ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১০:৩০ ঢাকা, সোমবার  ১৬ই জুলাই ২০১৮ ইং

সুরেন্দ্র কুমার সিনহা
সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, ফাইল ফটো

‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যায় ‘রাঘববোয়াল’ জড়িত ছিল’

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে অনেক রাঘব বোয়াল জড়িত ছিল। কিন্ত আমরা তাদের বিচারে সোপর্দ করতে পারিনি। আজ জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সুপ্রিমকোর্টের আয়োজনে রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, আমাদের রায়ে আমরা পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছি, এটা একটা ক্রিমিনাল কন্সপিরেসি (ষড়যন্ত্র)। পরিকল্পিতভাবে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, হত্যাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধুর সমস্ত পরিবারকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডকে কতিপয় উচ্ছৃংখল সেনা কর্মকর্তার বিদ্রোহ বলে অনেকে চালানোর চেষ্টা করলেও এটা যে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটা ষড়যন্ত্র ছিল তার প্রমাণ মাত্র দেড় মাসের মধ্যে হত্যাকারীদের দায়মুক্তি দেয়া।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ড হলো কাপুরুষোচিত। আরো কষ্টদায়ক হলো, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর হত্যাকারীদের রাষ্ট্রের আইন দ্বারা বিচারের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।

১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডকে হৃদয়বিদারক উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, বঙ্গবন্ধু হয়তো কারও শত্রু বা বিরাগভাজন হতে পারেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সমস্ত পরিবারকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চক্রান্তের অংশ হিসেবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও হত্যা করা হয়।

প্রধান বিচারপতি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নিতে সিঙ্গাপুরে ক্যান্সারের চিকিৎসা বাদ রেখে দেশে ফিরে এসেছিলেন তিনি।

আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা তার বক্তৃতায় বলেন, বঙ্গবন্ধু জাতির জনক। এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। তিনি ছিলেন বলে দেশ স্বাধীন হয়েছে। সে কারণে আমি আজ আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি হতে পেরেছি। পাকিস্তান যদি থাকত, হাইকোর্ট পর্যন্ত হয়তো যাওয়া যেত, কিন্তু সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি বা বিচারপতি হওয়া কল্পনার বাইরে ছিল। কাজেই বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করি। এ জন্য করি, আমি স্বাধীন দেশের একজন নাগরিক, সেই সঙ্গে সর্বোচ্চ আদালতের একজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি হিসেবে আসীন আছি।

রক্তদান অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের সহযোগিতায় হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানসহ সুপ্রিমকোর্টের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা রক্ত দেন। -বাসস