ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১:১৯ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

মন্ত্রী আনিসুল হক
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, ফাইল ফটো

‘বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করতে কমিশন’

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, যারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকান্ডের নেপথ্যে ছিলেন তাদেরকে চিহ্নিত করার জন্য একটি কমিশন গঠন করার চিন্তা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই আজকে একটা কমিশন করার কথা চিন্তা করছি, যেখানে অন্তত ইতিহাসের জন্য আমরা রেখে যেতে পারব সত্য যারা এই হত্যার নেপথ্যে ছিল।’

মন্ত্রী আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় নিবন্ধন পরিদপ্তর প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ্ শেখ মো. জহিরুল হকের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক, নিবন্ধন পরিদপ্তরের মহাপরিদর্শক খান মো. আব্দুল মান্নান, আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো.মোস্তাফিজুর রহমান, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নাসরিন বেগম ও মো. ইসরাইল হোসেন বঙ্গবন্ধুর জীবন আলেখ্য নিয়ে আলোচনা করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, আজ বাঙালির একটা বিষয় মনে রাখতে হবে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কিন্তু লাহোরে মারতে পারে নাই। বঙ্গবন্ধুকে ঢাকাতেই মারা হয়েছে। আপনাদেরকে কেন এটা বলছি- সেটার কারণ হচ্ছে, আমাদের মধ্যেই মীরজাফরেরা আছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুকে ঢাকায় হত্যা করে নিজেদের উপর যে কলঙ্ক লেপন করেছি, সেই কলঙ্ক কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা দিয়ে শেষ হয় নাই। আমরা বিচার করেছি এবং পাশাপাশি দেখেছি যে সংবিধান দিয়ে বঙ্গবন্ধু হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট তৈরি করে গেছেন, সেই সুপ্রিম কোর্টের অনেক বিচারপতি তার হত্যার বিচার করতে বিব্রতবোধ করেছেন। আমাদের জন্য এগুলো লজ্জার।আমরা সব চেষ্টা দিয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে পারি তাহলেই এই কলঙ্ক মোচন হবে।

আনিসুল হক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে যে খুনিরা হত্যা করেছেন শুধু তারাই এই ষড়যন্ত্রের মধ্যে ছিলেন সেটা সঠিক নয় । ২১ বছর বঙ্গবন্ধুর মতো একজন মহাপুরুষের হত্যাকান্ডের কোনো এজাহার হয়নি। তখন কোন বাঙালি দাঁড়িয়ে বলেনি এই এজাহারটা করতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার করতে হয় বঙ্গবন্ধু কন্যার। বিচার যখন অর্ধেক হয় তখন অনেকে বিচারটা শেষ করেননি। কেন করেননি? তার কারণ বিচারটা শেষ করতে গেলে ওনাদের নামও এসে যাবে। বঙ্গবন্ধু কন্যাকে আবারও ফিরে আসতে হয় এই বিচারটা শেষ করতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা এই মামলা তদন্ত করেছিলেন তারা ২১ বছর পর যে বাস্তবতা পেয়েছিলেন তার উপরই তদন্ত করেছিলেন। ২১ বছর আগে যদি মামলা হত যারা পরিকল্পনাকারী ছিলেন, যারা পেছনে ছিলেন তাদের ধরা যেত। তদন্তে প্রমাণিত হয়েছিল জিয়াউর রহমান এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত ।

সভা শেষে বঙ্গবন্ধু ও তার সঙ্গে নিহত পরিবারের সদস্যদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।