ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:১২ ঢাকা, রবিবার  ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ফৌজদারি কার্যবিধির সংশোধনীর প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

বিকল্প বিরোধ নিস্পত্তি (এডিআর) বিধি আরো কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকার ফৌজদারি কার্যবিধিতে (সিআরপিসি) প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আজ অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক নিয়মিত বৈঠকে সিআরপিসি-তে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার জন্য আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাবের খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে কেবিনেট সচিব এম শফিউল আলম বলেন, মধ্যস্থতার মাধ্যমে একটি বিরোধের নিস্পত্তির লক্ষ্যে আইন সহায়তা কর্মকর্তাদের সাহায্যের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৮৯ক ধারার (১), (২) ও (৩) উপধারায় সংশোধনীর জন্য খসড়ায় প্রস্তাব করা হয়েছে।
কেবিনেট সচিব বলেন, নতুন আইনে কোন আদালত একটি মামলার শুনানি শুরু করার পূর্বে বিকল্প সমাধানের জন্য একটি মামলা আইন সহায়তা কর্মকর্তার (এলএও) কাছে পাঠাতে পারবেন।
এম শফিউল আলম বলেন, আইনগত সহায়তা আইন-২০০০ এ ওপর নতুন আইনের গুরুত্ব নির্ভর করছে। এই আইনে আইন সহায়তা কর্মকর্তার (এলএও) মাধ্যমে মামলাকারীকে আইনগত সহায়তা প্রদানের সুযোগ রয়েছে। তবে, বিদ্যমান ফৌজদারি আইনে কোন আদালত কোন মামলা মধ্যস্থতা করার জন্য আইন সহায়তা কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে পারেন না।
কেবিনেট সচিব আরো বলেন, এ যাবৎ আইন সহায়তা কর্মকর্তারা (এলএও) কেবল ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে কোন মামলায় মামলাকারীকে আইনগত ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। কিন্তু তারা কোন মামলার বিকল্প নিস্পত্তির জন্য কাজ করতে পারেননি। নতুন আইনটি মধ্যস্থতার মাধ্যমে একটি বিরোধের সমাধানের ক্ষেত্রে তাদের জন্য সহায়ক হবে।

মন্ত্রিসভা বৈঠকে নগরীতে রেস্তোরাঁ, বার ও অননুমোদিত কাঠামো স্থাপনসহ আবসিক এলাকাগুলোর বাণিজ্যিকীকরণের সমস্যাগুলো সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট নিয়েও আলোচনা করা হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিডি), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় ২০১৫ সালের ৮ জুন মন্ত্রিসভা বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যাপক নজরদারি ও পরিদর্শনের পর এ রিপোর্ট তৈরি করে।
কেবিনেট সচিব বলেন, এ সংক্রান্ত কমিটি গাড়ি পার্কিং করার জন্য প্রতিটি ভবনের বেসমেন্ট বা ভূগর্ভস্থ তলার ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং এসব স্পেস বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের ক্ষেত্রে রাজউক ও সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সুপারিশ করেছে।
দ্বিতীয়ত: কমিটি আবাসিক এলাকাগুলোতে সকল বারের লাইসেন্স বাতিল এবং আবাসিক এলাকায় বারের জন্য নতুন কোন লাইসেন্স ইস্যু না করার সুপারিশ করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
কেবিনেট সচিব আরো বলেন, তৃতীয়ত: কমিটি প্লটের মালিকদেও ছয় মাসের সময় প্রদান করে আবাসিক এলাকাগুলোতে সকল গেস্ট হাউস ও আবাসিক হোটেল উচ্ছেদ করার প্রস্তাব দিয়েছে।
রাজউক ও সিটি কর্পোরেশন হাউজিং ও বাণিজ্যিক এলাকার প্রকৃত বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনার জন্য লোকজনকে অনুপ্রাণিত করতে এক সঙ্গে কাজ করবে।
কমিটি আরো সুপারিশ করেছে যে, সিটি কর্পোরেশন ট্রেড লাইসেন্স বাতিল, ইউটিলিটি সার্ভিসগুলোর সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ এবং এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ভ্যাট ও ট্যাক্স আদায় বন্ধ করা ছাড়াও সকল অবৈধ ব্যবসা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করার জন্য তিন মাসের মধ্যে যৌথভাবে অভিযান চালানো হবে।
কেবিনেট সচিব বলেন, এসব পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশের সঙ্গে একমত পোষণ করে মন্ত্রিসভা জনগণের সমর্থন নিয়ে কমিটির প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোকে নির্দেশ প্রদান করেছে।
এসব ব্যবসার সঙ্গে হাজার হাজার লোকের জীবিকা সম্পৃক্ত বলে তাদেরকে বৈরী না করে বরং জনগণের সমর্থন নিয়ে সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তাই, সরকার নিশ্চিত করতে চায় যে, এতে কোন ভীতি সৃষ্টি হবে না এবং জীবিকা সংশ্লিষ্ট বলে কেউ সমস্যায় পড়বে না। কেবিনেট সচিব আরো বলেন, এটাই হচ্ছে সরকারের দর্শন।