Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৬:৫০ ঢাকা, সোমবার  ১০ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং

প্রস্তুত বাংলাদেশঃ ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন দিগন্তের সূচনার অপেক্ষা

টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়াজুড়ে বাংলাওয়াশের প্রতীক্ষা। সেখানে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারীজুড়ে হাহাকার। গেল বুঝি এবার ভারতকুলের সবই গেল। বাংলাদেশ যখন রঙিন ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে। সেখানে ইতিহাসের নীল বিষ থেকে বাঁচতে মরিয়া ভারত। আজ জিতলেই হোয়াইটওয়াশ করে মাশরাফি বাহিনী নিজের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বিকাল তিনটা বাজতে খুব একটা দেরি নেই। ভারতের অন্তরাত্মা কাঁপিয়ে দিতে প্রস্তুত টাইগারভক্তকুল। গ্যালারিজুড়ে যখন ‘মওকা মওকা’ চিৎকারে ভারি হয়ে উঠবে, তখন ধোনির দল মুস্তাফিজ নামের নীরব ঘাতককে ঠেকাতে ব্যস্ত হবে। এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জিতে নিয়েছে টাইগাররা। কিন্তু তৃতীয় ম্যাচের আগে সেটি ভুলে যেতে বলেছেন অধিনায়ক মাশরাফি। ডেসিং রুমে নাসির হোসেন অধিনায়কের মন্ত্র নিয়ে বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছে এ ম্যাচটিকে নতুনভাবে নেয়ার জন্য। জয়ই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। কোন ছাড় দিয়ে যেন না খেলি সেটি বলা হয়েছে।’ নাসিরের কথায় ভারত দলের জন্য স্পষ্ট বার্তা। ১৮তম সিরিজ জয়ের পর এবার ১১তম হোয়াইটওয়াশের পালা। পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে যে অর্জনের দরজা উন্মুক্ত হয়েছিল, তা পূর্ণতার পথে। বাংলাদেশ গতকাল যখন অনুশীলন করছিল, তখনও তাদের শরীরী ভাষায় ছিল সেই পূর্ণতার পথে হাঁটা।
ভারতকে পরপর দুই ম্যাচ হারিয়ে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নিশ্চিত হয়েছে। ঘরের মাঠে টানা ১০ ম্যাচ জিতে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ অফ্রিকার রেকর্ড ছোঁয়াও হয়েছে। আজ সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এত গেল দলীয় অর্জনের হিসেবে। ব্যক্তিগত অর্জনের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন মুস্তাফিজুর রহমান ও সাকিব আল হাসান। পরপর দুই ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে রেকর্ডের খাতায় নাম লিখিয়েছেন বাঁহাতি তরুণ এ পেসার। আজ তৃতীয় ম্যাচ খেলার সুযোগ হলে যদি পাঁচ উইকেট পেয়ে যান, তাহলে ওয়াকার ইউনুসের রেকর্ডটিও তার দখলে চলে যাবে। কিন্তু ভারতের অফস্পিনার অশ্বিন বলেছেন অন্য কথা। তিনি বলেন, ‘অজান্তা মেন্ডিসের যখন অভিষেক হয়েছিল সেও হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সব ঠিক হয়ে এসেছে।’ এর মানে মুস্তাফিজও যে খুব বেশিদিন কার্যকর হবে না তারই ইঙ্গিত করেছেন। এখন সেটিই দেখার পালা। এ নীরব ঘাতক বিশ্বক্রিকেটে তার কাটার, স্লোয়ারে কত বিষ ছড়িয়ে দিতে পারেন। অন্যদিকে সাকিব আজ ৩টি উইকেট পেলেই দেশের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে ওয়ানডে ২০০ উইকেটের মালিক হবেন।
ভারত দল অনুশীলনজুড়ে মন দিয়েছে ব্যাটিং নিয়ে। আজ দলে পরিবর্তন হবে তাদের, সেটিও বলার অপেক্ষা রাখে না। শেষ অস্ত্র হিসেবে আজ বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারত খেলাতে পারে গত বছর ৪ রানে ৬ উইকেট পাওয়া স্টুয়ার্ট বিনিকে। আর দ্বিতীয় ম্যাচে না খেলা আজিঙ্কা রাহানেও আজ খেলতে পারেন।
কিন্তু ভারতের মূল চিন্তার বিষয় আজ বাংলাদেশ দল নিয়ে। কোন পরিবর্তন আসছে কি? শেষ মুহূর্তে বাংলদেশ ওয়ানডে স্কোয়াডে যোগ করা হয়েছে দেশের একমাত্র লেগ স্পিনার জুবায়ের হোসেন লিখনকে। একে নিয়ে আরও একবার ভাবতেই হবে ভারত অধিনায়ককে। পেসাররা খুব একটা অনুশীলন করেননি। তিন পেসার রুবেল, অধিনায়ক মাশরাফি ও মুস্তাফিজ বল করে কিছুটা সময় কাটিয়েছেন। তাসকিনকে বল করতে দেখা যায়নি। অন্যদিকে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং-ভরসা মুশফিক, সাকিব, সৌম্য, সাব্বির, নাসির ইনডোরে ব্যাটিং অনুশীলনটা সেরেছেন। শুধু ব্যতিক্রম ছিলেন তামিম ইকবাল। সবার পর ব্যাট হাতে ড্রেসিং রুমের সামনে শুরু করেন অনুশীলন। সঙ্গী আর কেউ নন- ক্রিকেটারদের সহকারী নাসির। বল আসছে আর তামিম তা স্টেডিয়ামের দেয়ালের দিকে ক্রমাগত মেরে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে দেশের হয়ে সবার আগে ব্যাট হাতে ৪৫০০ রান তুলে নিয়েছেন। এখন লক্ষ্য এগিয়ে যাওয়ার। ওপেনিংয়ে তার সঙ্গে তরুণ সৌম্য যেভাবে খেলছেন, তা ভারতই নয়, বাকি সব দলকেই ভাবতে হবে। লিটন দাস প্রথম ম্যাচে না পারলেও পরের ম্যাচে ৩৭ রান করেছেন। উইকেটের পেছনে মুশফিকের দায়িত্ব ভালভাবে সামলেছেন। গতকালও দীর্ঘক্ষণ তাকে দেখা গেল কিপিংয়ের অনুশীলন করতে। মুশফিক আর সাকিব তো খেলবেনই, সাব্বির ও নাসিরকেও বাদ দেয়ার কিছু নেই। কিন্তু পরিবর্তনটা হবে চার পেসার তত্ত্বের? দুই ম্যাচেই ভারতের বিপক্ষে সফল এ অস্ত্র। তবে হয়তো আজ অন্য কোন অস্ত্র না নিয়ে ভারতকে চমকে দিতে পারে বাংলাদেশ- এমনই ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ দলের প্রতিটি সদস্য যখন ড্রেসিং রুম থেকে অনুশীলনে যাওয়-আসা করছিলেন, তখন তাদের মাথা উঁচুতেই ছিল। হয়তো কলারটাও উঁচু করে হাঁটছিলেন। সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কোন ঔদ্ধ্যত ছিল না। ছিল আত্মপ্রত্যয় ও আত্মবিশ্বাস, কিছু করে দেখানোর।
ভারত দলের অধিনায়ক গতকাল সংবাদ সম্মেলনে আসেননি। কিন্তু তাকে নিয়ে ভারতজুড়ে শঙ্কা! সিরিজ হারের পর অভিমানে বলেছিলেন, ‘আমাকে দল থেকে সরিয়ে দিলে যদি এ সমস্যার সমাধান হয়, তাহলে সরিয়ে দিন।’ ভয় হচ্ছে আজ বাংলাওয়াশ হলে তিনি হয়তো বলে দিতে পারেন- ‘পদত্যাগ করলাম।’ তবে ধোনি পদত্যাগ করুক আর নাই করুক বাংলাদেশ আজ প্রস্তুত বাংলাওয়াশের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে।