Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ৮:০৯ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২০শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে বাবার সঙ্গে সীমান্ত পেরোনোর সময়ে গুলিবিদ্ধ হন ফেলানি। দীর্ঘক্ষণ তাঁর মৃতদেহ কাঁটাতারেই ঝুলে ছিল

ফেলানীর জীবনের মূল্য ৫ লাখ রুপি?

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাবিলদার অমিয় ঘোষের গুলিতে নিহত বাংলাদেশী কিশোরী ফেলানী হত্যার ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫লাখ রুপি দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ভারতের মানবাধিকার কমিশন সোমবার এ ক্ষতিপূরণের অর্থ দেয়ার নির্দেশ দেন। বাংলাদেশস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে আলোচিত ফেলানীর পরিবারকে এ অর্থ প্রদানে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দেয়া হয়।
বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কর্মকর্তা জাহিদ হোসেনের বরাত দিয়ে ফেলানী হত্যা মামলার  আইনজীবী ও কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এস এম আব্রাহাম লিংকন জানান, ভারতীয় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নিজস্ব উদ্যোগে তাদের ফুল বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে ফেলানী হত্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ৫ লাখ রুপি বাংলাদেশের ভারতীয় হাই কমিশনের মাধ্যমে প্রদানের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যদিয়ে একটি সত্য প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হল যে, ভারতীয় বিএসএফ কতৃক ফেলানী হত্যার শিকার হয়েছে। যার কারণে ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আর্থিক ক্ষতিপুরণের নির্দেশ তারা দিয়েছে।
একইসথে এর ভিতর দিয়ে আসামির উপর ফৌজদারি দায় যে যুক্তিগ্রাহ্য তা নতুন করে প্রমাণিত হল। আসামি অমিয় ঘোষের কৃতকর্ম যে ফৌজদারী অপরাধ বিচার্য তা অফিসিয়ালি স্বীকৃতি লাভ করল। এখন আমরা আশা করি আসামি অমিয় ঘোষের প্রকৃত বিচারে সাজা এবং যে ৫ লাখ রুপি ক্ষতিপুরণ দেয়া হয়েছে তা নামমাত্র। ঘোষিত আর্থিক ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বৃদ্ধি করা যুক্তিযুক্ত বলে তিনি মনে করেন।
এ ব্যাপারে ফেলানীর মা জাহানারা বেগমের প্রতিক্রিয়া মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। আবেগ আপ্লুত কন্ঠে বলেন, টাকা পয়সা চাই না। আগে বিচার চাই। ফাঁসি চাই। আমার মেয়েকে যেভাবে অমিয় ঘোষ গুলি করে হত্যা করেছে, তেমন কঠোর সাজা চাই। অমিয় ঘোষকে গুলি করে এ রায় কার্যকর করার দাবি আমার। তাহলে অমিয় ঘোষের পরিবার বুঝবে মায়ের বুক খালি করার কষ্ট কেমন? প্রায় ৫ বছর থেকে অপেক্ষা করছি ফেলানী হত্যার বিচারের জন্য। কবে ন্যায় বিচার পাব জানি না।
ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম নুরু বলেন, টাকা দিয়ে মেয়েকে ফিরে পাব না। কাজেই আগে মেয়ে হত্যার বিচার চাই। খুনি অমিয় ঘোষের মৃত্যুদণ্ড চাই। হত্যার বিচার টাকা দিয়ে হয় না। আমিও ক্ষতি পূরণের দাবি করেছি তবে আগে ফেলানী হত্যার বিচার হতে হবে। বাবা হিসাবে মেয়ে হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই। এর চেয়ে বড় চাওয়া নেই।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ফেলানী খাতুনকে বাংলাদেশ ভারত সীমান্তের আর্ন্তজাতিক সীমানা পিলার নং ৯৪৭ এর কাছে বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হয়। এ ঘটনার পর বিএসএফ তার আদালতে বিএসএফ সদস্য অমিও ঘোষকে অভিযুক্ত করে একটি অভিযোগ গঠন করে। ২ বছর ৮মাস পর ২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে নির্দোষ রায় দেন বিএসএফের আদালত। সেই রায় যর্থাথ মনে করেনি বিএসএফ মহাপরিচালক। তিনি রায় পুর্নবিবেচনার আদেশ দিয়েছিলেন। এরপর ২ জুলাই ২০১৫ বিএসএফ কোর্ট অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে নির্দোষ বলে পুনরায় রায় দেন। এ রায়ে হতবম্ভ হয়ে পরেন ফেলানীর বাবা। বিএসএফ অমিয় ঘোষ ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করার কথা আদালতে স্বীকার করে। তারপরও নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় সবাই বিস্মিত ও মর্মাহত হয়। এ ব্যাপারে  ভারতীয় মানবাধিকার সংস্থা মাসুমকে উচ্চ আদালতে মামলাসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন করার অনুরোধ করেন ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম নুরু। ভারতের মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম) ভারতের সুপ্রীম কোর্টে গত ১৪ জুলাই একটি রিট মামলা দায়ের করে। ২৬ আগস্ট ভারতের দিল্লীর সুপ্রিম কোর্ট এ মামলা শুনানির জন্য আগামী ৬ অক্টোবর তারিখ নির্ধারন করে। এরই মধ্যে ভারতীয় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নিজস্ব উদ্যোগে তাদের ফুল বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে ফেলানী হত্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ৫ লাখ রুপি বাংলাদেশস্থ ভারতীয় হাই কমিশনের মাধ্যমে প্রদানের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে।