Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ৮:১৬ ঢাকা, বুধবার  ১৪ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

ফাঁসির আদেশ বাতিল চেয়ে নিজামীর আপিলের রায় ৬ জানুয়ারি

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর আপিলের রায় ৬ জানুয়ারি ঘোষণা করা হবে।
দুই পক্ষের শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ মঙ্গলবার রায়ের ওই দিন ধার্য করে।
বুদ্ধিজীবী হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, সম্পত্তি ধ্বংস, দেশত্যাগে বাধ্য করা, আটক ও নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র ও সংঘটনে সহযোগিতার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় গত ২৯ অক্টোবর নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল।
রাষ্ট্রপক্ষের পাল্টা যুক্তি উপস্থাপনে শেষ হয় নিজামীর আপিল শুনানি। আদালতে নিজামীর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন তার প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহাবুবে আলম।
নিজামীর পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে তার প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে জানান, ‘আমরা যেসব প্রমাণ ও যুক্তি আদালতে উপস্থাপন করেছি আশা করি মতিউর রহমান নিজামী খালাস পাবেন।’
‘তারপরও আদালত যদি আমাদের সেই যুক্তিতর্ক ও প্রমাণ আমলে না নেন, তাহলে আসামির বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা দেখে তার সর্বোচ্চ শাস্তি কমানোর বিষয়টি যাতে বিবেচনা করেন আমরা তাই কামনা করি’ যোগ করেন তিনি।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা শাস্তি কমানোর বিষয়টি আদালতের দৃষ্টিতে আনার মধ্য দিয়ে এই প্রথম কোনো মানবতাবিরোধীর অপরাধের দায় স্বীকার করে নিয়েছেন বলে আমরা মনে করি।
তবে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি আপিলেও বহাল থাকবে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির নিজামী একাত্তরে ছিলেন দলটির ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের নাজিমে আলা বা সভাপতি এবং সেই সূত্রে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য গঠিত আল বদর বাহিনীর প্রধান।
স্বাধীনতাকামী বাঙালির ওপর দমন-পীড়ন চালাতে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য গঠিত রাজাকার বাহিনী ও শান্তি কমিটিতেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে ট্রাইব্যুনালের রায়ে উঠে আসে।
গত ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মতিউর রহমান নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে একই বছরের ২৩ নভেম্বর সুপ্রিমকোর্টে আপিল করেন জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী। ৬ হাজার ২৫২ পৃষ্ঠার আপিলে ফাঁসির আদেশ বাতিল করে খালাস চেয়েছেন নিজামী।