ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৬:৫৬ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

“বঙ্গমাতার আদর্শ বাঙালি নারীর অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছার আদর্শ ও দৃষ্টান্ত যুগে যুগে বাঙালি নারীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
এই মহান নারীর জীবনী চর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন, বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের অনেক অজানা অধ্যায় সম্পর্কে তারা ধারণা পাবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে এ কথা বলেন। আগামীকাল এই মহিয়সী নারীর জন্মদিন । ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বামী, পুত্র, পুত্রবধূ ও নিকট আত্মীয়-স্বজনসহ ঘাতকদের হাতে তিনিও নির্মমভাবে শাহাদতবরণ করেন যা জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
মহিয়সী নারী শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া পৈতৃক নিবাসে জন্মগ্রহণ করেন। বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর একজন যোগ্য ও বিশ্বস্ত সহচর। বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব আমৃত্যু স¦ামীর পাশে থেকে দেশ ও জাতি গঠনে অসামান্য অবদান রাখেন।
প্রধানমন্ত্রী বাণীতে বলেন, এ মহিয়সী নারী ছিলেন সহজ-সরল নিরহঙ্কারী। স্বামী একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের প্রতিষ্ঠাতা, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন তিনি। একজন সাধারণ বাঙালি নারীর মতো তিনি স্বামী-সংসার, আত্মীয়-স্বজন নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার পরে দেশ গঠনে তাঁর অসাধারণ ভূমিকার কারণে তিনি ছিলেন স¦তন্ত্র বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল।
এ নারী বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সাফল্যেও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক কারণে স্বামীর কারাবরণকালীন উত্তাল দিনগুলোতে হিমালয়ের মতো অবিচল থেকে একদিকে তিনি স্বামীর কারামুক্তিসহ তাঁর অবর্তমানে প্রিয় সংগঠন আওয়ামী লীগ পরিচালনায় অবদান রেখেছেন। অন্যদিকে সংসার, সন্তানদের লালন-পালন, শিক্ষাদান, বঙ্গবন্ধুকে প্রেরণা, শক্তি ও সাহস যুগিয়ে স্বাধীনতা ও মুক্তির সংগ্রামকে সঠিক লক্ষ্যে নিয়ে যেতে তিনি সাহসী ভূমিকা পালন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৬ দফা ও ১১ দফার আন্দোলনে শেখ ফজিলাতুন নেছা বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে বন্দি থেকেও এবং পাকিস্তানে কারাবন্দি স্বামীর জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে গভীর অনিশ্চয়তা ও শঙ্কা সত্ত্বেও তিনি সীমাহীন ধৈর্য, সাহস ও বিচক্ষণতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। দেশ ও জাতির জন্য তাঁর অপরিসীম ত্যাগ, সহযোগিতা ও বিচক্ষণতার কারণে জাতি তাঁকে যথার্থই ‘বঙ্গমাতা’ উপাধিতে অভিষিক্ত করেছে।
বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।