ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১২:৪৭ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

বর্তমান সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তি আজ

অবরোধ-হরতালে সারা দেশ থেকে ঢাকা বিচ্ছিন্ন বর্তমান সরকারের এক বছর পূর্ণ হয়েছে আজ। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। গত বছরের এদিন মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয়বারের মত সরকার গঠন করে।
এর আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দেশের সাধারণ নির্বাচনে দলটি জোটগত ভাবে বিজয়ী হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩৪টি, জাতীয়পার্টি ৩৪টি এবং আওয়ামী লীগের শরিক ওয়াকার্স পার্টি ৬ এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ পাঁচটি আসনে বিজয়ী হয়ে ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি সরকার গঠন করে।
৫ জানুয়ারির নির্বচনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে বিএনপি-জামায়াত জোট। নির্বাচনে অংশ না নিয়ে দেশকে গভীর সাংবিধানিক সংকটে ফেলতে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি জামায়াকে নিয়ে বিএনপি দেশজুড়ে ভয়াল নাশকতা, ধ্বংসযজ্ঞ, নৃশংসভাবে মানুষ হত্যা ও লাগাতার অবরোধ-হরতালের নামে ব্যাপক সহিংসতা চালিয়ে পুরো দেশকেই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেয় তারা। দৃঢ়তার সাথে এসব সন্ত্রাস,হত্যা, জ্বালাও-পোড়াওকে মোকাবেলা করে শান্তি ফিরিয়ে আনা ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী ও দৃঢ় নেতৃত্ব সেই চ্যলেঞ্জ মোকাবেলা করে দেশে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করেন।
নানা কারণেই সরকারের গত এক বছর ছিল ঘটনাবহুল। দেশীয়-আন্তর্জাতিক রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে এই একটি বছরে ছয় শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায় ঘোষিত হয়েছে। ছয় জনের বিরুদ্ধেই ঘোষিত হয়েছে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের রায়।
সরকারের গত এক বছরের অন্যতম বড় অর্জন হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০১৪ সালে গ্লোবাল সাউথ সাউথ ডেভেলপমেন্ট এক্সপো-২০১৪ এর ভিশনারী এ্যাওয়ার্ড পুরস্কৃত অর্জন । এ ছাড়াও কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি এ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ) ও ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিও) নির্বাচনে বাংলাদেশের দুই প্রার্থী স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীর বিজয়। ১৮৮টি দেশের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছেন। ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল স্যাটেলাইট অর্গানাইজেশন-এর মহাপরিচালক এবং হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল ও ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন-এর নির্বাচনেও বিজয়ী হয় বাংলাদেশ।
আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, টানা দ্বিতীযবার সরকার গঠনের পর উন্নয়ন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশী-বিদেশী নানা ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত, বিশ্ব মন্দার মধ্যেও দেশের অর্থনীতিকে অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছেন।।
তিনি বলেন,বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্ব মন্দা সত্ত্বেও গত বছর সামষ্টিক অর্থনীতির প্রতিটি সূচক ইতিবাচক ছিল। ছয় শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২২ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও রপ্তানিতে ভাল প্রবৃদ্ধি হয়েছে। প্রায় ১৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স এসেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১৩ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রযাত্রাকে ‘একটি বিশাল অর্জন’ বলে আখ্যায়িত করেছে।
বহুল আলোচিত পদ্মাসেতুর কাজ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ২০১৮ সালের মধ্যেই পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে যাতায়াত শুরু হবে, খুলে যাবে স্বপ্নের দুয়ার।
দেশের অর্থনীতিবিধরা মনে করেন সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দুর্নীতি-সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদের তকমা মুছে ফেলে সারাবিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। কৃষি, অর্থনীতি, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতিসহ সার্বিক প্রেক্ষাপটে নতুন বছরের অনেক প্রত্যাশার বীজও বনে গেছে সরকারের টানা দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছর।