ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৯:০৩ ঢাকা, শুক্রবার  ২০শে এপ্রিল ২০১৮ ইং

বক্তব্য প্রত্যাহারের প্রশ্নই ওঠে না’ একমাত্র প্রধানমন্ত্রী আদেশ দিলে করতে পারি- মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী

শীর্ষ মিডিয়া ১ অক্টোবর ঃ  নিজের দেওয়া বক্তব্য বিষয়ে অনুতপ্ত নন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।গতকাল রাতে বিবিসি রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা প্রত্যাহারের প্রশ্নই ওঠে না। একমাত্র আমার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার নেতা যদি আমাকে আদেশ করেন যে-আপনি এটা প্রত্যাহার করেন। তাঁর সম্মানে আমি এটা প্রত্যাহার করতে পারি। তা ছাড়া কোনো কিছুতেই আমি প্রত্যাহার করব না। মেক্সিকো থেকে তিনি এই সাক্ষাৎ​কার দেন। বিবিসির এই সাক্ষাৎ​কারটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

বিবিসি:   আপনার সঙ্গে কী প্রধানমন্ত্রীর দলে নিউইয়র্কে যারা রয়েছেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে?

লতিফ সিদ্দিকী:     না, আমার সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি।

বিবিসি:   কথা হয়নি?

লতিফ সিদ্দিকী:    না।

বিবিসি:    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে?

লতিফ সিদ্দিকী:   আমি সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি না। কারণ তিনি আমাকে একটা সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দিয়েছেন। সেই দায়িত্বটা আমি নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করি।

বিবিসি:    আপনার বক্তব্য নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটা নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ইতিমধ্যে প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা করছেন-সেটার ব্যাপারে আপনি কী জ্ঞাত?

লতিফ সিদ্দিকী: হুম, জ্ঞাত।
(এ সময় লতিফ সিদ্দিকীকে নিউইয়র্কে তাঁর দেওয়া বক্তব্য শোনাতে চায় বিবিসি)
লতিফ সিদ্দিকী:     আমাকে শোনাতে হবে না। যা রেকর্ড করা আছে ওটা ঠিকই আছে। আমি বলেছি।

বিবিসি:    তাহলে আপনি দায়িত্ব স্বীকার করছেন?

লতিফ সিদ্দিকী:    আমি ১০০ ভাগ দায়িত্ব নিয়েছি। দায়িত্ব নেব মানে, আমি যা বলব-তার দায়িত্ব নেব না, কে বলল আপনাকে? আমি একজন দায়িত্বশীল লোক।

বিবিসি:    আপনি কী সেই বক্তব্য পরে আবারও শুনেছেন?

লতিফ সিদ্দিকী:    আমার শোনার দরকার নেই। আমি শুনতে পারছি যে, জটিলতা…কেউ কেউ … কারও অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।

বিবিসি:    সেটা নিয়ে এখন আপনার অনুভূতি কী, আপনার কী মনে হচ্ছে?

লতিফ সিদ্দিকী:    আমার কোনো অনুভূতি নেই। আমার বিশ্বাসের কথা আমি বলেছি। কারো কারো আঘাত লাগতে পারে। এখন তারাও আমাকে আঘাত করে মতামত প্রকাশ করছে। তাতেও আমি বিরক্ত হচ্ছি না।

বিবিসি:   কিন্তু এই মন্তব্যেকে কেন্দ্র করে মন্ত্রিসভা থেকে আপনাকে বিদায় নিতে হতে পারে-এটাই জানবার পরে আপনি কী দুঃখিত বা অনুতপ্ত?

লতিফ সিদ্দিকী:    না, আমার অনুতাপ বা দুঃখের কোনো কারণ নেই। আমার প্রধানমন্ত্রী তাঁর রাষ্ট্রপরিচালনে তিনি যেটা ভাল মনে করবেন, সেটা করবেন। আমি যদি তাঁর জন্য বোঝা হয়ে যাই, তিনি তাঁর বোঝা রাখবেন কেন?

বিবিসি:    আপনার বক্তব্যে যেটা সমালোচনা হয়েছে, সমালোচনা হয়েছে যে, আপনার বক্তব্যে ইসলাম ধর্মে যারা বিশ্বাসী তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। আপনি কী এটার সঙ্গে একমত?

