Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ২:১৮ ঢাকা, বুধবার  ২১শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

বঙ্গবন্ধুকে জেলার দু’দিন লুকিয়ে রেখেছিলেন

sheikh mujib1 বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তানের কারাগারে ফাঁসি কার্যকর করা থেকে রক্ষা করতে একজন জেলার দু’দিন তার ব্যক্তিগত এ্যাপার্টমেন্টে তাঁকে লুকিয়ে রেখেছিলেন।
ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য সানডে টেলিগ্রাফে ‘শেখ মুজিব ফ্লাইস ইন এ্যান্ড সিজ হিথ, প্লিয়া ফর এইড’ শিরোনামে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে একথা বলা হয়। ১৯৭২ সালের ৯ জানুয়ারি পত্রিকাটির কূটনৈতিক সংবাদদাতা এই রিপোর্টটি করেন।
পত্রিকার খবরে বলা হয়, গত রাতে লন্ডনে একজন বাংলাদেশী কর্মকর্তা বলেছেন, শেখ মুজিব জেলারের সহায়তায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ থেকে রক্ষা পেয়েছেন। জেলার জানতেন, ইয়াহিয়া খান তাঁকে বাঁচতে দেবে না। এ জন্য তিনি ঝুঁকি নিয়ে দু’দিন তার বাসায় শেখ মুজিবকে লুকিয়ে রাখেন।
খবরে আরো বলা হয়, যুদ্ধের শেষের দিনগুলোতে ক্লারিজে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের একজন মুখপাত্র বলেন, কারাগারে শেখ মুজিবের সেলের পাশে একটি কবর খোঁড়া হয়েছে। শেখ মুজিব পরে বলেছিলেন, ইয়াহিয়া খানের এক্সিকিউশন স্কোয়াড ভূয়া কাগজপত্র নিয়ে এসেছিল। এতে বলা হয়েছিল অক্টোবরের শেষের দিকে শেখ মুজিবকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর উদ্ধৃতি দিয়ে রিপোর্টে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু বলেছেন, ‘আমি মরতে প্রস্তুত ছিলাম। আমি কারাগারে গিয়েছিলাম। আমি জানতাম না সেখানে আমার কি হবে। আমি বাঁচবো না মরবো ? তবে, আমি জানতাম বাংলাদেশ স্বাধীন হবেই। বঙ্গবন্ধু বলেছেন, তিনি কারাগারে শারিরীকভাবে অসুস্থ ছিলেন না তবে এই আটক অবস্থা তাঁর জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছিল।
১৯৭২ সালের ২৩ জানুয়ারি নিউইয়র্ক টাইমসে বাংলাদেশ : আমি বেঁচে আছি’ শিরোনামে প্রকাশিত অপর এক প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধুর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, পশ্চিম পাকিস্তানে তাঁর জেল সুপার তাঁকে তাঁর সেল থেকে দু’ঘণ্টা বাইরে রেখেছিলেন। এ সময় প্রায় দু’ঘণ্টা তিনি লুকিয়ে ছিলেন। সরকারি ষড়যন্ত্রে যোগ দেয়া সকল পাকিস্তানি তাঁর মৃত্যু কামনা করেছিল।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুকে তাঁর ধানমন্ডীর বাসভবন থেকে রাত ১:১০ মিনিটে আটক করে ঢাকা সেনানিবাসে নিয়ে যায়।
একজন বন্ধী হিসেবে তাঁকে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। এ দিনেই জেনারেল ইয়াহিয়া খান আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন এবং বঙ্গবন্ধুকে বিশ্বাসঘাতক বলে আখ্যায়িত করেন।
এর আগে ১৯৭১ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা পাকিস্তানে লালপুর কারাগারে বঙ্গবন্ধুর গোপন বিচার করে। বিচারের রায়ে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুদন্ডাদেশ দেয়া হয়।
পাকিস্তান সরকার ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেয়। সে সময়ের পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো রাওয়ালপিন্ডিতে বঙ্গবন্ধুকে বিদায় জানান। বঙ্গবন্ধু লন্ডন হয়ে ঢাকার পথে যাত্রা করেন। লন্ডনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ঢাকায় আসার পথে বঙ্গবন্ধু নয়াদিল্লীতে যাত্রা বিরতি করেন। সেখানে তাঁকে ভারতের প্রেসিডেন্ট ভি ভি গিরি এবং প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্রিরা গান্ধী তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।
১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ঢাকা পৌঁছলে তাঁকে বীরোচিত সংবর্ধনা দেয়া হয়। বিমানবন্দর থেকে তিনি সোজা রেসকোর্স ময়দানে চলে আসেন এবং লাখো জনতার সামনে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন।
১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হন। ৬ ফেব্রুয়ারি তিনি ভারত সরকারের আমন্ত্রণে ভারত সফরে যান। বাসস

Like & share করে অন্যকে দেখার সুযোগ দিন