ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ২:১২ ঢাকা, রবিবার  ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে বাবার সঙ্গে সীমান্ত পেরোনোর সময়ে গুলিবিদ্ধ হন ফেলানি। দীর্ঘক্ষণ তাঁর মৃতদেহ কাঁটাতারেই ঝুলে ছিল

ফেলানী হত্যার পূণর্বিচার মঙ্গলবার শুরু

আলোচিত ফেলানী হত্যার পূণর্বিচার কার্যক্রম ৩ মাস ৫দিন মুলতবি থাকার পর মঙ্গলবার ভারতের বিশেষ আদালতে শুরু হবে। তবে বারবার তুচ্ছ কারণ দেখিয়ে আদালত মুলতবীর ঘটনায় ফেলানী হত্যার ন্যায় বিচার পাওয়ার ব্যাপারে সংশয় দেখা দিয়েছে। আসামি ও বিচারকের অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আর যেন রায়ের তারিখ পেছানো না হয় এ দাবি ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম নুরুর।

ভারতের কোচবিহারে বিএসএফ সেক্টর সদর দফতরে স্থাপিত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টে ফেলানী হত্যার পূণর্বিচার কার্যক্রমের এখন রায় ঘোষণার অপেক্ষা। ৫ সদস্যের বিচারকের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করার তারিখ নির্ধারণ করা হয় গত ২৬ মার্চ আদালত মুলতবির সময়। সে দিন ভারতের সরকারি আইনজীবী বিপিং কুমার অসুস্থতার কারণে আদালতে উপস্থিত হতে না পারায় দীর্ঘদিনের জন্য আদালত মুলতবি ঘোষণা করা হয়।