লতিফ সিদ্দিকী:    তারা হাজার হাজার কোটি কোটি মানুষ মেরে ফেলতেছে, ওটা করতেছে সেটা করতেছে। তাতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে না। আমি একটা…এই হজ তো মোহাম্মদের (হযরত মোহাম্মদ স.) জন্মের আগেও প্রচলিত ছিল। এটা কী মোহাম্মদ প্রচলন করেছে? আর তাবলিগের তো কোনো ব্যবস্থা ছিল না। তাবলিগের মাধ্যমে আমি মনে করি, ভারতবর্ষে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টির করার জন্য একেবারে….ওদিকে হলো সংঘ পরিবার এদিকে তাবলিগ পরিবার। এ নিয়ে এতো কথার দরকারটা কী আছে?

বিবিসি:    কিন্তু যারা বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বা তাতে আহত হয়েছেন তারা বলছেন…ইসলাম ধর্মের অন্যতম স্তম্ভকে আপনি আঘাত করেছেন, এ কথা দ্বারা?

লতিফ সিদ্দিকী:    এটা তাদের অধিকার। আমি কাউরে…আমি ইসলাম ধর্মের কোনো স্তম্ভকে আঘাত করি নাই। আমি আমার মতামত প্রকাশ করেছি।

বিবিসি:     ইসলাম ধর্মের নবীকে নিয়ে আপনি যে মন্তব্য করেছেন…

লতিফ সিদ্দিকী:    আমি কোনো কিছুকেই নিয়ে মন্তব্য করি নাই। আমি যা করেছি, আমার বিশ্বাসের কথা বলেছি। আমি ব্যক্তি স্বাধীন হিসেবে, আমি একজন আধুনিক মানুষ হিসাবে, আমার মতামত আমি প্রকাশ করতে পারি। ব্যক্তি স্বাধীনতার জন্য এতো বড় বড় কথা বলা হয়। তাহলে আমার ব্যক্তি স্বাধীনতায় কেনো হস্তক্ষেপ করা হবে?

বিবিসি:   কিন্তু আপনার কী মনে হয় না, ব্যক্তি হিসেবে আপনি যে মন্তব্য করতে পারেন-সরকারের মন্ত্রী হিসেবে সে বক্তব্য বলার ক্ষেত্রে আপনার কিছু বিধি-নিষেধের অধীনে থাকতে হতে পারে?

লতিফ সিদ্দিকী:   হ্যাঁ, বিধি-নিষেধ আছেই। সেটাতো আমি আমার দেশে করি নাই। আমি ভাবছিলাম মুক্ত পৃথিবীতে আসছি, যেখানেই সবাই মুক্ত বিহঙ্গ, এখানে কোনো কিছুতেই বাধা নাই। এখানে যে কালো বিড়াল এতো রয়ে গেছে, তাতো আমি জানি না।

বিবিসি:   সুতরাং আপনি কী তাহলে পদত্যাগ করবেন?

লতিফ সিদ্দিকী:    আমিই কিছুই করব না। আমার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশ দেবেন আমি শুধু তাই প্রতিপালন করব।

বিবিসি:    আপনি ব্যক্তি স্বাধীনতার কথা বলছেন, বাংলাদেশে অনেকের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের জন্য শাস্তি হয়েছে…

লতিফ সিদ্দিকী:    এটা যদি আইনের মধ্যে পড়ে, তাইলে আমার যে শাস্তি হবে, আমি আনন্দের সঙ্গে মেনে নেব।

বিবিসি:    কিন্তু আপনি আপনার বক্তব্য প্রত্যাহার করছেন না বা সেখান থেকে সরে আসছেন না?

লতিফ সিদ্দিকী:    প্রশ্নই ওঠে না। একমাত্র…এখানে একটা কথা আছে, আমার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার নেতা যদি আমাকে আদেশ করেন যে-আপনি এটা প্রত্যাহার করেন। তাঁর সম্মানে আমি এটা প্রত্যাহার করতে পারি। তা ছাড়া কোনো কিছুতেই আমি প্রত্যাহার করব না।