ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৭:৪৭ ঢাকা, সোমবার  ২৩শে জুলাই ২০১৮ ইং

বিস্ফোরণস্থল থেকে আল-কায়দা নেতা আইমান আল জাওয়াহিরির বাণী-সংবলিত জিহাদি প্রচারপত্র, তালেবান ভিডিও ও ভুয়ো ভোটারকার্ডও উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ বলছে।

বর্ধমান বিস্ফোরণে জঙ্গী সংযোগ: পুলিশ

শীর্ষ মিডিয়া ৫ অক্টোবর ঃ   ভারতে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান শহরে তিনদিন আগের একটি বিস্ফোরণের ঘটনায় এক বা একাধিক ইসলামপন্থী জঙ্গী সংগঠনের যোগ আছে বলে পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলি মনে করছে।
ঘটনাস্থল থেকে প্রচুর বিস্ফোরক ও আইইডি, মোবাইলের সিমকার্ড, জিহাদি নথিপত্র, তালেবান প্রশিক্ষণের ভিডিও ইত্যাদি উদ্ধার করা হয়েছে।
এই বিস্ফোরণে দু’ব্যক্তি মারা গেছেন, একজন এখনও হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।
চাঞ্চল্যকর এই বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার বিকেলে বর্ধমান শহরের বুকে খাগড়াগড় এলাকায় – রাজ্যে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের এক স্থানীয় নেতার বাড়িতেই।
সেখান থেকে দলীয় কার্যালয়ও চালানো হত। আর ঐ বাড়িরই ভাড়া দেওয়া একটি অংশে প্রচন্ড বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। আশেপাশের লোকজন ছুটে গিয়ে শাকিল আহমেদ ও সোবহান মন্ডল নামে দুজনকে মৃত অবস্থায় ও ছিন্নভিন্ন চেহারায় দেখতে পান, আহত একজনকে পাঠানো হয় হাসপাতালে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জেলার পুলিশ সুপার এসএমএইচ মির্জা সেদিন বলেন, বোমা বাঁধতে গিয়েই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
তবে এটি যে নিছক সাধারণ কোনও বোমা বিস্ফোরণ নয়, তা স্পষ্ট হয়ে যায় খুব দ্রুতই। ঐ বাড়ি থেকে প্রচুর বিস্ফোরক, ৫০টিরও বেশি আইইডি মিলেছে খবর পেতেই কেন্দ্রের এনআইএ গোয়েন্দারা এসেও ঘটনার তদন্ত শুরু করেন। এছাড়া আল কায়দা নেতা আয়মান আল জাওয়াহিরির বাণী-সংবলিত জিহাদি প্রচারপত্র, তালেবান ভিডিও, বহু সিমকার্ড ও ভুয়ো ভোটারকার্ডও উদ্ধার হয় ওই বাড়ি থেকে।
নিহত শাকিল আহমেদের স্ত্রী রাজেরা বিবি ও ঐ বাড়িরই আর এক বাসিন্দা আমিনা বিবিকে পুলিশ শনিবারই গ্রেফতার করে। তারপর বিস্ফোরক তৈরি ও তথ্যপ্রমাণ লোপের চেষ্টার অভিযোগ এনে তাদের রোববার আদালতেও পেশ করা হয়।
বর্ধমান পুলিশের আইসি আবদুল গাফফার সরকারিভাবে এর বেশি কিছু বলতে চাননি, কিন্তু পুলিশের সূত্রগুলিই এ কথা নিশ্চিত করেছে যে এই বিস্ফোরণের সঙ্গে জঙ্গী যোগসাজশ এখন একেবারেই স্পষ্ট।
এই বিস্ফোরণে জড়িত সন্দেহে বর্ধমান জেলারই পূর্বস্থলী থেকে হাসান মোল্লা নামে আর এক ব্যক্তিকেও রোববার গ্রেফতার করা হয়। এদিকে রাজ্যের বিরোধী দল সিপিএমের নেতা বিমান বসু অভিযোগ করেন, এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক আছে।
অনেকটা একই সুরে রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত বিজেপি নেতা সিদ্ধার্থনাথ সিংও বলেন, তৃণমূল এই ঘটনার দায় এড়াতে পারে না। তার বক্তব্য, ঐ বাড়িতে তৃণমূলের দফতর ছিল, আবার সেখানে ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের জঙ্গীরাও থাকত। এমন কী ওই বাড়িতে বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীরাও আশ্রয় নিয়েছিল।
দল হিসেবে তৃণমূলে অবশ্য এই সব অভিযোগ নিয়ে এখনও মুখ খোলেনি। তবে হাসান চৌধুরী নামে তাদের যে নেতার বাড়িতে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে, তিনি বলেছেন, সরল বিশ্বাসেই তিনি নিজের বাড়ি ভাড়া দিয়েছিলেন। সেখানে জঙ্গী কার্যকলাপ হতে পারে বলে তাঁর কোনও ধারণাই ছিল না। তথ্য সূত্র বিবিসি