশ আজ প্রাণোদীপ্ত। বাংলাদেশ ব্যাংক সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন পূরণে বাংলাদেশ ব্যাংকে এরই মধ্যে একটি পুরোপুরি ডিজিটাল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। দেশের ব্যাংকিং ব্যাবস্থাকেও করা হয়েছে ডিজিটালাইজড। বর্হিবিশ্বে আমাদের কেন্ত্রীয় ব্যাংকের এসব নীতি এখন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হয়। জীবনের কথা বলতে গিয়ে আতিউর রহমান বলেন, হঠাৎ করেই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিযুক্ত হই। সুযোগ হয় সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে অবদান রাখার। সাধারণ মানুষকে নিয়ে চিন্তাভাবনার, তাদের জন্য কিছু করার। আর এসব করার প্রেরণা বঙ্গবন্ধু ও কবিগুরু রনিন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছ থেকে পাওয়া। মূলত তারাই আমার অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানবিক ও উন্নয়নমুখী কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং ধারণার উৎস।