নিহত ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম নুরু আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেন, ভারত সরকার ফেলানী হত্যার বিচার নিয়ে তামাশা শুরু করেছে। খুনি বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষ নিজের দোষ স্বীকার করার পরও প্রথম দফা বিচারে তাকে খালাস দেয়। অনেক আবেদন নিবেদন করার পর পুনঃবিচার শুরু হলেও সাক্ষ্য নিয়েও তালবাহানা করে। এখন শুধু রায় ঘোষণার পালা। অথচ একের পর এক অজুহাত দাঁড় করিয়ে ব্যহত করছে বিচার কার্যক্রম। এসব ঘটনায় ন্যায় বিচার পাব কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
মা জাহানারা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন বলেন, মোর কলিজার টুকরা মাইয়াক যাই গুলি করি মারছে তার ফাঁসি চাই।
বিএসএফের হাবিলদার অমিয় ঘোষ আত্মস্বীকৃত খুনি। তার ফাঁসির দাবি ফেলানীর গ্রামের সব মানুষের।
কুড়িগ্রাম ৪৫ বিজিবি’র পরিচালক লে. কর্ণেল জাকির হোসেন জানান, ফেলানী হত্যা মামলার বিশেষ আদালত ২৯ জুন পর্যন্ত মুলতবি ছিল। ৩০ জুন আবার বসবে। এ বিষয়টি তাকে নিশ্চিত করে ভারতের ৪২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ডেন্ট ভিপি বাদলা।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক এ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, বিএসএফের হাবিলদার অমিয় ঘোষ আত্মস্বীকৃত খুনি। দ্বিতীয় দফা বিচারেও অমিয় ঘোষ তার অপরাধের কথা স্বীকার করেছে এবং সাক্ষ্য প্রমাণেও প্রমাণিত নিরস্ত্র ফেলানীকে কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এখন শুধু রায় ঘোষণার পালা। ঠিক সেসময় বিচার বিলম্বিত করা মানেই ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হওয়া।
এ মামলায় সহায়তাকারী বাংলাদেশের আইনজীবী এ্যাডভোকেট এসএম আব্রাহাম লিংকন বলেন, বিচারের রায় বিলম্বিত করা হতাশা ব্যঞ্জক। বিলম্বিত বিচার ন্যায় বিচার প্রাপ্তির প্রধান অন্তরায়। শুধুমাত্র আসামির অসুস্থ্যতার কারণ দেখিয়ে এর আগে ৪ মাস আদালতের কার্যক্রম পেছান হয়। এখন আবার আইনজীবী অসুস্থ। তাই তিন মাস আদালত মুলতবি। এটা দুঃখজনক। তবে আদালতের যুক্তিযুক্ত কারণ থাকলে ভিন্ন কথা।  তিনি আরো বলেন, ভারত সরকার পুন:বিচার কার্যক্রম শুরু করেই স্বীকার করে নিয়েছে প্রথম দফায় অনুষ্ঠিত ফেলানী হত্যার রায় সঠিক হয়নি। সে রায়ে অবিচার সাধিত হয়েছিল। পুন:বিচার ফেলানীর পরিবার তথা বাংলাদেশ নাগরিকের হত্যার ন্যায় বিচার পাবার পথ প্রশস্ত করেছে। কারণ ইতিপূর্বে দেয়া তথ্য উপাত্ত্ব এবং সাক্ষ্য সব কিছুই ন্যায় বিচার পাবার অনুকুলে। বিএসএফের হাবিলদার অমিয় ঘোষ আত্মস্বীকৃত খুনি।
এর আগে গত বছর ২০ নভেম্বর ভারতের কোচবিহারে বিএসএফ সেক্টর সদর দফতরে স্থাপিত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টে ফেলানী হত্যার পূণর্বিচার কার্যক্রম চলতি বছরের ২৪ মার্চ পর্যন্ত মূলতবি করে। এপর গত ২৬ মার্চ মুলতবি করা হয় ৩০জুন পর্যন্ত। তারপরও রায় ঘোষিত হবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। যুগান্তরএ খবর দিয়েছে।
যা ঘটেছিল
২০১১ সালের ৭ জানুয়ারী কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে বিএসএফ-র হাতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় বাংলাদেশী মেয়ে ফেলানী। দেশী-বিদেশী গণমাধ্যমসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর চাপের মুখে দীর্ঘ আড়াই বছর পর ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ফেলানী হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয়। কোচবিহারে বিএসএফ-র সদর দফতরে স্থাপিত বিশেষ আদালতে। ঐ বছরের ১৮ আগস্ট ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম ও মামা হানিফ সাক্ষ্য দিয়ে ফিরে আসেন ২০ আগস্ট। একই বছর ৬ সেপ্টেম্বর  বিএসএফ-র বিশেষ আদালত আসামি অমীয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেন। ন্যায় বিচার পেতে ফেলানীর বাবা ১১ সেপ্টেম্বর ভারতীয় হাই কমিশনারের নিকট আবেদন করেন। এরই প্রেক্ষিতে ১৩ সেপ্টেম্বর বিএসএফ রিভিশন ট্রায়াল করার ঘোষণা দেন। ঘোষণার এক বছর পর গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর পূর্ণবিচারিক কার্যক্রম শুরু করে বিশেষ আদালত। সাক্ষী ছাড়াই ৩ দিন আদালত চলে। ২৬ সেপ্টেম্বরে পূণরায় সাক্ষ্য প্রদানের জন্য ডাক পরে ফেলানীর বাবা ও মামার। হঠাৎ করে ৩ দিনের জন্য আদালত মুলতবি হওয়ায় মাঝ পথ থেকে ফেরত আসতে হয় তাদের। এরপর শুধুমাত্র ফেলানীর বাবা পূণরায় সাক্ষ্য প্রদানের জন্য ১৬ অক্টোবর গিয়ে সাক্ষি শেষে দেশে ফেরেন ১৭ অক্টোবর। ফেলানী হত্যার মামলার রায় শোনার জন্য সারা বিশ্ব যখন তাকিয়ে ভারতের দিকে ঠিক তখনি বিশেষ আদালত ২০ অক্টোবর আসামি অমীয় ঘোষ অসুস্থতার কারণে চলতি বছরের ২৪ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করে। মুলতবি শেষে ২৫ মার্চ সকাল ১০টায় ভারতের কোচবিহারে বিএসএফ সেক্টর সদর দফতরে স্থাপিত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স আদালতে ফেলানী হত্যার পূণর্বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। এবার ৫ সদস্যের বিচারক উপস্থিত থাকলেও অসুস্থতার কারনে উপস্থিত হতে পারেনি ভারতের সরকারি আইনজীবী। এ কারনে আদালতের কার্যক্রম স্থগিত করে পরেরদিন ২৬ মার্চ আদালত বসার দিন ধার্য করে। কিন্তু একই কারনে ওই দিন আদালতের কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি বিচারক ।  এ জন্য আদালত ২৯ জুন পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রম মুলতবি ঘোষণা করেন।