Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ৯:২৬ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ১৫ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

বরিশলে ঘাট ছাড়ার মুহূর্তে ২ লঞ্চে অগ্নিসংযোগ

বরিশাল-ঢাকা নৌপথে চলমান বিলাসবহুল লঞ্চ সুন্দরবন-৭ এবং পারাবত-১০ লঞ্চের দুই শয্যাবিশিষ্ট দুটি কক্ষে (কেবিনে) আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। অগ্নিনির্বাপক গ্যাস দিয়ে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে দুটি লঞ্চই ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। মঙ্গলবার রাত পৌনে নয়টায় বরিশাল নৌবন্দর থেকে ছেড়ে আসার আগ মুহূর্তে এ ঘটনা ঘটে।
সুন্দরবন লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানায়, রাত পৌনে নয়টার দিকে সুন্দরবন-৭ লঞ্চ যাত্রী বোঝাই করে বরিশাল নৌবন্দর ত্যাগ করছিল। এ সময় হঠাৎ কেবিনের যাত্রীরা আগুন আগুন বলে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন। পরে দেখা যায় তৃতীয় তলার ৩১৬ নম্বর কক্ষে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। পরে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়। এতে ওই কক্ষের বিছানাপত্র পুড়ে যায়। তবে পরে লঞ্চটি যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

এদিকে পারাবত লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানায় লঞ্চ ছাড়ার আগ মুহূর্তে দোতলার ১০১ নম্বর কেবিনে আগুন দেওয়া হয়। তবে লঞ্চের কর্মীরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সুন্দরবন লঞ্চের ব্যবস্থাপক মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘লঞ্চ ছাড়ার মুহূর্তে তিন তলার ৩১৬ নম্বর কক্ষে কে বা কারা আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। কোনো ধরনের বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের ঘটনা নয় বলে মনে হচ্ছে। ’ তিন আরও জানান, ওই কক্ষটি একজনকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ওই কক্ষের যাত্রী চাবি নিয়েও ছিল। পরে আর ওই যাত্রীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কক্ষের দরজা ভেঙে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে কার নামে কক্ষটি বরাদ্দ ছিল তা তিনি জানাতে পারেননি।

বিআইডব্লিউটিএ বরিশালের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের উপপরিচালক মো. আবুল বাশার মজুমদার বলেন, ‘এটা নাশকতাই। কারণ পৌনে নয়টার দিকে লঞ্চ ছাড়ার আগে প্রথমে পারাবত ১০ লঞ্চের ১০১ নম্বর কেবিনে আগুন দেওয়া হয়। এর একটু পর সুন্দরবন লঞ্চ ছাড়ার আগে একইভাবে আগুনের ঘটনা ঘটে। এটা পরিকল্পিত। ছাড়ার আগ মুহূর্তে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা সরে পড়েছে। ’

সুন্দরবন লঞ্চের মালিক সাইদুর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা ইতিপূর্বে আর ঘটেনি। কেবিনে আগুন দেওয়ার ঘটনা এই প্রথম। আমি ঢাকায় আছি। এটা নাশকতা কি-না এখনই বলা যাচ্ছে না।