ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৪:৩৭ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

বর্ধমানে বিস্ফোরণ ঘটনায় দৈনিক আনন্দবাজার বলছে জে এম বি, আজকাল বলছে জামাত সংশ্লিষ্ট

Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata

কলকাতা ২০ আশ্বিন ১৪২১ মঙ্গলবার ৭ অক্টোবার ২০১৪

 শীর্ষ মিডিয়া ৭ অক্টোবর ঃ   বর্ধমানে বিস্ফোরণ ও জঙ্গি-যোগসাজশের ঘটনা বর্ণনা দিতে গিয়ে ভারতীয়  দৈনিক গুলো ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে আজকের আনন্দবাজার বলেছে বাংলাদেশী জঙ্গি সংগঠন জে এম বি  এর কথা, অপর দিকে দৈনিক আজকাল পত্রিকায় ৬ তারিখ উল্লেখ করে বলছে বাংলাদেশের জামাতের সঙ্গে যোগ আরও স্পষ্ট হয়েছে, গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে জামাত ই ইসলামি পার্টি করার কথা।  উল্লেখ্য আনন্দবাজার পত্রিকার ভাষ্য কিছু সময় আগে তুলে ধরেছি।

বর্ধমানে ওপারের জামাত

 আজকালের নিউজ ঃ   বর্ধমানে বিস্ফোরণ ও জঙ্গি-যোগসাজশের ঘটনার জেরে আরও ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হল৷‌ ধৃতদের মধ্যে একজন পূর্বস্হলী থানার খড়দত্তপাড়ার হাসেম মোল্লা৷‌ সোমবার তাকে বর্ধমান আদালতে পেশ করে ১২ দিনের হেফাজতে নেয় সি আই ডি৷‌ আরেক ধৃতের নাম আবদুল হাকিম৷‌ বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হয়ে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সে চিকিৎসাধীন৷‌ এদিন তাকেও গ্রেপ্তার করে সি আই ডি-র হাতে কাগজপত্র তুলে দেয় আদালত মারফত৷‌ আগেই গ্রেপ্তার হওয়া দুই মহিলাকে জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে৷‌
বাংলাদেশের জামাতের সঙ্গে যোগ আরও স্পষ্ট হয়েছে তাদের কথায়৷‌ জেরায় তারা স্বীকার করেছে জামাত ই ইসলামি পার্টি করার৷‌ তারা নওসর নামে এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছে৷‌ সেই নওসরের স্কেচ পাঠানো হয়েছে বিভিন্ন থানায়৷‌ নওসরও বাংলাদেশি জঙ্গি বলে সন্দেহ করা হচ্ছে৷‌ এ নিয়ে দুজনের বাড়ি বাংলাদেশে বলে জানা গেল৷‌ ঘটনাস্হল থেকে যে সিম কার্ড উদ্ধার হয়েছে তার কললিস্ট ধরে তদম্ত করছে পুলিসও৷‌ উদ্ধার হওয়া মোবাইল থেকে যে মেমোরি চিপ পাওয়া গেছে তা থেকে আমেরিকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে জঙ্গি বিমান হানার ভিডিও ফুটেজ-সহ জঙ্গি কার্যকলাপের নানা গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও ও ছবি পাওয়া গেছে৷‌ প্রসঙ্গত, গত ২ অক্টোবর দুপুরে বর্ধমান শহর সংলগ্ন খাগড়াগড়ে দোতলার ভাড়ার ঘরে আচমকা জোরালো বিস্ফোরণ ঘটে৷‌ বিস্ফোরণে ঘটনাস্হলে মৃত্যু হয় সাকিল আহমেদের৷‌ পরে হাসপাতালে মারা যায় সোবান মণ্ডল৷‌ সোবানের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের উত্তরপাড়ায়৷‌ সাকিল নদীয়ার করিমপুর থানার বারবাকপুরে শ্বশুরবাড়িতে থাকত৷‌ সে ২০০৭ সাল পর্যম্ত বাংলাদেশের ঢাকায় নিজের বাড়িতে থাকত৷‌ তারপর পশ্চিমবঙ্গে নদীয়ার করিমপুরে এসে গুলসোনা (রাজিয়া) বিবিকে বিয়ে করে৷‌ রাজিয়ার বাবা আজিজুল হোসেন গাজিকে বাবা বলে পরিচয় দিয়ে ভোটারকার্ড ও প্যানকার্ডও তৈরি করে৷‌ গতকাল রাতে উদ্ধার হওয়া মোবাইলের নম্বর দেখে পূর্বস্হলীর খড়দত্তপাড়া থেকে হাসেম মোল্লা নামে এক ব্যক্তিকে এই বিস্ফোরণ-কাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়৷‌ তাকে এদিন আদালতে পেশ করে ১২ দিন হেফাজতে নেয় সি আই ডি৷‌ আদালতে পেশ করার আগে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানান, পূর্বস্হলীতে আমার একটি জুতোর দোকান আছে৷‌ রোজগার কম থাকায় বাড়তি আয়ের আশায় মোবাইল রিচার্জের কাজ করি৷‌ এবং আমার মোবাইল দিয়ে গ্রাহকদের ফোন করতে দিয়ে দু’পয়সা রোজগার করি৷‌ এইভাবেই আমার মোবাইল নম্বর কোথাও যেতে পারে৷‌ ওদের সঙ্গে কোনও যোগ নেই বলে তিনি দাবি করেন৷‌ বিস্ফোরণের দিন ঘটনাস্হল থেকে গ্রেপ্তার হওয়া দুই মহিলা গুলসোনা বিবি ও আলিমা বিবিকে জেরা করে বাংলাদেশের জামাত-যোগ আরও স্পষ্ট হয়ে যায় তদম্তকারী অফিসারদের কাছে৷‌ জেরায় তারা বলে, তারা জামাত ই ইসলামি পার্টি করে৷‌ কওসর নামে বাংলাদেশের এক জঙ্গির নাম উঠে এসেছে৷‌ কওসর মাস তিনেক আগে প্রথমে কয়েক দিনের জন্য বাড়ির মালিক হাসান চৌধুরির কাছ থেকে দোতলার ঘর ভাড়া নিয়েছিল৷‌ সেখানে কিছুদিন থাকার পর বাংলাদেশের সাকিল আহমেদ (মৃত)-সহ পাঁচ জনকে ওই বাড়িতে ভাড়াটে হিসেবে নিযুক্ত করে৷‌ বাড়ির মালিককে মাসিক চুক্তি হিসেবে ৪২০০ টাকা করে দিয়েছে৷‌ এরপর কওসরকে সেখানে মাঝে মধ্যে নম্বরপ্লেট বিহীন একটি মোটরবাইকে আসতে দেখা যেত৷‌ গত সেপ্টেম্বরের ৩০ তারিখে কওসর বিস্ফোরক নিতে এসেছিল৷‌ ইতিপূর্বে দুবার সে বিস্ফোরক নিয়ে যায়৷‌ বিস্ফোরণের পরের দিন ৩ অক্টোবরও তার আসার কথা ছিল৷‌ কিন্তু তার আগেই অঘটন ঘটে যায়৷‌ বাড়ির মালিকের কাছ থেকে বিবরণ শুনে কওসরের ছবি স্কেচ করে বিভিন্ন থানায় পাঠানো হয়েছে৷‌ তদম্তে উঠে এসেছে, কলকাতা থেকে বিস্ফোরক নিয়ে আসত তারা৷‌ তারপর সেগুলি দিয়ে সকেট বোমা তৈরি হত৷‌ নিয়ে যেত কওসর৷‌ তবে কোথায় নিয়ে যেত তা এখনও জানতে পারেননি তদম্তকারীরা৷‌ ঘটনাস্হল থেকে ২টি সিমকার্ড পাওয়া যায়৷‌ সেই সিমকার্ড থেকে কললিস্ট বের করে তদম্ত শুরু করেছে পুলিস৷‌ এই সূত্র ধরেই পূর্বস্হলী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে হাসেম মোল্লাকে৷‌ কললিস্ট ঘেঁটে দেখা গেছে এখান থেকে বেশি ফোন করা হয়েছে মুর্শিদাবাদ, রঘুনাথপুর, করিমপুর ইত্যাদি এলাকায়৷‌ সেই সূত্র ধরে পুলিস একের পর এক তদম্ত চালাচ্ছে৷‌ ধৃত গুলসোনা বিবির কাছ থেকে একটি সিমকার্ড ও নগদ ৪৪ হাজার টাকা পাওয়া গেছে৷‌ উদ্ধার হওয়া মোবাইলের মেমোরি চিপ থেকে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে৷‌ তার মধ্যে রয়েছে ৯৷‌১১-য় আমেরিকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে জঙ্গি বিমান হানার ভিডিও ফুটেজ৷‌ রয়েছে বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনের জেহাদের এবং বিভিন্ন নাশকতার ছবিও৷‌ এইসব ভিডিও ছবি থেকে সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মে উদ্বুদ্ধ হওয়ার জন্য রাখা হয়েছে বলে মনে করছেন তদম্তকারী অফিসাররা৷‌ এদিকে, এই বিস্ফোরণের জেরে পূর্ব রেলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে৷‌ যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন স্টেশনে ও ট্রেনে জোরদার করা হচ্ছে নিরাপত্তা ব্যবস্হা৷‌ বর্ধমান, দুর্গাপুর, আসানসোল-সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে সি সি টিভি বসানোর কথা বলেছেন পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ৷‌ ট্রেনগুলিতে ইতিমধ্যেই তল্লাশি শুরু করেছে রেল পুলিস৷‌ সন্দেহজনক যাত্রীদের ওপর নজর রাখা হচ্ছে৷‌ পুলিস কুকুর দিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে স্টেশনের বিভিন্ন জায়গা৷‌