ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:০৮ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

আনিসুল হক
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, ফাইল ফটো

‘বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনাকারীদের বিচার এখনো বাকি’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর আদালতে বিচার কার্যক্রম শেষ হলেও এখনো হত্যার পরিকল্পনাকারীদের বিচার হয়নি বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

আজ শনিবার আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটি আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫০জন কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে আনিসুল হক জানান, একটি দেশের জাতির পিতাকে হত্যা করার পর আইন করে সেই হত্যার বিচারকার্যক্রম বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করা হয়। ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর খন্দকার মোস্তাক আহমেদ ইনডিমিনিটি বিলে স্বাক্ষর করেন।

তিনি বলেন, কিন্তু তারপর জিয়াউর রহমান ক্ষমতা নিলেও এই আইন বাতিল করেননি। শুধু তাই নয়, জিয়াউর রহমানের পর এরশাদ এবং ১৯৯০ সালে বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় আসার পরও এই কালো আইন বাতিল করেনি। বরং ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এই আইন বাতিল হয় এবং মামলার কার্যক্রম শেষ হয়।

আইনমন্ত্রী জানান, মামলা নিয়ে বিচারকদের বিব্রতবোধের বিড়ম্বনার পাশাপাশি তথ্য ও দলিলাদি সংগ্রহ করতে আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে সরাসরি হত্যাকারীদের আমরা বিচারের আওতায় আনতে পেরেছি। কিন্তু ধরাছোঁয়ার বাহিরে থেকে গেছে মূল পরিকল্পনাকারীরা। বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়াউর রহমানের সংশ্লিষ্টতা এখন বেশ স্পষ্ট। তাই আমি মনে করি আদালতে বিচার কার্যক্রম শেষ হলেও এখনো হত্যার পরিকল্পনাকারীদের বিচার হয়নি।

অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস বলেন, আমার বয়স তখন মাত্র ৩ বছর ৯ মাস। মা-বাবার সাথে কোন সুখ স্মৃতি আমার মনে নেই। শুধু মনে আছে মেঝেতে রক্তাক্ত পড়ে থাকা আমার বাবার লাশ এবং তারপর মেঝে জুড়ে ছড়িয়ে থাকা রক্তের কথা।

তিনি বলেন, বাবা-মা ছাড়া আমাদের কেউ দীর্ঘ সময় আশ্রয় দিতে চায়নি। এই আত্মীয়র বাসা থেকে ঐ আত্মীয়ের বাসায় আমার ৫ বছরের বড় ভাই আমাকে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন। সর্বোচ্চ ৪৫ দিনের বেশি কেউ আমাদের আশ্রয় দেয়নি। কিন্তু এটা বড় কষ্ট ছিলো না। সবচাইতে বড় কষ্ট ছিলো, হত্যাকারীদের বিচার করতে না পারা। আর তার থেকেও বড় কষ্ট ছিলো বঙ্গবন্ধু ও আমার বাবাকে নিয়ে চালানো প্রোপাগান্ডা।

তাপস বলেন, ১৯ নভেম্বর আমার জন্মদিন। এই দিনে বঙ্গবন্ধু ও আমার পরিবারকে হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে পূর্ণ রায় পাই। কখনো আমার জন্মদিন পালন করা হয়নি। কিন্তু এটি ছিলো আমার জন্য সবচাইতে বড় জন্মদিনের উপহার।

উপস্থিত কূটনীতিকদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আত্মস্বীকৃত খুনিরা জানিয়েছেন, জিয়াউর রহমানের সাথে দেখা করে ক্যু এর কথা জানানো হয় এবং প্রতি উত্তরে জিয়া বলেন, ‘গো এহেড’। তাপস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এমনকি ভারতেও কোন আর্মি অফিসারের এমন মন্তব্যকে কি বলা হয়? এটা কি সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহিতা নয়। বিষয়টা এভাবেই বলা, ‘আমি যেতে পারছি না, তোমরা কাজটি করে এসো’। এ ছাড়াও বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়াউর রহমানের সংশ্লিষ্ট এখন স্পষ্ট। আমি কবরে যাবার আগ পর্যন্ত বলে যাবো, বঙ্গবন্ধু ও আমার পরিবার হত্যায় সরাসরি জড়িত জিয়াউর রহমান ও খন্দকার মোস্তাক।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপর জাপানি চলচ্চিত্রকারের নির্মিত একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। এর পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের সাক্ষাৎকার এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের একটি সাক্ষাৎকার প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান ও আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ।

এছাড়াও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দীপু মনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদ।