ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৭:০৫ ঢাকা, বুধবার  ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

বন্দুকের জোরে ক্ষমতা দখলকারীরা গণতন্ত্র হত্যা, সংবিধানকে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছিল

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোনো অপশক্তি যাতে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার ধারাকে ব্যাহত করতে না পারে, জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে এ হোক আমাদের অঙ্গীকার।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে সময় বন্দুকের জোরে ক্ষমতা দখলকারীরা গণতন্ত্র হত্যা, সংবিধানকে ক্ষতবিক্ষত এবং প্রগতি ও উন্নয়নের ধারা রুদ্ধ করে দিয়েছিল
অনেক সংগ্রাম আর ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে তাঁর সরকার দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, তাঁর সরকার জনগণের জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
আগামীকাল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আজ দেয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।
বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি এক ঐতিহাসিক দিন স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে এদিন স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতির পিতাকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের নির্জন কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস তিনি নিভৃত কারাগারে অসহনীয় নির্যাতনের শিকার হন। প্রহসনের বিচারে ফাঁসির আসামি হিসেবেও তিনি মৃত্যুর প্রহর গুণতে থাকেন।
বঙ্গবন্ধু সে সময় মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও বাঙালির জয়গান গেয়েছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারণ তিনি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণশক্তি। তাঁর অবিসংবাদিত নেতৃত্বে বাঙালি জাতি মরণপণ যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছে। এ কারণে পরাজিত পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী তাঁকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলার মাটিতে প্রত্যাবর্তন করে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। যেখানে উঠে আসে তাঁর উপর পাকিস্তানি সামরিক জান্তার নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা।
তিনি বলেন, ওই দিন বাঙালি জাতি ফিরে পায় জাতির পিতাকে। পূর্ণতা লাভ করে তাদের বিজয়ের।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর জাতির পিতা যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে সর্বশক্তি নিয়োগ করেন। প্রথমেই তিনি ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সদস্যদের দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বন্ধু দেশসমূহ দ্রুত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে উল্লেখ করে তিনি জানান, বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে ওআইসি’র সদস্য হয় এবং বঙ্গবন্ধুর ঐন্দ্রজালিক নেতৃত্বে অতি অল্পদিনের মধ্যেই বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান তৈরি হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, অথচ জাতির পিতার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৭০ এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করলেও পাকিস্তানি সামরিক জান্তা জনগণের সে রায়কে উপেক্ষা করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখে। শুরু হয় প্রহসনের রাজনীতি। বাঙালির উপর নেমে আসে ইতিহাসের নির্মম গণহত্যা। ২৫ মার্চ কালরাত থেকেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির উপর হত্যাযজ্ঞ শুরু করে বলেও তিনি জানান।
জাতির পিতা ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং বাঙালি জাতি সে আহবানে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঙালি জাতির চূড়ান্ত মুক্তির লক্ষ্যে জাতির পিতা ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের ঐতিহাসিক ভাষণেই ঘোষণা দিয়েছিলেন “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম; এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”
বর্তমান সরকার বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলেই দেশ আজ উন্নয়নের ধারায় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন আমাদের মাথাপিছু আয় প্রায় ১৩১৪ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। রিজার্ভ ২৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের বুকে রোল মডেল।
সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের সুযোগ বন্ধ করে জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে।
জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ প্রতিষ্ঠা করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আসুন, মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলি। যেখানে ধনী-দরিদ্র ভেদাভেদ থাকবে না। সকলের জন্য সম্ভাবনার দুয়ার থাকবে অবারিত।