Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১:৫৯ ঢাকা, রবিবার  ১৮ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

সুরেন্দ্র কুমার সিনহা
সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, ফাইল ফটো

বক্তব্যকে ‘ভুলভাবে উপস্থাপন’ না করতে মিডিয়ার আহ্বান

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তার বক্তব্য ‘মিস কোট’ (ভুলভাবে উপস্থাপন) না করার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সফিউর রহমান মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তিনি সাংবাদিকদের প্রতি এ আহ্বান জানান।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‌‌‘আপনাদের কাছে আমার একটা আবেদন। আমি প্রকৃতপক্ষে কোনো ‘ইয়ো’ করি না। আপনারা আমাকে অনেক ‘ইয়ো’ করছেন। কিন্তু একটুও মিসকোট করবেন না। আমাকে নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। আমি কোর্টে যা বলি তার কিছু ‘ডিস্ট্রোটেড ইয়ো’ করা হয়। এতে আমাকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। এটা যাতে আমাকে না পড়তে হয়।’

‘আমার পক্ষে প্রেস কনফারেন্স করে কোনো কিছু বলা সম্ভব না। তবে বিচারক হিসেবে কোনো মামলার শুনানির সময় আইনজীবীকে একটা প্রশ্ন করতে পারি। এটা আমার স্বাধীনতা। প্রশ্নটা কি কারণে কোন উদ্দেশ্যে না বুঝে এটা (উদ্ধৃত) করাটা অনেক সময় ভুলভ্রান্তি হতে (সৃষ্টি করতে) পারে। এটা একটু খেয়াল করবেন।’

আইনজীবীদের আরো পেশাদারিত্বের পরিচয় দেয়ার আহ্বান জানিয়ে আইনজীবী এবং বিচারকদের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের বিষয়ে কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরেন প্রধান বিচারপতি।

এসময় সর্বোচ্চ আদালতসহ দেশের সব আদালতের বিচারকদের আরও দায়িত্বশীল হতে আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, বিচারকদের বিচারিক জীবনে প্রবেশ করার আগে সব আদর্শিক চিন্তা পরিহার করে বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিকে মনস্থির করে জুডিশিয়াল বৈশিষ্ট্য ধারণ করে এগোতে হবে।

এস কে সিনহা বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও জেল হত্যা মামলার তদন্তে গাফিলতি ছিল। এ উভয় মামলায়ই বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টের রায় তারা গ্রহণ না করে এ দুটি ঘটনাকে ক্রিমিনাল কন্সপেরেন্সি হিসেবে রায় দিয়েছেন। মামলায় মাত্র ১৫/১৬ জনের বিচার হয়েছে দুই ঘটনায়ই অনেকেকে বিচারের আওতায় আনা যায়নি শুধুমাত্র মামলা সংক্রান্ত নানা দূর্বলতার কারণে। এসব নিয়ে তিনি অবসরের পর বই লিখবেন বলেও জানান।

তিনি বলেন, আমেরিকার প্রধান বিচরপতি আর্ন ওয়ারেন্ট জেলা আদালতে ওকালতি আরম্ভ করেছিলেন। এরপর তিনি সরকারি উকিল হয়েছিলেন। তার মেধার কারণে তিনি তিন তিন বার গভর্নর হয়েছিলেন। উনি ছিলেন রিপাবলিকান দলের। কিন্তু ১৯৭০ সালে যখন গভর্নর হন তখন তার নিরপেক্ষতার জন্য দলমত নির্বিশেষে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পান। প্রধান বিচারপতি নিয়োগের আগে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি আর রাজনীতি করবেন না।

এসকে সিনহা বলেন, আমরা বিচারকরা হয়তো ছাত্রজীবনে বা প্রফেশন জীবনে প্রত্যেকের চিন্তা-চেতনা থাকতে পারে রাজনীতি নিয়ে। আমরা বিচারকরা যখন বিচারক হিসেবে শপথ গ্রহণ করি এবং দেশে যারা বিচারক আছেন আপিল বিভাগে, হাই কোর্ট বিভাগে বা নিম্ন আদালতে, তাদেরকে বলবো- আপনারা আপনাদের পাস্ট (অতীত) ভুলে যান। এই বিচার বিভাগের আপনি যখন বিচারক আপনাকে প্রেজেন্ট এবং ফিউচার নিয়ে ভাবতে হবে।

বিচারপতিদের উদ্দেশ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, সারা বাংলাদেশে মাত্র ১৫/১৬ শ’ বিচারক রয়েছে। আপনারা রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে বিচার করবেন । আর যদি রাজনীতি করতে হয় তাহলে আপনারা চাকরি ছেড়ে চলে আসেন। বিচারক যদি হন নিরপেক্ষভাবে করবেন। এটা আপনাদের প্রতি মানুষের অধিকার।

তিনি বলেন, শুধু বিচারকদের বলবো না, আইনজীবীদেরও বলবো। এই সমাজে আপনাদেরও অনেক কিছু করার আছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আপনারা এক হোন। আমি আগেও বলেছি আজকেও বলছি, আপনাদের প্রফেশনাল জীবন একটু কম দেখা যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসন, সুপ্রিমকোর্ট বার সভাপতি অ্যাডভোকট জয়নাল আবেদিন, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সুপ্রিমকোর্ট বার সম্পাদক ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ বিপুলসংখ্যক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।