ব্রেকিং নিউজ

রাত ৪:৪৩ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

কামরুল ইসলাম
খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. কামরুল ইসলাম, ফাইল ফটো

বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে সম্পর্কের অবনতির জন্য পাকিস্তানই দায়ী থাকবে

খাদ্যমন্ত্রী এবং ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি বলেছেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধকালে সংগঠিত গণহত্যা সম্পর্কে দেয়া বক্তব্য পাকিস্তান এখনও প্রত্যাহার করে নি। তাদের এ বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে দেশ দু’টির মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটলে তার জন্য সেদেশটিই দায়ী থাকবে।’
এডভোকেট কামরুল ইসলাম আজ সকালে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে ইসলামাবাদে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে ডেকে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ কালে কোন গণহত্যা সংগঠিত হয়নি বলে পাকিস্তানের দেয়া বক্তব্যের প্রেক্ষিতে এ কথা বলেন।
বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোর ‘একাত্তরের গণহত্যা নিয়ে পাকিস্তানের নির্লজ্জ মিথ্যাচার’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে।
বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের কার্যকরি সভাপতি ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শামসুল হক টুকু এমপি, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. আকতারুজ্জামান, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক এডভোকেট বলরাম পোদ্দার ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুন সরকার রানা।
এডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, পাকিস্তান দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধকালে সংগঠিত পাকিস্তানের চালানো গণহত্যা নিয়ে যে মিথ্যাচার করেছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। কেননা তারা যে গণহত্যা চালিয়েছিল তার কথা সে সময়ে পাকিস্তানের বিভিন্ন সামরিক কর্মকর্তাদের লেখা বইয়ে যেমন উল্লেখ রয়েছে তেমনি পাকিস্তানের হামিদুর রহমান কমিশনের প্রতিবেদনেও উল্লেখ রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে পাকিস্তান একটি অকার্যকর জঙ্গী রাষ্ট্র। পাকিস্তানের মতো একটি দেশ সম্পর্কে কথা বলতে লজ্জা করলেও কোন দুঃখ নেই। কিন্তু তখন দুঃখ হয় যখন এ দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং সাবেক বিরোধী দলীয় নেত্রী এবং দেশের বড় একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী পাকিস্তানের এ ধরণের বক্তব্যের পর নিশ্চুপ থাকে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কোন প্রতিক্রিয়া না জানায়।
তিনি বলেন, পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি) ও মনে করে দেশে কোন গণহত্যা সংগঠিত হয় নি। তারা নিজেদের মুক্তিযোদ্ধাদের দল দাবী করলেও তাদের আসল চরিত্র উন্মোচিত হতে শুরু করেছে।
এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, বিএনপি এ বিষয়ে কোন কথা না বলার কারণ হলো যাদের সাজা কার্যকর হয়েছে তাদের মধ্যে আলী আহসান মোহাম্মদ মোজাহীদ বিএনপির মন্ত্রীসভায় ছিল আর সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।
আসন্ন পৌরসভায় বিএনপির অংশগ্রহনকে অভিনন্দন জানিয়ে কামরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি ভালো প্রার্থীদের মনোনীত করলে তাদের হয়রানী হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। কিন্তু যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আগুন সন্ত্রাসে অংশ গ্রহন করেছে এবং অর্থের যোগান দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, কেননা আগুন সন্ত্রাসীদের ছাড় দিয়ে কোন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। কারণ তাদের দেখে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়।
কামরুল ইসলাম প্রতিদিন একটি করে সংবাদ সম্মেলন করে অহেতুক নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ঠ না করার জন্য বিএনপির নেতাদের প্রতি আহবান জানান।