ব্রেকিং নিউজ

রাত ৮:০৪ ঢাকা, শুক্রবার  ২০শে এপ্রিল ২০১৮ ইং

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া

বন্যা: নির্দেশ দেয়া হয়েছে ‘কেউ যেন খাবারে কষ্ট না পায়’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, জেলা প্রশাসনকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে ‘একজন লোকও যাতে খাবারের কারণে কষ্ট না পায়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া আজ বুধবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বন্যা পরিস্থিতি ও সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী জানান, বন্যা কবলিত ১৩টি জেলায় ৩ জুলাই থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত সময়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৪ হাজার মেট্রিক টন চাল, ১ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার আর্থিক বরাদ্দ ও নয়টি আইটেম সমৃদ্ধ ১৮ হাজার ৫’শ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, গত মার্চ মাসে আগাম বন্যায় ফসলহানির কারণে এর বাইরে সিলেট অঞ্চলের জেলাসমূহে প্রায় ৩ লক্ষ ৮০ হাজার পরিবারকে ভিজিএফ দেয়া হয়েছে যা চলমান রয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, জেলা প্রশাসকদের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য ও আর্থিক বরাদ্দ দেয়া হবে। একজন লোকও যাতে খাবারের কারণে কষ্ট না পায়, সেজন্য সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যেতে জেলা প্রশাসনকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটি জেলার বন্যা পরিস্থিতি সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিনিয়ত বন্যা ও ত্রাণ কার্যক্রমের খোঁজখবর নিচ্ছেন। মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রতি জেলায় উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা সংযুক্ত করা হয়েছে জেলা পর্যায়ে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, সমন্বয় ও ত্রাণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় সহযোগিতা করার জন্য।

তিনি বলেন, প্রতিদিন প্রত্যেক জেলার ক্ষয়ক্ষতি, ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম, আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মানুষের পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। গতকাল ১১ জুলাই পর্যন্ত বন্যা পরিস্থিতির ৯০টি পর্যবেক্ষন পয়েন্টের মধ্যে ১২টি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ৫৫টি পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

মেডিক্যাল টিমগুলোকে প্রতিদিন বন্যা কবলিত এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করে সেবাকার্য চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানান ত্রাণমন্ত্রী। বন্যা প্লাবিত এলাকার টিউবওয়েলগুলো উঁচু করে দিয়ে, পানি বিশুদ্ধকরণ টেবলেট দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানান তিনি।

মায়া চৌধুরী বলেন, পানিবাহিত রোগ থেকে দুর্গত মানুষদের রক্ষা করতে হবে। কোন বেড়িবাঁধ যাতে নতুন করে ভাঙ্গা না যায় তার জন্য আন্তরিক চেষ্টা করতে হবে। পশুখাদ্যের ব্যবস্থা করতে হবে। এসময় তিনি জানান, বন্যা প্লাবিত মানুষদের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য প্লাবিত প্রতি জেলায় পানি বিশুদ্ধকরণ মোবাইল গাড়ি পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সিলেট ও মৌলভীবাজার এলাকা ইতোমধ্যে পরিদর্শন করেছেন উল্লেখ করে বলেন, শুক্রবার থেকে তিনি উত্তরাঞ্চলের প্রত্যেকটি বন্যা প্লাবিত জেলা সফর করে ত্রাণ বিতরণ করবেন। সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকা সফর করে বন্যাপ্লাবিত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করতে অনুরোধ করেন তিনি।

বন্যা নিয়ে রাজনীতি না করে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে বন্যাপ্লাবিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিজেদের মানবিক কর্তব্য পালন করার আহবান জানান তিনি।

মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ কামাল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।