Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:৩৬ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ১৫ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা
শেখ হাসিনা দলীয় প্রধান হিসেবে দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন

বঙ্গবন্ধুর ৯৯তম জন্মদিন উদযাপিত

বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে আজ শনিবার স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মদিন উদযাপিত হয়েছে। একই সঙ্গে দিনটিকে ‘জাতীয় শিশু দিবস’ হিসেবে উদ্যাপন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কেক কাটা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, মোনাজাত, প্রার্থনা, আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বইমেলা, স্বেচ্ছায় রক্তদান, বিনামূল্যে চিকিৎসা, পুরস্কার বিতরণ, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ইত্যাদি।

শনিবার ভোর সাড়ে ৬টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠনের কর্মসূচি শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ৭টায় ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গনে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে দলীয় প্রধান হিসেবে দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, সভাতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ও এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু ভবন এলাকা ত্যাগ করার পর আওয়ামী যুবলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। এ সময়ে বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করেন।

পরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও ১৫ আগস্টের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে অনুষ্ঠিত মোনাজাতে অংশ নেন।

দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং সংবাদপত্রগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র ও নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়। দিনটি ছিল সরকারি ছুটির দিন।

বন্ধবন্ধুর জন্মবার্ষকী উপলক্ষে সারাদেশের সকল সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত বিশেষ সেবাদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি রোগীদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন এবং সকল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

আজিমপুর এতিম খানায় দুস্থ ও এতিমদের মাঝে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ উপ-কমিটি খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে খাবার বিতরণ করেন।

এ সময়ে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আক্তার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দিবসটি উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে আলোচনা সভার আয়োজন করে হল শাখা ছাত্রলীগ। হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি বরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যায়ে বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবা, রক্তদান, কর্মসূচি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতাসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কলাবাগান্থ সংগঠনের কেন্দ্রীয় এক আলোচনা সভার আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু পরিষদ। সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. এস এ মালেক।

এছাড়াও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদ্যাপিত হয়েছে।

কর্মসূচির মধ্যে ছিল- রাত ১২ টা ১ মিনিটে কেক কাটা, সকালে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সঙ্গীতানুষ্ঠান প্রভৃতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতাররুজ্জমান সভাপতিত্ব করেন। এছাড়াও কেন্দ্রীয় মসজিদসহ আবাসিক হল, হোস্টেল, মসজিদ ও উপাসনালয়ে দোয়া ও প্রার্থনা করা হয়।

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে এ উপলক্ষে বিশেষ প্রার্থনা সভার আয়োজন করে মহানগর সার্বজনীয় পূজা কমিটি। ডি এন চ্যাটার্র্জীর সভাপতিত্বে এতে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় ননন্দি, সাংবাদিক স্বপন কুমার সাহা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে বায়তুল মুকাররম মিলনায়তনে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ‘বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালের সভাপতিত্বে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ সাহানে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের শাহাদাতবরণকারী সকল সদস্যের রূহের মাগফিরাত কামনায় কুরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মহিউদ্দীন কাশেম।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলা, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, মুক্তিযোদ্ধা ফাউন্ডেশন, বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদ, ঢাকা সিটি কলেজ, ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে দিবসটি উদ্যাপন করেছে।

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত এই নেতা ১৯২০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।