Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১১:১৭ ঢাকা, শুক্রবার  ১৬ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

“ফাঁসির রশি প্রস্তুত আছে”

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, গুপ্তহত্যাকারীদের ধরতে ও জনগণের নিরাপত্তা বিধানে সরকার ২৪ ঘন্টা অতন্দ্র প্রহরীর মতো জেগে রয়েছে।
আর জেগে আছে বলেই আগুনযুদ্ধ, হেফাজতে ইসলামের অবরোধ, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন পুর্বাপর সহিংসতা সরকার সাফল্যের সাথে দমন করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গুপ্তহত্যাকারীদের কেউই রেহাই পাবেনা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেক হত্যাকারীর জন্য একটি করে ফাঁসির রশি প্রস্তুত রয়েছে’।

হাসানুল হক ইনু আজ সোমবার দুপুর ১২টায় সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন।

দেশে গুপ্তহত্যা ও জঙ্গি হামলা বন্ধে সরকারের গৃহীত কার্যকর পদক্ষেপ সম্পর্কে পরিস্কার ধারনা দেওয়ার জন্যই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

দুই পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন,গত বছর ব্ল¬গার-প্রকাশক-শিক্ষক-ধর্মগুরু-সমাজকর্মী-চাকুরীজীবিদের ওপর জঙ্গি আক্রমণ ও গুপ্তহত্যার ঘটনায় পঞ্চাশ জনের অধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এছাড়াও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলায় অপরাধীদের মৃত্যুদন্ডসহ সাজা হয়েছে।

জঙ্গি-বিরোধী বিশেষ অভিযানে পুলিশের হাতে গত দু’দিনে ৫৩২৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছে উল্লেখ করে হাসানুল হক ইনু বলেন,এদের মধ্যে ৮৫ জনকে পুলিশ জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করেছে ।

তথ্যমন্ত্রী বলেন,‘আমরা যদি অতীতের দিকে তাকাই, তাহলেও দেখি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার অতীতের হত্যা, নাশকতা, অন্তর্ঘাত, রেললাইন উপড়ে ফেলাও বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে।’ তিনি বরেন,গত বছর বেগম খালেদা জিয়ার সশস্ত্র নেতৃত্বে বিএনপি-জামাত পরিচালিত ৯৩ দিনের আগুনযুদ্ধে ১৩৭ জনের প্রাণহানির ঘটনা ও হাজার-হাজার কোটি টাকার সম্পদহানিতে গ্রেপ্তারকৃত প্রায় দেড় হাজার জনের মধ্যে সন্ত্রাসে লিপ্ত থাকা অবস্থায় হাতেনাতে গ্রেপ্তারকৃতদের প্রায় ছয়শত জনকে সরাসরি বিএনপি-জামাতের কর্মী বলে চিহ্নিত করে পুলিশ।

এর আগে হেফাজতের ইসলামের অবরোধ এবং তার আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এবং পরে বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে দেশব্যাপী জ্বালাও-পোড়াও-ষড়যন্ত্র সরকার শক্ত হাতে মোকাবিলা করেছে বলে হাসানুল হক ইনু উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন,‘দেশের নিকট অতীতের রাজনৈতিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ক্ষমতা থাকা বা না থাকা-যেকোন অবস্থাতেই বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপি-জামাত জঙ্গি ও সন্ত্রাসকে লালন করেন। ক্ষমতায় থাকাকালে জঙ্গি-সন্ত্রাস-গুপ্তহত্যাকে ভিন্নমত দমন আর ক্ষমতার বাইরে থাকা অবস্থায় পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার জন্য জঙ্গি সন্ত্রাসকে পৃষ্ঠপোষকতা দেন তিনি।

গুপ্তহত্যা-জঙ্গি আক্রমণের বিষয়ে কৌশলগত নিরবতা পালনের মাধ্যমে খালেদা জিয়া প্রত্যক্ষভাবে জঙ্গিবাদের যে পৃষ্ঠপোষকতা করে চলেছেন, তা নজিরবিহীন এবং ক্ষমার অযোগ্য।’

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া মিথ্যা ও দোষারোপের রাজনীতির মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে ও বিএনপি-জামাতের হত্যা-খুন-নাশকতা-অন্তর্ঘাতের রাজনীতিকে আড়াল করার অপচেষ্টায় রত ।

দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্রই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সফল হতে দেবে না উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন,‘আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই,সরকার দোষারোপের রাজনীতি করে না। বরং জঙ্গি-সন্ত্রাস-গুপ্তহত্যা দমনে সরকার বদ্ধপরিকর। এবং এর সঙ্গে বিএনপি-জামাতের অনেকের জড়িত থাকার প্রমাণ সরকারের হাতে রয়েছে। তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই কাজ করে সরকার, অহেতুক দোষারোপ করে না, ব্লেম-গেম খেলে না। খালেদা জিয়াই নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে দোষারোপের রাজনীতি করছেন, ব্লেম-গেম খেলছেন।’

তিনি বলেন,‘আগুনযুদ্ধে পরাজিত হবার পর বেগম খালেদা জিয়ার দেশকে অস্থিতিশীল করার নতুন কৌশল হচ্ছে গুপ্ত হত্যা। জঙ্গিবাদকে রক্ষা করে তিনি (খালেদা) আজ জঙ্গিবাদের পাহারাদার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।’

হাসানুল হক ইনু বলেন,‘বেগম জিয়ার প্রতি আমার এখনও অনুরোধ,জঙ্গিবাদের সঙ্গ ত্যাগ করুন, জনগণের কাছে আত্ম-সমর্পণ করুন।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন,‘আমি দেশবাসীকে জানাতে চাই, আপনারা জেনে রাখুন,অতীতে বিএনপি-জামাত-হেফাজতসহ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর জঙ্গিসন্ত্রাসী তান্ডব সফলভাবে দমন করেছে সরকার। সুতরাং সাম্প্রতিক গুপ্তহত্যাও সরকার সফলভাবে দমন করবে।’

এজন্য তিনি জনগণকে ধৈর্য্য ধরার আহবান জানিয়ে সকল ক্ষেত্রে তাদেও সহযোগিতা চেয়েছেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পার্লামেন্টের একটি মন্তব্য সম্পর্কে হাসানুল হক ইনু বরেন,‘এটি আমাদের নির্বাচিত সরকার ও সংসদের প্রতি সম্মানজনক নয় এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল বলে আমি মনে করি।’

তিনি বরেন, প্রকৃত গণতান্ত্রিক শক্তির সাথে সংলাপ চলে, কিন্তু গণতন্ত্রের মুখোশপরা-জঙ্গিবাদী-মৌলবাদী-উগ্রবাদী শক্তির পৃষ্ঠপোষকদের সাথে সংলাপ কোন সুফল বয়ে আনে না, তাদের স্বীকৃতি ও উৎসাহ দেয়া ছাড়া। তাই অগণতান্ত্রিক জঙ্গিবাদী-সন্ত্রাসী ও তাদের দোসরদের সাথে কোনো আলোচনা নয়, প্রয়োজন তাদের বিচার ও যথাযোগ্য শাস্তি।