ব্রেকিং নিউজ

রাত ৮:২৬ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ১৮ই অক্টোবর ২০১৮ ইং

বর্ধমান বিস্ফোরণ: মিয়ানমারের নাগরিক গ্রেপ্তার

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বর্ধমানে বিস্ফোরণের ঘটনায় মিয়ানমারের এক নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের সন্ত্রাস দমন তদন্ত সংস্থা এন আই এ। খালেদ মুহাম্মদ নামের ওই ব্যক্তিকে সোমবার রাতে দক্ষিণ ভারতের শহর হায়দ্রাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, তার কাছ থেকে বিস্ফোরক তৈরির প্রশিক্ষণের ভিডিও, পুস্তিকা পাওয়া গেছে। তল্লাশিতে ইসলামিক স্টেটসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের বইপত্রও পেয়েছে বলে দাবী এন আই এ-র। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মি. মুহাম্মদ রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের সদস্য ও বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত অঞ্চলে জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির চালাতেন তিনি। তেহরিক-এ-আজাদি-আরাকান এবং তেহরিক-এ-তালিবান পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন মি. মুহাম্মদ। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বেশ কিছুদিন ধরেই বলে আসছে যে রোহিঙ্গাদের একাংশকে জেহাদি মতবাদে প্রশিক্ষিত করছে লস্কর-এ-তৈবার মতো সংগঠনগুলি। দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের এক বৈঠক চলাকালীন এধরণের সন্ত্রাসী শিবিরগুলির একটি তালিকাও তুলে দেওয়া হয়। এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি

মায়ানমার থেকে বিতাড়িত অনেক রোহিঙ্গা শরণার্থী সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে আসছেন। ভারত-শাসিত কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরে রোহিঙ্গাদের একটা বড়সড় কলোনিও গড়ে উঠেছে। বর্ধমানের একটি বাড়িতে ২রা অক্টোবর বিস্ফোরণের পর জঙ্গি গোষ্ঠীটির খোঁজ পাওয়া যায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বি এস এফ বলছে, গত একবছরে বেআইনিভাবে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পার হতে গিয়ে ধরা পড়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। আর রোহিঙ্গা শরণার্থীরা এখন শুধু কাশ্মীর নয়, বিভিন্ন জায়গায় চলে যাচ্ছেন কাজের খোঁজে। এই নিয়ে দ্বিতীয় এক বিদেশী নাগরিক গ্রেপ্তার হলেন বর্ধমান বিস্ফোরণ ও সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তদন্তে।

এন আই এ এর আগে শেখ রহমতুল্লা ওরফে সাজিদ নামে এক বাংলাদেশীকে গ্রেপ্তার করেছে – যিনি পশ্চিমবঙ্গ আর আসামসহ বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়া এই সন্ত্রাসী দলটির অন্যতম মূল সংগঠক বলেই এন আই এর দাবী। এই সন্ত্রাসী দলটিকে জামায়েতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ বা জে এম বি-র শাখা বলেই তদন্তকারীরা দাবী করছেন। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের একটি বাড়িতে ২রা অক্টোবর বিস্ফোরণের পর গোটা গোষ্ঠীটির খোঁজ পাওয়া যায়।
বেশ কয়েকটি অনুমতিহীন মাদ্রাসায় তল্লাশি চালিয়ে অনেক বিস্ফোরক ও জেহাদি পুস্তিকা খুঁজে পেয়েছেন এন আই এ তদন্তকারীরা। গোটা ঘটনার তদন্তে এখন বাংলাদেশে রয়েছে এন আই এর একটি দল।

Like & share করে অন্যকে দেখার সুযোগ দিন