ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১:২৮ ঢাকা, শুক্রবার  ২২শে জুন ২০১৮ ইং

মাহবুব-উল-আলম হানিফ
মাহবুব-উল-আলম হানিফ, ফাইল ফটো

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ধারাবাহিকতা ছিল চারনেতাকে হত্যা করা : হানিফ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ধারবাহিকতা ছিল একই বছরের ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতাকে জেলে হত্যা করা।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তির চরম প্রতিশোধ। ১৯৭১ সালে যারা মহান মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়কে মেনে নিতে পারেনি তারাই ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। এই হত্যাকান্ডকে জায়েজ করার জন্যই ৩ নভেম্বর জেলের ভেতর নিরাপদ স্থানে জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।

মাহবুব-উল-আলম হানিফ আজ শুক্রবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

উল্লেখ্য, ৩ নভেম্বর ছিল জেল হত্যা দিবস। বাঙালি জাতির জীবনে কলঙ্কময় দিনগুলোর একটি। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম।

এতে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সহ-সভাপতি এডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার, আওয়ামী লীদের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল হক আলো প্রমুখ বক্তব্য দেন।

আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ বলেন,“বিএনপি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে দাবি করে। প্রকৃত অর্থে বিপ্লব হতে হলে সেখানে আদর্শ থাকতে হয়। এই দিবসকে সৈনিক হত্যা দিবস হিসেবে পালন করা উচিত। জিয়াউর রহমান ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য ১২শ’ সৈনিককে হত্যা করেছিল। তাই এই দিবস গণহত্যা দিবস। শত শত সৈনিককে হত্যা করা হয়েছিল। তাই এখানে কোন আদর্শের সংগ্রাম বা লড়াই ছিল না।” এই দিবস পালনের মাধ্যমে বিএনপি বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ভাবধারায় নিয়ে যেতে চায় বলেও মন্তব্য করেন হানিফ।

মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জাতীয় চার নেতাকে বিশ্বাসঘাতক মোশতাকের মন্ত্রী সভায় যোগদানের কথা বলা হয়। কিন্তু জাতীয় চার নেতার বঙ্গবন্ধুর প্রতি অবিচল আস্থা ছিল এবং মোশতাকের সেই প্রস্তাবকে অগ্রাহ্য করে। আর সে কারণেই অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকান্ডের মূল লক্ষ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করা।

তিনি বলেন, “আজকেও বিএনপি পাকিস্তানের ভাবধারা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। জাতীয় চার নেতার হত্যার পর কারা কর্তৃপক্ষ এফআইআর করলেও এটা আলোর মুখ দেখেনি। এর কারণ জিয়া বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত ছিলেন, জেল হত্যার সাথে জড়িত ছিলেন।”
বিএনপির রাজনীতি এখন মিডিয়া কেন্দ্রীক উল্লেখ করে হানিফ বলেন, “বিএনপি এখন নির্বাচন কমিশন নিয়ে কথা বলছে। এখানে বলতে চাই, সংবিধান অনুযায়ি মহামান্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি তা করবেন। এটা নিয়ে বিএনপির ভাবনার প্রয়োজন নেই।”

আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ নির্বাচন নিয়ে এখন সংলাপের কোন প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে বলেন, সংবিধান অনুযায়ি যখন নির্বাচন হবে, তখন যা যা করণীয় তা সরকারের পক্ষ থেকে করা হবে।

মাহবুব-উল-আলম হানিফ বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনা করে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে সংখ্যালঘুদের অত্যাচার-নির্যাতন করেছে। বিএনপি বার বার দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করেছে। নাসিরনগরের বিষয়ে তদন্ত করলে বিএনপি-জামায়াত যে জড়িত তা বেরিয়ে আসবে বলেও মন্তব্য করে তিনি।

তিনি বলেন, নাসিরনগরে হামলার সাথে যারা জড়িত ও উস্কানিদাতা তাদের কাউকে রেহাই দেয়া হবে না। তিনি প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন, এই ধরণের দ্বিতীয় কোন ঘটনা আর দেখতে চাই না। এ বিষয়ে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নিন। অপরাধীদের তদন্তের মাধ্যমে সনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করুন।

হানিফ নাসির নগরের ঘটনায় আক্রান্তদের পাশে থাকতে দলীয় নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানান এবং এ ধরনের ঘটনায় যাতে কেউ উস্কানি দিতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেন।