ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ২:৩৪ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘পোল্যান্ড সফরের’ কি কারণ?

জার্মানির শহর হ্যামবুর্গে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তবে জার্মানিতে যাবার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পোল্যান্ডে সংক্ষিপ্ত সফরে গেছেন । রাজধানী ওয়ারস’তে আজ এক ভাষণও দেবেন মি: ট্রাম্প।

পোল্যান্ডের রক্ষণশীল সরকারের সাথে দেখা করা ট্রাম্পের জন্য কেন বা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা নিয়ে মার্কিন কূটনীতিক ও বিশ্লেষকেরা নানা মতামতও তুলে ধরছেন।

পোল্যান্ডের ক্ষমতাসীন ল এন্ড জাস্টিস পার্টির প্রধান জ্যারোস্লো ক্যাকজিয়ানস্কি বলছেন, ইউরোপের অনেক দেশ বিশেষ করে ব্রিটেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন সফরকে সহজভাবে দেখছেন না।

কেন পোল্যান্ডেই প্রথম গেলেন ট্রাম্প?

১. উষ্ণ অভ্যর্থনা

পোল্যান্ডে যে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বন্ধুত্বপূর্ণ উষ্ণ অভ্যর্থনা দেয়া হবে সেটা আগে থেকেই বুঝা যাচ্ছিল। মাসখানেক আগে মি: ট্রাম্পের এই সফরসূচি প্রকাশ করে হোয়াইট হাউস। তখন থেকেইপোলান্ডের ক্ষমতাসীন ল’ অ্যান্ড জাস্টিস পার্টিতে সাজ সাজ রব উঠেছে।

অন্যদিকে হ্যামবুর্গের কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে জি-২০ সম্মেলনের ভবনের বাইরে অন্তত এক লাখ বিক্ষোভকারী জমা হবে। খুব তাড়াতাড়ি ব্রিটেন সফরে যাবেন ট্রাম্প এবং সেখানেও বিক্ষোভের মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে।

কিন্তু পোল্যান্ডে হোয়াইট হাউজ খুব স্বাভাবিকভাবেই নি:শ্বাস নিতে পারবে।

১৯৪৪ সালে নাৎসি দখলদারদের বিরুদ্ধে ওয়ারশ বিদ্রোহে প্রায় ২ লাখ পোলিশ নাগরিককে জীবন দিতে হয়েছিল। ক্রাসিনস্কি স্কয়ারে তাদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধের সামনে আজই বক্তব্য রাখবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এ কারণে সাজানো হয়েছে ওই এলাকা।

স্থানীয় একটি পত্রিকায় বলা হয়েছেবাসে করে সংসদের সদস্যদের ক্রাসিনস্কি স্কয়ারে নিয়ে যাওয়া হবে, কারণ পোল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ চায় মি: ট্রাম্পের ভাষণের সময় যেন আশেপাশে যেন হাজার হাজার মানুষের ভিড় থাকে ও পরিবেশটাও যেন হয় বন্ধুসুলভ।

তবে বাস নিয়ে এমন ভিড় করার বিষয় নিয়ে সমালোচনাও হচ্ছে। অনেকে মনে করছেন এটা একেবারেই অপ্রয়োজনীয়।

“বিরাট কোনো ভুল না করে থাকলে প্রত্যেক আমেরিকান প্রেসিডেন্টই অনেক জনপ্রিয় ও এখানে আসলে তারা উষ্ণ অভ্যর্থনা পাবে যা খুব স্বাভাবিক”-বলছিলেন ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্সের অধ্যাপক পোলিশ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ আলেক্স স্কেজেরবিয়াক।

২. একই পথের পথিক

বিশ্লেষকেরা অনেক ক্ষেত্রে পোল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রকে একই পথের পথিক হিসেবে মনে করছেন।

দুদেশের প্রধানই প্রথমে জাতীয় স্বার্থের বিষয়টা দেখে ও সে বিষয়েই সরাসরি কথা বলে। জলবায়ু পরিবর্তন বা অভিবাসন দুই ক্ষেত্রেই এখন পোল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের অবস্থান এক।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের চাপ থাকা সত্ত্বেও অভিবাসন ঠেকাতে মরিয়া পোল্যান্ডের রক্ষণশীল সরকার।

কিছুদিন আগে পোলিশ প্রেসিডেন্ট মি: ক্যাজনিয়াস্কি বলেছিলেন যেসব অভিবাসীরা ইউরোপে যাচ্ছে তারা বিপজ্জনক রোগ বহন করছে।
অভিবাসন নিয়ে সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা নিয়েও মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রশ্ন তুলেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন ট্রাম্পের এই সফর দুই দেশের জন্যই লাভজনক। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সফরের মাধ্যমে পোল্যান্ডের মর্যাদা বাড়ছে। যদিও সমালোচকেরা বলছেন ট্রাম্পকে সমর্থন দিয়ে ইউরোপ থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করছে পোল্যান্ড সরকার।

ইউরোপের একটি বড় দেশে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেতে যাচ্ছেন ট্রাম্প যে দেশের সরকার তারই মতো মতাদর্শ শেয়ার করে।

৩. সামরিক খাতে খরচ করো, তুমিও পাবে

প্রতিরক্ষা খাতে সম্প্রতি নিজেদের জিডিপির ২ শতাংশ ব্যয় করতে রাজি হয়েছে পোলান্ড। মে মাসের শেষে নেটোর বকে বৈঠেকে মি: ট্রাম্প নেটোর সামরিক খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির কথাই বলেছিলেন।

ধারণা করা হচ্ছে আজকের ভাষণে তিনি পোল্যান্ডের প্রশংসা করবেন।

পোল্যান্ডে বর্তমানে ৯০০ মার্কিন সেনা অবস্থান করছে।

৪. ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে তিরস্কার?

পোল্যান্ড সফরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘থ্রি-সি সামিট’ তিনটি সমুদ্রের সম্মেলনের কথা বলবেন, বাল্টিক, আদ্রিয়াটিক ও কৃষ্ণ সাগরের মধ্যেকার বারোটি জাতিকে একত্রিত করবে পোলিশ ও ক্রোয়েশিয়ান উদ্যোগের একটি অংশ এটি।

মি: ট্রাম্প এই উদ্যোগকে প্রশংসার চোখেই দেখছেন যেখানে ইউরোপিয় অনেক কূটনীতিক এই পরিকল্পনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

অধ্যাপক স্কেজেরবিয়াক বলছেন, “যুক্তরাষ্ট্র আবারো দেখাতে চাইছে যে ইউরোপিয়ান এলিটদের সঙ্গে তারা ঘনিষ্ঠ হতে চায় না এবং যুক্তরাষ্ট্র এতে খুশি”।

৫. গ্যাস বাণিজ্য

গ্যাসের জন্য রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল পোল্যান্ড। পোলিশ সরকার চেষ্টা করছে এই নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে এবং গত মাসে প্রথমবারের মতো মার্কিন ন্যাচারাল গ্যাসের একটি সরবরাহ দেশটিতে এসেছে।

ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও এটা একটা বিজয়। পোল্যান্ড এবং অন্যান্য পূর্ব-ইউরোপিয় দেশগুলোতে শক্তি বা গ্যাসের যে উৎস রয়েছে তাতে পরিবর্তন বা বৈচিত্যা আনার কৌশলও আছে তাদের। অন্যদিকে হোয়াইট হাউজ চায় তার দেশের গ্যাস বিশ্বজুড়ে বিক্রি করতে।

‘থ্রি-সি সামিট’ বা ত্রি-সমুদ্র সম্মেলনে এই বিষয়টিও তুলে ধরবেন মি: ট্রাম্প। - বিবিসি