Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ৪:৪৪ ঢাকা, সোমবার  ১৯শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

“বঙ্গবন্ধুর নামে মুক্তিযুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়েছিল”

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তিনিই বাংলাদেশের স্থপতি। তাঁর আদর্শকে নস্যাৎ করতে তাঁকে হত্যা করা হলেও, এখন তা স্পষ্ট প্রতিয়মান যে তাঁর হত্যাকারীরা বাংলাদেশ থেকে তাঁর আদর্শকে বিনষ্ট করতে সমর্থ হয়নি।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ৪০তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুকে মূল্যায়ন ও তাঁর রাজনৈতিক দর্শন সম্পর্কে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবী এমিরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনে সূচনাপর্বই ছিল ঘটনাবহুল। প্রথমে বিপ্ল¬বী দলের প্রতি সম্মোহন, সুভাষ বসুর রাজনৈতিক পন্থার প্রতি আগ্রহ ক্রমান্বয়ে মোড় নিয়েছে বাংলা ও বাঙালিকে ঘিরে স্বতন্ত্র-স্বাধীন কর্মপন্থায়। ১৯৪৮ এ ভাষা সংগ্রামের প্রথম পর্যায় থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ গঠন, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, পাকিস্তানের শাসনতন্ত্রে বাঙালির মুক্তির দাবি সংযোজনের সংগ্রাম, সামরিক শাসন প্রত্যাহারের আন্দোলন, ঐতিহাসিক ছয় দফা উত্থাপন, ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, বঙ্গবন্ধু উপাধি লাভ, ’৭০ এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়, ’৭১ এর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা ইত্যাদি সকল কর্মপ্রবাহে আমরা তাঁর নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির ধারা দেখতে পাই। এর মাধ্যমে তিনি সব সময় বাঙালির জাতির সার্বিক মুক্তির পথকে প্রশস্ত করতে চেয়েছেন।
বঙ্গবন্ধুর নামেই মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে উল্লেখ করে এ এমিরিটাস অধ্যাপক বলেন, দেশের সর্বস্তরের মানুষ তখন তাঁর নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন দেখে। দেশের মানুষ তাঁর নেতৃত্বে যেমন আস্থা জ্ঞাপন করেছিলেন, তেমনি তিনি তার মর্যাদা রেখেছেন সম্পূর্ণ। দেশের জন্য তাঁর আত্মত্যাগ অতুলনীয়।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সহকর্মীরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ রাষ্ট্র পরিচালনায় যেসব মূলনীতি প্রণয়ন করেছিলেন তা পাকিস্তান আমলের ২৪ বছরের সংগ্রামের মধ্যদিয়েই বিকাশ লাভ করেছিল।
বঙ্গবন্ধু যে আদর্শ নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করছিলেন, তা নস্যাৎ করতেই তাঁকে সপরিবারে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয় উল্লেখ করে বিশিষ্ট এ শিক্ষাবিদ বলেন, এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর আদর্শের উপর আঘাত নেমে আসে। তবে এ কথা আজ স্পষ্ট প্রতিয়মান যে তাঁর হত্যাকারীরা বাংলাদেশ থেকে তাঁর আদর্শ বিনষ্ট করতে সমর্থ হয়নি।
তিনি বলেন, মানুষ বর্তমানে যেভাবে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে, সেভাবে তাঁর আদর্শকেও রাষ্ট্রীয় জীবনে পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে হবে।
এ বুদ্ধিজীবী আরো বলেন, এ কথা স্বীকার্য যে, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা এবং পরবর্তীকালে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত বঙ্গবন্ধুর নিন্দুকেরা জাতিকে অনেকখানি বিভক্ত করতে সমর্থ হয়েছে। তাই, এখন আমাদের কর্তব্য হবে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে ও রাষ্ট্রীয় আদর্শ পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ১৯৭১ সালের সেই জাতীয় ঐক্য যতদূর সম্ভব প্রতিষ্ঠা করা।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা ব্যক্ত ছিল। ২৬ মার্চ তিনি যে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন তার ঐতিহাসিক প্রমাণাদি উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও যারা তা মানতে চায় না তারা ইতিহাসের সত্যকেই অস্বীকার করে। স্বাধীনতার পর স্বল্প সময়ের ক্ষমতাকালে একটি আদর্শ সংবিধান প্রণয়ন এবং শিক্ষা-শিল্প-বাণিজ্য-পররাষ্ট্র ইত্যাদি নানা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিও বঙ্গবন্ধু গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু ঘাতকের গুলিতে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যেমন আঘাতপ্রাপ্ত হয়, তেমনি পরিত্যক্ত হয় ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মূলনীতিসমূহ। মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই বঙ্গবন্ধুর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন সম্ভব হবে। বাসস