স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ পরবর্তী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সুবিধাদি বহাল রাখার জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন কার্মকান্ডে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) সক্রিয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

তিনি বলেন, ‘সিডিপি সভায় বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়ায় পরিকল্পিত প্রস্তুতির ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞতা অন্যান্য দেশগুলোর জন্য অনুকরণীয় হতে পারে উল্লেখ করা হয় এবং উত্তরণ পরবর্তী আন্তর্জাতিক সুবিধাদি বহাল রাখতে বাংলাদেশের বিভিন্ন কার্মকান্ডে সক্রিয় সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়।’

জাতিসংঘের সদর দফতরে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল পার্টনারশীপ ফর ইফেক্টিভ ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশনের (জিপিইডিসি) সম্মেলনে অংশগ্রহণশেষে দেশে ফিরে মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

গত ৯ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত তিনি জিপিইডিসির সিনিয়র লেভেল মিটিং এবং হাইলেভেল পলিটিক্যাল ফোরাম অন সাসটেইনএবল ডেভলপমেন্ট সভায় অংশগ্রহণ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা সচিব মো. নুরুল আমিন,সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম,অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মনোয়ার আহমেদ,পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী,আইএমইডির সচিব আবুল মনসুর মো.ফয়েজ উল্ল্যাহ উপস্থিত ছিলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান,সিডিপি সভায় স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণের প্রক্রিয়া এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই উত্তরণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

উন্নয়নকে টেকসই করতে মাথাপিছু আয়ের পাশাপাশি সামাজিক সূচকগুলো বিবেচনায় নিয়ে তালিকা তৈরি করে থাকে সিডিপি। তারই ভিত্তিতে স্বাল্পোন্নত,উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশ-এই তিন শ্রেণীতে ভাগ করে থাকে সিডিপি।

এম এ মান্নান জানান, জিপিইডিসি সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সদস্য সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন,হাঙ্গেরি আমাদের পানি ব্যবস্থাপনায় সহায়তা দিতে চেয়েছে। সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশীদের এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আমি তাদের বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানিয়েছি।

এক প্রশ্নের উত্তরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন,এসডিজি বাস্তবায়নে আমরা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাই। তবে এখন এসডিজি বাস্তবায়নের মত সক্ষমতা আমাদের তৈরি হয়েছে। এখন আমাদের রাজস্ব আয় যথেষ্ট পরিমাণ বেড়েছে, সুতরাং এসডিজি বাস্তবায়নে কোন সমস্যা হবে না।

ড. শামসুল আলম বলেন,এসডিজি বিষয়ে সারা বিশ্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অর্থায়ন। পরিবেশের ঝুঁকি মোকাবেলায় বৈশ্বিক সহায়তা প্রয়োজন। এজন্য আমাদের যেটি করতে হবে সেটি হচ্ছে পিপিপি এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সেই সঙ্গে বাড়াতে হবে রাজস্ব আয়ও। তিনি জানান, আগামীতে শুধু আয় দিয়ে দারিদ্র্য পরিমাপের পদ্ধতিটি বাদ দেওয়া হবে। এখন দারিদ্র বহুমাত্রিকতা দিয়ে পরিমাপ করা হয়। যেমন একজন মানুষ কোথায় বাস করে, তার শিক্ষা, চিকিৎসা কি ধরণের ইত্যাদি প্রায় ১০টি সূচক দিয়ে অনেক দেশ দারিদ্র্য পরিমাপ করে। আমাদেরকেও সেদিকে যেতে হবে।

তিনি জানান,বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে এগিয়ে রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশের যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য একটি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। কি ধরণের প্রভাব পড়বে সেখান থেকে উত্তরণে উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়গুলো থাকবে।

ইআরডি সচিব মনোয়ার আহমদ বলেন,এলডিসি থেকে বেরিয়ে গেলে হয়তো স্বল্প সুদে ঋণ এবং কিছু সুবিধা পাওয়া যাবে না। কিন্তু ঋণ প্রাপ্তির অনেক পথই খুলে যাবে। তাছাড়া জিএসপি সুবিধা না থাকলেও জিএসপি প্লাস সুবিধা আছে।